• সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৪, ১৬ বৈশাখ ১৪৩১
  • ||
শিরোনাম

বিটিআরসির চিঠি

১০ নভেম্বরের মধ্যে কমাতে হবে ইন্টারনেট প্যাকেজের দাম

প্রকাশ:  ০৭ নভেম্বর ২০২৩, ২৩:৪৮ | আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৩, ০০:৩৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইন্টারনেট প্যাকেজের দাম কমাতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের চিঠি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তিন দিনের প্যাকেজের যে দাম ছিলো, সেই দামেই সাত দিনের মেয়াদ দিতে হবে। সিদ্ধান্তটি ১০ নভেম্বর রাত ১২টার মধ্যে কার্যকর করার নির্দেশও দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম রেজাউর রহমান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ কথা বলা হয়। এ সংক্রান্ত চিঠি অপারেটরদের পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, নতুনভাবে প্রচলন করা বিভিন্ন মেয়াদের ইন্টারনেট প্যাকেজের দাম গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ, হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র জানায়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের আগ্রহে এবং বিটিআরসির নির্দেশে অপারেটরগুলো গত ১৫ অক্টোবর ৩ ও ১৫ দিনের মেয়াদের ইন্টারনেট প্যাকেজ বাদ দিয়ে দেয়। ফলে রয়ে যায় শুধু ৭, ৩০ ও অনির্দিষ্ট মেয়াদের ইন্টারনেট প্যাকেজ। এরপর অপারেটরগুলো নতুন যে প্যাকেজ আনে, তাতে দেখা যায়, মানুষের ব্যয় বেড়ে গেছে।

অপারেটরগুলো আগে থেকেই বলছিলো, ৬৯ শতাংশ গ্রাহক তিন দিনের ইন্টারনেট প্যাকেজ ব্যবহার করেন। এটা বন্ধ করলে ইন্টারনেটের দাম ও গ্রাহকের ব্যয় বাড়বে। বিপরীতে বিটিআরসির যুক্তি ছিলো, ইন্টারনেটের অনেক প্যাকেজের কারণে গ্রাহক বিভ্রান্ত হন।

ইন্টারনেট প্যাকেজের দাম বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ৫ নভেম্বর বিটিআরসির কার্যালয়ে টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সভাপতিত্বে একটি সভা হয়। বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং মোবাইল অপারেটরদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, এতে মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার দাম বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ইন্টারনেটের দাম বাড়ুক, সেটা তিনি চান না।

বিটিআরসি ও অপারেটর সূত্র জানায়, নির্বাচনের পর দাম বাড়ানো হলে সে ক্ষেত্রে নমনীয় মনোভাব দেখানো হবে।

আজ যে চিঠি দেওয়া হয়, তাতে তিন দিন মেয়াদের ইন্টারনেট প্যাকেজের দাম ও পরিমাণ (ভলিউম) অপরিবর্তিত রেখে শুধু মেয়াদ বাড়িয়ে ৭ দিন করার কথা বলা হয়। অর্থাৎ মেয়াদ বাড়ানো হলেও প্যাকেজের দাম বাড়ানো যাবে না। ৩০ দিন ও অনির্দিষ্ট মেয়াদের প্যাকেজের দামও বাড়ানো যাবে না।

তিন দিনের প্যাকেজ বন্ধ করায় অপারেটররা অসন্তুষ্ট। তারা নানাভাবে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা করার চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু তাতে সাড়া পাওয়া যায়নি।

অপারেটরদের পক্ষ থেকে এও বলা হয়েছিলো, এখন মূল্যস্ফীতি অত্যন্ত বেশি। এ সময়ে তিন দিনের প্যাকেজ বন্ধ হলে ইন্টারনেটের পেছনে মানুষের বাড়তি ব্যয় করতে হবে। বরং সিদ্ধান্তটি মূল্যস্ফীতি কমার পর নেওয়া যেতে পারে। সরকার অবশ্য তাতে কান দেয়নি।

মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব বলেছে, প্যাকেজ কমানো হলে দাম বাড়ার আশঙ্কার কথা বারবার বলা হয়েছিলো। প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতির কারণেই তা হওয়ার কথা। বলা বাহুল্য, পদ্ধতিগত কারণে অপারেটররা যেকোনো নতুন ‘ট্যারিফ’ (মূল্যহার) গ্রাহকদের দেওয়ার আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নেয়। তাই মোবাইল অপারেটররা সরকারকে সহযোগিতা করছে না, এ ধরনের কোনো ইঙ্গিত প্রকাশ করা সঠিক হবে না।

অ্যামটব আরো বলেছে, প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অধিকতর হস্তক্ষেপ হিতে বিপরীত হবে বলে আমরা মনে করি।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

বিটিআরসি,চিঠি,দাম,প্যাকেজ,ইন্টারনেট
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close