• শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
  • ||
শিরোনাম

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন: আর কত মরলে তবে…

প্রকাশ:  ২০ মার্চ ২০২৪, ১৭:০৮
হাসান শাওন

এ রক্তনদী অনন্ত গভীর। বলা হচ্ছে, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি আগ্রাসনে প্রাণহানি প্রসঙ্গে।

সম্প্রতি ইসরায়েলের সঙ্গে এক ধরনের আপসে পৌঁছায় পবিত্র কাবা শরিফের তথাকথিত রক্ষক হিসেবে পরিচিত রাজতন্ত্রের সৌদি আরবসহ আরও কয়েকটি প্রভাবশালী মুসলিম দেশ। প্রতিবেশীদের এমন বিশ্বাসঘাতকতায় মুক্তির শেষ ভরসাটুকুও যেন হারায় ফিলিস্তিন।

পরাধীন মায়ের জমিন ফিরে পেতে তখন সর্বাত্মক আক্রমণই শেষ সিদ্ধান্ত হয় হামাসের। বিশ্বের সর্বশেষ যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে উঠেছে এখন আল আকসা ঘেরা তিন ধর্মের পবিত্র জমিন। দুপক্ষের সংঘাতে ইতোমধ্যে প্রাণ গেছে এক হাজারের বেশি মানুষের। আর প্রতিক্রিয়ার প্রেস রিলিজেই খালাস পাশের দেশগুলো।

মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার এই উত্তেজনা বৃদ্ধির “গুরুতর পরিণতি” সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, তারা অবিলম্বে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যকার সহিংসতা বন্ধ চায়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারি বার্তা সংস্থা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, “সংযুক্ত আরব আমিরাত সর্বোচ্চ সংযম দেখাতে এবং গুরুতর পরিস্থিতি এড়াতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছে।”

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর চলছে যার যার অবস্থান থেকে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা। শব্দের মারপ্যাঁচই এর দৃষ্টান্ত। কেউ বলছেন “আগ্রাসন”, “নৃশংসতা” আবার কারও ভাষ্যে “সহিংসতা”, “সংঘাত”।

কিন্তু আসল ঘটনা “গণহত্যা” আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। যুগের পর যুগ ফিলিস্তিনিরা বাস্তুচ্যুত। তাদের পৃথিবীতে আসাই যেন শহিদ হওয়ার জন্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ উত্তর বিশ্বে ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্ম প্রক্রিয়া নিয়ে অন্যায্যতার প্রশ্ন এখন আর গুরুত্ব পায় না। আমরা অভ্যস্ত হয়েছি ইসরায়েলি ট্যাংকের বিপরীতে গুলতি হাতে কিশোর ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধের ছবি দেখে। সেখানে সংগঠিত হয়েছে একের পর এক “ইন্তিফাদা” নামের গণঅভ্যুত্থান। তবু মুক্তি আসেনি।

বিশ্ব মোড়লেরা নির্লজ্জভাবে অস্ত্র ও অর্থে সুসজ্জিত করেছেন দখলদারদের। অন্য দিকে লাশের গন্ধ ছাড়া কিছুই জোটেনি ফিলিস্তিনিদের। পুরো দেশটিই এক গণকবর। আগ্রাসী বুলেটেবিদ্ধ মানব শরীর দাফনে লাগে না আলাদা কবরস্থান। এ মরার দেশ যেন লাশ ফ্যাক্টরি। এ মরার দেশ একই সঙ্গে লাস্ট ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি ইসরায়েলের কর্তৃত্ববাদী নেতানিয়াহু শাসনের বিরুদ্ধে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। সাধারণ ইসরায়েলিরাও চান রক্তপাত বন্ধ হোক। কিন্তু কে শুনবে সাধারণের প্রাণান্ত চাওয়া? তাই বিশ্ব পরাশক্তির মদদে প্রশ্নাতিতভাবে নেতানিয়াহু গং রূপ নিয়েছে ফেরাউনে। তাদের যা খুশি তাই করার স্বাধীনতায় কোনো বেগ পেতে হয়নি।

তাই শান্তি অধরা থেকেছে এ জনপদে। দফায় দফায় শান্তি আলোচনার মতো প্রহসনের মধ্যে থেমে নেই অমূল্য প্রাণহানি। আশ্চর্য লাগে যে, কোভিড মহামারি শেষে গ্রহকর্তারা দিশা পেলেন না। সম্প্রীতিতে একাত্ম বিশ্ব দেখা হলো না। বরং দেখতে হলো রুশ-ইউক্রেনে রক্তপাত। এখনও যা চলছে। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের চলমান ঘটনা নিয়ে তাই মনে এমন প্রশ্ন জাগা সঙ্গত,

“হায়রে মানবতা! আর মরলে তবে থামবে তুমি শেষে?”

ফিলিস্তিন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close