• শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১
  • ||

দেশে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ

প্রকাশ:  ১৫ মার্চ ২০২৪, ১২:৫৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে ৫-১৭ বছর বয়সী ৩৫ লাখ শ্রমজীবী শিশু রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৮ লাখ শিশুশ্রমে রয়েছে। আর ১০ লাখ ৭০ হাজার শিশু আছে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ-২০২২ প্রকাশ করেছে। সেখানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সম্পর্কিত খবর

    ঢাকার আগারগাঁও এলাকায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. শহীদুজ্জামান সরকার ও বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিসংখ্যান ও তথ্যবিজ্ঞান বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর তুওমো পাউটিয়ানেন ও ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার ম্যাট ক্যানেল।

    বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিবিএসের উপ-মহাপরিচালক পরিমল চন্দ্র বোস, উভয় জরিপের ওপর পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন করেন বিবিএসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন খান।

    প্রশ্নোত্তর পর্ব সঞ্চালনা করেন পরিসংখ্যান ও তথ্যবিজ্ঞান বিভাগের যুগ্ম সচিব দীপঙ্কর রায়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোঃ শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, সরকার শিশুশ্রম শূন্যের কোঠায় চলে এসেছে এমন দাবি না করলেও ২০২৫ সালের মধ্যে দেশ থেকে শিশুশ্রম নির্মূল হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ রয়েছে।

    পরিসংখ্যান ও তথ্যবিজ্ঞান বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন বলেন, সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে দেশ থেকে শিশুশ্রম নির্মূলে সম্ভাব্য সব উপায়ে কাজ করছে।

    আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর তুওমো বলেন, শিক্ষায় বিনিয়োগ না করে শিশুশ্রম নির্মূল করা যাবে না। শিশুশ্রম মোকাবেলা করার জন্য দারিদ্র্যও দূর করতে হবে।

    বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার ম্যাট ক্যানেল বলেছেন, ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নির্মূলে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

    সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ রাশেদা কে. চৌধুরী দেশে শিশুশ্রম কমাতে শিক্ষার্থীদের জন্য মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের মাধ্যমে সরকারি উপবৃত্তির পরিমাণ বাড়ানো ও স্কুলে মিড-ডে মিল চালু করার পরামর্শ দিয়েছেন।

    জাতীয় শিশু শ্রম সমীক্ষা ২০২২ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুশ্রম সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান সামাজিক উদ্বেগের আলোকে ও এটি দূর করার জন্য আন্তর্জাতিক ও জাতীয় প্রতিশ্রুতি।

    জরিপে ১,২৮৪টি প্রাথমিক স্যাম্পলিং ইউনিট (পিএসইউ) বা নমুনা গণনা এলাকা থেকে ৩০,৮১৬টি খানা (১২টি নন-রেসপনসিভ খানাসহ) নির্বাচন করা হয় এবং সেই অনুযায়ী ৬৪টি জেলা থেকে স্যাম্পল বেসিস তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছিল। এই জরিপের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম ২০২৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মে পর্যন্ত পরিচালিত হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ৫-১৭ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৬৪ হাজার ৫। এর মধ্যে কর্মজীবী শিশুর সংখ্যা ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৭। আর ৫ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ১৭ লাখ ৭৬ হাজার ৯৭, যা মোট শিশুর ৪.৪%।

    এক দশক আগে ২০১৩ সালে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ৩৪ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৯ বা ৪.৩০%। অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত রয়েছে ১০ লাখ ৬৮ হাজার ২১২ জন, যা মোট শিশুর ২.৭০%। ২০১৩ সালে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিযুক্ত শিশুর সংখ্যা ছিল ৩.২%।

    জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ ২০২২ অনুসারে, পল্লি এলাকায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার এবং শহরাঞ্চলে ৮ লাখ ১০ হাজার শ্রমজীবী শিশু রয়েছে। এর মধ্যে শিশুশ্রমে নিয়োজিতের সংখ্যা পল্লি এলাকায় ১৩ লাখ ৩০ হাজার এবং শহরাঞ্চলে ৪ লাখ ৪০ হাজার। অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিতের সংখ্যা পল্লি এলাকায় ৮ লাখ ২০ হাজার এবং শহরাঞ্চলে ২ লাখ ৪০ হাজার।

    জরিপ থেকে পাওয়া ফলাফল অনুযায়ী শিশু শ্রমিকের ৮২% নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করে। এর মধ্যে উৎপাদনে ৩৩.৩০% এবং কৃষি, বনায়ন ও মাছ ধরায় ২৩.৬০% নিযুক্ত রয়েছে। সামগ্রিকভাবে শিশু শ্রমিক কর্মচারী হিসেবে শ্রেণিভুক্ত ৬৮.৮০% এবং স্কুলে যায় ৫২.২০%।

    শিশু শ্রমিকদের গড় মাসিক আয় ৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। এ ছাড়া ২০ লাখ ১০ হাজার শিশু গৃহকর্মী রয়েছে, যাদের পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। ৮০ হাজার শিশু শ্রমিক পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত। উভয় ক্ষেত্রেই পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি। তিনটি প্রাথমিক খাত কৃষি, শিল্প ও পরিষেবা যথাক্রমে ১০ লাখ ৭০ হাজার, ১১ লাখ ৯০ হাজার এবং ১২ লাখ ৭০ হাজার শিশু শ্রমিক নিয়োগ করে।

    শিশু শ্রমিকদের গড় মাসিক আয় ৬,৬৭৫ টাকা।

    বিবিএস বলছে, বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ৪৩টি খাতকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে, বিবিএস সরকার ঘোষিত এই ঝুঁকিপূর্ণ তালিকা থেকে খাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শিশুশ্রম জরিপ-২০২৩ পরিচালনার জন্য পাঁচটি খাত নির্বাচন করেছে। এই খাতগুলোকে কেন্দ্র করে শিশুশ্রম বিরাজমান রয়েছে এবং জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই এই জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ৩ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত সময়ে।

    জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ৩৮ হাজার ৮ জন ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু ৫ খাতে ৪০,৫২৫টি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছে। ঝুঁকিপূর্ণ খাতে কাজে নিয়োজিত শিশু শ্রমজীবীর মধ্যে ৯৭.৬০% ছেলে এবং ২.৪০% মেয়ে শিশু।

    এই পাঁচ খাতে শ্রমজীবী মোট শিশুর সংখ্যা হলো যথাক্রমে শুঁটকি মাছ উৎপাদনে ৮৯৮ জন, চামড়ার তৈরি পাদুকা তৈরিতে ৫,২৮১ জন, ওয়েল্ডিং বা গ্যাস বার্নার ম্যাকানিকের কাজে ৪,০৯৯ জন, অটোমোবাইল ওয়ার্কশপে ২৪,৯২৩ এবং অনানুষ্ঠানিক ও স্থানীয় টেইলারিং বা পোশাক খাতে ২,৮০৫ জন। এ থেকে স্পষ্ট যে, পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ খাতের মধ্যে শ্রমজীবী শিশুদের সবচেয়ে বড় অংশ নিয়োজিত রয়েছে অটোমোবাইল খাতে।

    এই খাতে কর্মরত শিশুর ৩৫.৭% গ্রাম এবং ৬৪.৩% শহর এলাকায় বসবাস করে।

    শ্রমজীবী শিশু
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close