• শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
  • ||
শিরোনাম

বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক পরিচালনায় সরকারের ১০ নির্দেশনা

প্রকাশ:  ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২২:৪১
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক

নিবন্ধিত হাসপাতাল ও ক্লিনিক ছাড়া চেম্বারে অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া যাবে না। একইসঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ অবেদনবিদ (অ্যানেসথেটিস্ট) ছাড়া যে কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার নিষিদ্ধ বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

অফিস আদেশে ১০টি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে এসব নির্দেশনা আবশ্যিকভাবে প্রতিপালন করতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের অস্ত্রোপচারের জন্য একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসককে সার্জনের সহকারী হিসেবে রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

খতনা করাতে অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে অজ্ঞান করার পর শিশুর মৃত্যুর দুটি ঘটনার পর এসব নির্দেশনা দেওয়া হলো। গত মঙ্গলবার ঢাকার মালিবাগের জেএস ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড মেডিকেল চেকআপ সেন্টারে খতনা করাতে গিয়ে মারা যায় ১০ বছরের শিশু আহনাফ তাহমিন আয়হাম। ওই ঘটনায় বুধবার ক্লিনিকের দুজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ওই প্রতিষ্ঠানের রোগ নির্ণয়ের অনুমোদন থাকলেও চিকিৎসা সেবা দেওয়ার অনুমোদন ছিল না।

এর আগে, গত ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর সাঁতারকুলের ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খতনার জন্য অজ্ঞান করা হয়েছিল শিশু আয়ান আহমেদকে। খতনা করানোর পর ১১ ঘণ্টায়ও তার জ্ঞান না ফিরলে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে এনে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সাত দিন সেখানে থাকার পর গত ৭ জানুয়ারি আয়ানকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

পরে দেখা যায়, ইউনাইটেড মেডিকেলও চিকিৎসা সেবা দিচ্ছিল যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই। যেসব নির্দেশনা মানতে হবে

১. বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকের নিবন্ধনের কপি প্রতিষ্ঠানের মূল প্রবেশ পথের সামনে দৃশ্যমান স্থানে অবশ্যই স্থায়ীভাবে প্রদর্শন করতে হবে।

২. সব বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য একজন নির্ধারিত দায়িতপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা বা কর্মচারী থাকতে হবে এবং তার ছবি ও মোবাইল নম্বর দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।

৩. যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম ডায়াগনস্টিক ও হাসপাতাল হিসেবে আছে, কিন্তু শুধু ডায়াগনস্টিক অথবা হাসপাতালের নিবন্ধন রয়েছে, তারা যথাযথ নিবন্ধন ছাড়া কোনোভাবেই সেই সেবা দিতে পারবে না।

8. ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরির ক্ষেত্রে যে ক্যাটারগরিতে নিবন্ধন রয়েছে, কেবল সেই ক্যাটাগরিতে নির্ধারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কোনোভাবেই অন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে না এবং ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্যাথলজি/মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি ও রেডিওলজি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে হবে।

৫. বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতালের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের প্রকারভেদ ও শয্যা সংখ্যা অনুযায়ী সব শর্ত বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

৬. হাসপাতাল বা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়োজিত সব চিকিৎসকের পেশাগত ডিগ্রির সনদ, বিএমডিসির হালনাগাদ নিবন্ধন ও নিয়োগপত্রের কপি অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে।

৭. হাসপাতাল বা ক্লিনিকের ক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের অপারেশন-সার্জারি-প্রসিডিউরের জন্য অবশ্যই রেজিস্টার্ড একজন চিকিৎসককে সার্জনের সহকারী হিসেবে রাখতে হবে।

৮. লাইসেন্সপ্রাপ্ত নিবন্ধিত হাসপাতাল ও ক্লিনিক ছাড়া কোনো অবস্থাতেই চেম্বারে অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া যাবে না। বিএমডিসি স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ অবেদনবিদ (অ্যানেস্থেসিয়ালজিস্ট) ছাড়া কোনো ধরনের অপারেশন-সার্জারি-প্রসিডিউর করা যাবে না।

৯. সব বেসরকারি নিবন্ধিত বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাসপাতাল-ক্লিনিকে অবশ্যই “লেবার রুম প্রটোকল” মেনে চলতে হবে।

১০. নিবন্ধিত বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাসপাতাল-ক্লিনিকে অপারেশন থিয়েটারে অবশ্যই “অস্ত্রোপচার কক্ষের আচরণবিধি” মেনে চলতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর,হাসপাতাল,স্বাস্থ্য
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close