• শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
  • ||
শিরোনাম

‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের কারণে প্রশাসন জামাতিকরণ হচ্ছে

প্রকাশ:  ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৯:০০ | আপডেট : ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২১:৩১
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ সকল কোটা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড। এ ছাড়া সংগঠনটি দাবি করেছে, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি তথা আওয়ামী লীগের শাসনামলে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করার কারণে প্রশাসন দিন দিন জামাতিকরণের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সম্মেলনের মাধ্যমে এই দাবি জানায় সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন। তিনি বলেন, ১ম ও ২য় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ সকল কোটা পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড। এই প্রেক্ষিতে আগামী ১ মার্চ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা, নারী কোটা, প্রতিবন্ধী কোটা, জেলা কোটা ও আদিবাসী কোটা পুনর্বহালের দাবিতে এই সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। সামাজিক সমতা নিশ্চিত করার জন্য অবশ্যই সাংবিধানিক অধিকার কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে হবে। চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা কখনোই বৈষম্য তৈরি করে না।

তিনি বলেন, কোটা ব্যবস্থা সবসময় বৈষম্য দূর করে সমতা নিশ্চিত করে। রাষ্ট্রে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের সমান সুযোগ সৃষ্টি করে। সংবিধান ২৯ (৩) ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সমাজের যেকোনো পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার জন্য রাষ্ট্র বিশেষ বিধান প্রবর্তন করতে পারবে। নারী, আদিবাসী, প্রতিবন্ধী, পিছিয়ে থাকা জেলাসমূহের শিক্ষার্থীদের জন্য জেলা কোটা পুনর্বহাল করার মাধ্যমে বৈষম্য দূর করে সকলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ২০১৮ সালে ১ম ও ২য় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণিতে কোটা রাখার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা, আদিবাসী, প্রতিবন্ধী ও নারীদেরকে চরমভাবে অপমান করা হয়েছে। এই কালো সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করে সকল কোটা পুনর্বহাল করতে হবে। আল মামুন আরও বলেন, বারবার দাবি করা সত্ত্বেও আজও পর্যন্ত রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি যা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির নিকট কখনোই কাম্য নয়। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির শাসনামলে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হয়েছে। সরকার মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করার কারণে প্রশাসন দিন দিন জামাতিকরণের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অবিলম্বে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল করে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে। দীর্ঘদিন যাবত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন দেয়া হচ্ছে না। বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের অধিকার আদায়ের প্লাটফর্ম মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা নিয়ে আর কোনো কালক্ষেপণ সহ্য করা হবে না। আমলাদের দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পরিচালনা করার অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বাতিল করে অবিলম্বে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচন দিতে হবে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশেও কোটা ব্যবস্থা থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রে কোটা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য কোটা পুনর্বহালের কোনো বিকল্প নেই। মেধা কোটার নাম পরিবর্তন করে সাধারণ কোটা নামে সংজ্ঞায়িত করা প্রয়োজন। কারণ, অন্য কোটায় নিয়োগপ্রাপ্তরা কখনোই অমেধাবী নয়। তারাও মেধাবী। তাদেরকেও প্রিলি, লিখিত ও ভাইভায় পাশ করার পর কোটা সুবিধা পেতে হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাহবুবুল ইসলাম প্রিন্স, সহ-সভাপতি ফিরোজ আহমেদ সুজন, কানিজ ফাতেমা, শাহীন মাতুব্বর, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুপ্রিয় চন্দ্র দাশ, ঢাকা কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক আল ইমাম, দপ্তর সমন্বয়ক নুর আলম সরদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মুক্তিযোদ্ধা,সংসদ,সন্তান,কমান্ডচাকরিকোটা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close