• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

লোকচক্ষুর আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে জামাই-শ্বশুরের অপকর্ম

প্রকাশ:  ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ১১:০৪
পাবনা প্রতিনিধি
প্রিন্ট

পাম ওয়েল ও বাটার ওয়েল মিশিয়ে চুলায় জ্বাল দিয়ে জামাই-শ্বশুর মিলে তৈরি করতেন ভেজাল ঘি। পাইকারী বিক্রি করতেন মিষ্টির দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন দোকানে। রাতারাতি জামাই-শ্বশুর বনে যান কোটিপতি। গোপনে লোকচক্ষুর আড়ালে দীর্ঘদিন এমন অপকর্ম করে আসলেও অবশেষে সন্ধান মিলেছে সেই ভেজাল ঘি কারখানার।

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পৌর শহরের সরদার পাড়া মহল্লায় এমনই এক ভেজাল ঘি তৈরি কারখানার সন্ধান পেয়ে সোমবার (২২ অক্টোবর) রাতে অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাছুদুর রহমান। এ সময় ওই কারখানা থেকে ৪০ মণ ভেজাল ঘি, ৫ ব্যারেল পামওয়েল, ৩৭ কার্টুন বাটার ওয়েল, ৪ বস্তা ঘিয়ের ফ্লেবার ও ভেজাল ঘি তৈরির সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।

এদিকে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে ভেজাল ঘি তৈরির মুলহোতা কারখানা মালিক পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগর গ্রামের সুলতান শাহের ছেলে শহিদুল ইসলাম পালিয়ে যান। তবে ওই কারখানা থেকে ভেজাল ঘি তৈরির সময় হাতেনাতে আটক করা হয় ৬ জনকে। এরপর রাতেই জব্দকৃত মালামাল জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

আটকৃতরা হলেন-ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগর গ্রামের বাসিন্দা মিলন, বিষ্ট, কামরুল ইসলাম, জীবন ঘোষ, শহিদুল ইসলাম ও ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের সরদার পাড়া মহল্লার রজব আলী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯-এর ৪৩ ধারায় প্রত্যেককে ১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট। পাশাপশি শহিদুল ইসলাম ও তার শ্বশুর শামছুল আলমের বিরুদ্ধে পুলিশকে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেন ইউএনও। অভিযানে সহযোগিতা করেন ভাঙ্গুড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাজেদুল ইসলাম ও সঙ্গীয় ফোর্স।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভেজাল ঘি প্রস্তুতকারক শহিদুল ইসলাম তার শ্বশুর শামছুল আলমের সরদারপাড়া মহল্লার বাড়ি ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল ঘি তৈরি করে আসছিলেন। কারখানার প্রধান ফটক সারাদিন বন্ধ রাখা হতো। অপরিচিতি লোকদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হতো না। পরবর্তীতে তৈরিকৃত ভেজাল ঘি পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হতো। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে অভিযান চালানো হয়।

/পি.এস

পাবনা,অপকর্ম
apps