• বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

ধামরাইয়ে ১৯৩টি দূর্গা প্রতিমা নির্মাণ

প্রকাশ:  ১২ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:২৫ | আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:০৫
ধামরাই প্রতিনিধি
প্রিন্ট

১৪ অক্টোবর মহা পঞ্চমীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গোৎসব। ধর্মীয় রীতি মতে এবার দেবী আসবেন ঘোটকে আর গমন করবেন দোলায় চড়ে। আর এ উৎসবকে স্বাগতম জানাতে ঢাকার ধামরাইয়ে পৌরসভা ৪৩ টি ও ১৬ টি ইউনিয়নে প্রায় ১৫০ টি স্থায়ী ও অস্থায়ী মন্দিরে প্রতিমা বানানোর কুমোড়রা ব্যাস্ত সময় পাড় করছেন।

ইতোমধ্যে বাঁশ ও খড় দিয়ে অবকাঠামো তৈরির পর মাটির প্রলেপ দিয়ে মূর্তির মাতৃ অবয়ব দেয়ার কাজ প্রায় শেষের পর্যায়ে। এসব প্রতিমায় দ্রুতই রঙ দিয়ে আরো জীবন্ত করে তোলা হবে এই সপ্তাহের শেষেই।

ধামরাই পৌরসভার বসাক বাড়ীর ডাঃ অজিত বসাক জানান, শহরের কিছু মূর্তিতে ইতোমধ্যে রং তুলির কাজ শুরুও হয়ে গেছে। ১৫ অক্টোবরের মধ্যে সব প্রতিমাই রং তুলির আচরে আরো জীবন্ত হয়ে উঠবে।

তিনি বলেন, দেশের মঙ্গল ও সমৃদ্ধি কামনায় এবারও শান্তিপূর্ণভাবেই দূর্গোৎসব পালন ও শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করছি।

উপজেলার কায়েতপাড়ার ঐতিহ্যবাহী রায় বাড়ির সদস্য এ্যাডভোকেট শ্যামল রায় জানান, কায়েত পাড়ার রায় বাড়ীতে প্রায় ৪শ বছর ধরে দূর্গা পূজা করা হয়। সার্বজনীন এই পূজায় সকলের সার্বিক সহযোগীতা নিয়ে পালন করে থাকি আমরা।

প্রায় ২শ’ বছর ধরে পূজার আয়োজনকারী বনিক পরিবারের সদস্য ও পূজারী প্রকাশ বণিক জানান, এবছরও যথাযথভাবে পূজার কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিমা গড়ে তোলা হয়েছে, এ সপ্তাহে শুকানো শেষ হলে রং লাগানোর কাজ শুরু হবে।

ধামরাইয়ের প্রতিমা শিল্পী সুকান্ত বণিক বলেন, শিল্পীরা সূক্ষ্ম কাজগুলো করে শেষ করছে। এ সপ্তাহে কাজ শেষ হয়ে যাবে। পূজাকে ঘিরে ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

তিনি বলেন, ঢাকার নিকটবর্তী ধামরাইয়ে প্রতিবছরই দেড় শতাধিক পূজা হয়। এছাড়াও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শতবছরের ইতিহাস দেখতে বছরের পুরো সময়জুড়েই বিদেশি পর্যটকরা ভ্রমনে আসেন। অথচ শহরে ঢোকার প্রধান তিনটি সড়কই (ঢুলিভিটা-ধামরাই বাজার, থানা রোড-ধামরাই বাজার, ইসলামপুর-ধামরাই বাজার) সরু আয়তনের। আর উৎসবের দিনে এসব সড়কে বসে হাট, মেলা। ফলে চলার পথটি আরো সরু হয়ে যায়। একটু বৃষ্টি পড়লেই রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ধামরাইয়ের ঐতিহ্য আরও ছড়িয়ে দিতে এসব যোগাযোগ ব্যবস্থার আরো উন্নয়ন করা প্রয়োজন।

উপজেলার মাধব মন্দির ও ধামরাই উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নন্দ গোপাল সেন বলেন, ১৫ অক্টোবর মহা পঞ্চমীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দূর্গোৎসব। দেবী ঘোটকে চড়ে আগমণ করবেন ও দোলায় চড়ে গমন করবেন।

একক উপজেলায় এতো বেশি পরিমাণ পূজা ধামরাইতেই সবচেয়ে বেশি দাবি করে তিনি বলেন, উপজেলায় প্রায় ১৯৪ টি মন্দিরে শারদীয় দূর্গোৎসবের জন্যে প্রতিমা নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রশাসন থেকেও সার্বিক নিরাপত্তার জন্যে ইতোমধ্যে পূজারী ও নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, শারদীয় দূর্গোৎসব উপলক্ষে প্রশাসনিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পূজারীদের সাথে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে, সে মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। উপজেলায় সবমিলিয়ে ১৯৪ টি মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে পৌর এলাকায় ৪৩ টি মন্দিরে পূজা হবে। এসব মন্দিরগুলোতে ঢাকা, ঢাকার বাইরের প্রচুর ভক্তবৃন্দ এসে থাকেন, ফলে এসব মন্দিরের নিরাপত্তায় কড়া ব্যবস্থা নেয় হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উৎসব সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গোৎসব। এই পূজায় নিরাপত্তা ও পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসন থেকে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সকলের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করে তিনি বলেন, পূজায় সরকারি অনুদান আসা মাত্রই সকল মন্দিরকে তা হস্তান্তর করা হবে।

ধামরাই পৌরসভার মেয়র গোলাম কবীর বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারো শান্তিপূর্ণভাবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত করতে পৌরসভার পক্ষ থেকে সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কায়েত পাড়ার বড় মন্দির ও মাধববাড়ীর ঘাট সংস্কার করে সেখানকার লাইটিংসহ ডেকারেশনের কাজ করতে পৌরসভার স্টাফদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়াও সকল ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

ওএফ

পূজা