• বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

এমপি মতিনের দেয়া তালিকা বাতিল, পূজা কমিটির তালিকাই চূড়ান্ত

প্রকাশ:  ১১ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:২৬
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রিন্ট

দূর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সরকারি বরাদ্দের জন্য কুলাউড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার (পিআইও) এর কাছে মৌলভীবাজার-২ আসনের বর্তমান সাংসদ আব্দুল মতিনের দেওয়া তালিকা বাতিল করা হয়েছে। আর চূড়ান্ত করা হয়েছে কুলাউড়া উপজেলা পূজা কমিটির দেওয়া তালিকা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আশেকুল হক। জানা যায়, দূর্গাপূজার বরাদ্দের জন্য স্থানীয় এমপি আব্দুল মতিনের পক্ষে একটি ও উপজেলা পূজা কমিটির পক্ষ থেকে অন্য একটি তালিকা পাঠানো হয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসারের কাছে। এমপি মতিন এবং পূজা পরিষদের পৃথক দুটি তালিকা নিয়ে বিপাকে পড়ে উপজেলা প্রশাসন। গেলো কয়েকবছর থেকে পূজা পরিষদ ও এমপির পৃথক দুটি তালিকা নিয়ে প্রায় সময়ই বিপাকে পড়তে হয়েছে উপজেলা প্রশাসনকে।

এবারও এ বিষয়ে বিরোধ প্রকাশ্য দেখা দেয় এমপি ও পূজা পরিষদের নেতৃবৃন্দের মধ্যে। এতে করে পৃথক পৃথক তালিকা প্রদান করে উপজেলা প্রশাসনকে। কুলাউড়ার ১শ ৯৬ টি পূজা মান্ডপে অর্ধ মেন্ট্রিক টন করে সরকারী চাল বরাদ্ধ বিতরনের তালিকা প্রদান নিয়ে স্থানীয় এমপি আব্দুল মতিন এবং উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দের মধ্যে কয়েকদিন থেকে চলছিল স্নায়ুযুদ্ধ।

২ দিন পূর্বে কুলাউড়া উপজেলা সম্মেলন কক্ষে পূজার প্রস্তুতি সভা বয়কট করার ঘটনার পর মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা পর্যায়ে পূজার প্রস্তুতি সভায় জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে বিষয়টির সমাধান আসে। অবশেষে এমপির দেওয়া তালিকা বাতিল করে, পূজা পরিষদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ীই চাল বরাদ্ধের নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক।

এ বিষয়ে পূজা উদযাপন পরিষদের উপজেলা সভাপতি অরবিন্দু ঘোষ বিন্দু বলেন, ‘পূজা পরিষদ একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। স্বাধীনতা পরবর্তী অনেক এমপি দেখেছি কেউ কোন দিন হস্তক্ষেপ করেননি। এমপি তাঁর প্যাডে পিআইও-কে বরাদ্ধের তালিকা দিতে পারেন না। অতীতে আমাদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী পূজা মন্ডপে সরকারী সহায়তা এসেছে। কিন্তু নিয়ম লঙ্ঘন করে এমপি আব্দুল মতিন বরাদ্ধে তালিকা দেওয়ায় আমরা গত সোমবারে সভা বয়কট করেছিলাম।’

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.আশেকুল হক মুঠোফোনে বলেন, ‘ডিসি স্যার নির্দেশনা দিয়েছেন পূজা কমিটির তালিকা অনুযায়ী সরকারি বরাদ্দ বন্টন করতে।’

এ বিষয়ে আব্দুল মতিন এমপির সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, কুলাউড়ায় সার্বজনিন ১৯৬টি ও ব্যক্তিগতভাবে ২২টি পূজা মান্ডপে শারদীয় দূর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। ২/৩ দিনের মধ্যে সরকারি বরাদ্ধ বিতরনের কথা রয়েছে।

ওএফ

পূজা