• বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

১০৩ জনকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিল কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশন

প্রকাশ:  ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:৪৪
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী উপজেলার ১০৩ জন শিক্ষার্থীকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিয়েছে কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশন। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা কার্যক্রমের আওতায় এ বছরের মাঝামাঝি সময়ে শিক্ষার্থীদের এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

তিনমাস ব্যাপী এই প্রশিক্ষণের পুরোটাই বিনা মূল্যে করেছেন কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান দোলন। তিনি কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেন। ১০৩ জন প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ৬৮ জন ছেলে এবং মেয়ে ৩৫ জন। তিনটি আলাদা ব্যাচে ভাগ করে ব্যবহারিক ক্লাসের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হয়েছে।

তিনমাস মেয়াদি এই প্রশিক্ষণটি ছিল কম্পিটারের মৌলিক শিক্ষণ বিষয়ক। হাতেকলমে কম্পিউটার শিক্ষায় এটি শিক্ষার্থীদের ভীত তৈরিতে ভ‚মিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন প্রশিক্ষকরা।

তিনমাস মেয়াদি এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ‘অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল কম্পিউটার শিখবো। সহপাঠীদের দু-একজন আগেই শিখেছে। কিন্তু আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে আমি পারিনি। কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশনের কারণে আমার ইচ্ছাপূরণ হয়েছে।’

বোয়ালমারীর শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান বলেন, ‘তিনমাসের প্রশিক্ষণে আমাদের কম্পিউটারের মৌলিক বিষয়গুলো ব্যবহারিক ক্লাসের মাধ্যমে শেখানো হয়েছে। এখন আমি কম্পিউটার পরিচালনা করতে পারি। টাইপ ও ওয়ার্ড, এক্সেল ও পাওয়ার পয়েন্টে কাজ করতে পারি।’

কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশন দীর্ঘ সময় ধরে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এগিয়ে আনার কাজ করছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অস্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতের জন্য আর্থিক সহায়তা করে। এছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে বইখাতাসহ শিক্ষা সরঞ্জাম প্রদান করে।

শিক্ষার পাশাপাশি সেবামূলক এই সংস্থাটি দীর্ঘদিন সময় ধরে অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে। সামাজিক এসব সেবামূলক ও জনহিতকর কাজের মাধ্যমে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালীর মানুষের মধ্যে ব্যাপক সুপরিচিত লাভ করেছে। প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া মাদকবিরোধী প্রচারণাতেও ভ‚মিকা রাখছে সংস্থাটি।

এ ব্যাপারে কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, কৃষক লীগের সহ-সভাপতি ও ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আরিফুর রহমান দোলন বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রশিক্ষিত জনশক্তি তৈরিতে কাজ করছি। বিশেষ করে আর্থিক অভাব-অনটনের কারণে যারা দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ নিতে পারে না, তাদের জন্য কাজ করছে কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশন।’

তিনি বলেন, ‘কম্পিউটার প্রশিক্ষণের এই কর্মসূচি একটি চলমান কার্যক্রম। বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আমাদের এই প্রয়াস। আগামীতে তিন উপজেলাতে কয়েক হাজার ছেলেমেয়েকে এই প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’

আরিফুর রহমান দোলন জানান, শুধু দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তোলাই নয়, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতেও কাজ করছেন তার প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটি।

দুই হাজার মানুষকে চক্ষু চিকিৎসা প্রদান কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশন পরিচালিক চক্ষু ক্যাম্পের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১৮১১ জনকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে।

গত ৪ আগস্ট জাতীয় শোকের মাস উপলক্ষে বোয়ালমারী উপজেলার সহস্রাইল পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় চক্ষু ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এই ক্যাম্পে ৪৫৭ জন রোগীকে চক্ষু সেবা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছানি অপসারণ ও লেন্স সংযোজনের জন্য অস্ত্রোপচার করা হয় ৫২ জনের চোখে। চশমা দেওয়া হয়েছে ১৪৭ জনকে। বাকিদের জরুরি ওষুধ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ১৪ মে বোয়ালমারী উপজেলার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এখানে ৫০০ জন দুঃস্থ মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা করা হয়। এদের মধ্যে ১৩৪ জন রোগীকে চশমা এবং ৪২ জনের চোখের ছানি অপসারণ ও লেন্স সংযোজন করা হয়। সবাইকে বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হয়।

এ বছরের ২৯ এপ্রিল মধুখালী উপজেলার কামারখালীতে উদ্দীপন বিদ্যানিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী ওই ক্যাম্পে ৩৫৪ জন রোগীর চোখের নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩০ জনের চোখে ছানি অপসারণ ও লেন্স সংযোজন করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী ১০১ জনকে চশমা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া বাকি ২৮৩ জন রোগীর চিকিৎসার জন্য ওষুধ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০১৬ সালের ২৮ ও ২৯ নভেম্বর দুদিনব্যাপী আলফাডাঙ্গা উপজেলার কামারগ্রামে আলফাডাঙ্গা আদর্শ কলেজ ক্যাম্পাসে চক্ষু ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। দুই দিনে ৫০০ রোগীর চক্ষু রোগের নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৪২৫ জনকে ওষুধ প্রদান করা হয়। ১৫০ জন রোগীকে প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা দেওয়া হয়। এছাড়া ২১ জন রোগীকে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপসারণ ও লেন্স সংযোজন করা হয় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।