• বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

ঝালকাঠিতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

প্রকাশ:  ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:৩৫
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রিন্ট

ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক মো. আল-আমিন মাঝির বিরুদ্ধে একই কলেজের এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীর মা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জাহাঙ্গির খান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম মাহমুদ হাসানের কাছে অভিযোগ করেছেন।

তিনি মামলা দায়েরের জন্য বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে এফিডেভিট প্রদান করেছেন। তবে জেলা ও দায়রা জজ ছুটিতে থাকায় মামলা দায়ের হয়নি। শিক্ষক আল-অমিন মাঝি নলছিটি উপজেলার রানাপাশা গ্রামের মো. তৈয়বুর রহমান মাঝির ছেলে। সে বছরখানেক পূর্বে ঝালকাঠি মহিলা কলেজে যোগদান করে।

অভিযোগে প্রকাশ নির্যাতিত ওই ছাত্রী ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এ বছর বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাশ করে। এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর কয়েক মাস আগে ফিজিকসের ক্লাশ নেওয়ার সুবাধে মো. আল-আমিন মাঝির সাথে পরিচয় হয়। পরিচয় হওয়ার পরই সুচতুর লম্পট আল-আমিন মাঝি ওই ছাত্রীর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ তার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু করে সম্পর্ক তৈরি করে।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার রেজাল্ট বের হলে আল-আমিন মাঝি ছাত্রীকে মোবাইল করে মহিলা কলেজে এনে বলে তুমি ভাল রেজাল্ট করেছও জিপিএ ৪.৬৭ পেয়েছও তুমি মেডিকেলে ভর্তির পরীক্ষা দেও আমি তোমাকে সব রকমের সহযোগিতা করবো। সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে আল-আমিন মাঝি প্রায়ই ওই ছাত্রীকে নিয়ে বরিশাল ও ঝালকাঠির বিভিন্ন চাইনিজ রেস্টুরেন্ট এবং তার মহিলা কলেজ সড়কের বাসায় নানা কৌশলে শ্লীলতাহানি করেন।

সর্বশেষ গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঝালকাঠি শহরের নোহা গার্ডেন চাইনিজ রেস্টুরেন্টে নিয়ে আল-আমিন মাঝি ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং ধর্ষণের চেস্টা করে। ওই সময়ে কয়েকজন সাংবাদিক রেস্টুরেন্টে উপস্থিত হলে আল-আমিন মাঝি ছাত্রীকে রেখে সটকে পড়ে।

ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক আল-আমিনের অনৈতিকি কর্মকাণ্ডের খবর শহরে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

খোজ খবর নিয়ে জানা গেছে আল-আমিন মাঝি আরও একাধিক ছাত্রীর সাথে সম্পর্ক গড়ে তাদের সর্বনাশ করেছে। শুধু আল-আমিন মাঝি নয় একই কলেজের আরও ৫/৬ জনের একটি শিক্ষক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ার অভিযোগ রয়েছে। সরকারি মহিলা কলেজের আশপাশে বাসা ভাড়া নিয়ে এরা কথিত মধুকুঞ্জু গড়ে তুলেছেন। এ সকল শিক্ষকরা তাদের বাহিরের বন্ধুদের নিয়ে নিয়মিত কলেজ অভ্যন্তরে দিনে ও রাতে আড্ডা বসায়। তাদের টার্গেট থাকে ছাত্রী হোস্টেলের দিকে।

অভিযোগের বিষয়ে আল-আমিন মাঝির বক্তব্য জানার জন্য তার মোবাইল নম্বরে কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. জাহাঙ্গীর খান বলেন, ওই ছাত্রীর মা আমার কাছে মৌখিকভাবে আল-আমিন মাঝির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল। আমি আল-আমিন মাঝিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তিনি যে কোন ধরনের অনৈতিক সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছেন। কলেজে বহিরাগতদের আড্ডা প্রসংগে অধ্যক্ষ বলেন খোজ খবর নিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

/পি.এস

ঝালকাঠি,ধর্ষণ