• সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

শেষ মুহুর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত গরুর খামারিরা

প্রকাশ:  ১৭ আগস্ট ২০১৮, ১১:৪৫
তপু আহম্মেদ (টাঙ্গাইল)
প্রিন্ট

টাঙ্গাইলের খামারিরা আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন খামারিরা। শেষ সময়ে পরিচর্যাসহ মোটাতাজা করণে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন তারা। এবছর ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার ছাড়াই দেশিয় খাবার দিয়ে গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। গো-খাদ্যের দাম একটু বেশি হওয়ায় লালন-পালনে আগের চেয়ে খরচও কিছুটা বেশি হয়েছে। দেশের বাইরে থেকে কোরবানির হাটে কোন গরু না এলে ভাল দামেই খামারের গরু বিক্রি করতে পারবে তরা। এ গরুই সারা বছরের স্বপ্ন তাদের।

টাঙ্গাইল জেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলা ছোট বড় মিলিয়ে নয় হাজার ৩৪৫টি গরুর খামার রয়েছে। জেলায় এ বছর ৪৫ হাজার গরুর চাহিদা রয়েছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলার খামারগুলোতে প্রায় ৬০ হাজার গরু প্রস্তুত করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, জেলার খামারিরা প্রতি বছর কোরবানির ঈদের ৬ থেকে ৭ মাস আগে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও চরাঞ্চল থেকে কম দামে ছোট ছোট গরু কিনে আনেন। পরে তা দেশিয় পদ্ধতিতে পরিচর্যা, গো-খাদ্য খড়, ভুষি, তিল, খৈল ও বিভিন্ন জাতের ঘাস খাইয়ে মোটাতাজা করা হয়। খামারিদের সচেতনতা সৃষ্টি হওয়ায় অসাধু পন্থা অবলম্বন না করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে গরু মোটাতাজা করছে। তাদের আশা, দেশিয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করে লাভবান হবেন। দেশিয় পদ্ধতিতে প্রাকৃতিকভাবে গরু মোটাতাজা করার ফলে গরুর চাহিদা বাজারে বেশি থাকায় এ বছর খামারিদের সংখ্যাও বেড়েছে। এছাড়া দেশিয় পদ্ধতিতে গরু লালন-পালন করে আর্থিক ভাবেও লাভবান হওয়ায় এখন আর কেউ অসাধু পন্থা অবলম্বন করছেন না। এতে খামারিরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত বছর আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হওয়ার আশায় মোটাতাজা করার বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে অনেক খামারিই সর্বশান্ত হন। ফলে এ বছর তেমন কোন ঝুঁকি নিতে রাজি নয় খামারিরা। কোরবানির জন্য দেশিয় পদ্ধতিতে তারা গরুর পরিচর্যা করছেন। কোন কোন খামারি বাড়ির চারপাশে রাস্তার পাশে বিভিন্ন জাতের কাঁচা ঘাস রোপন করেছেন। এ কাঁচা ঘাসের সাথে খড়, ভুষি, তিল, খৈল ও সয়াবিন খাইয়ে গরু লালন-পালন করেছেন। এ কারণে কিছুটা বেশি দামে গরুগুলো বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী তারা।

দীর্ঘ ২০ বছর ধরে গরু মোটাতাজা করে বিক্রি করছেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের শ্রীফলিআটা গ্রামের মো. শাজাহান। গত বছর ৪টি গরু ওষুধের মাধ্যমে মোটাতাজা করে বিক্রি কায় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হন। এবার ৬টি গরু দেশিয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করছেন। প্রতিবেশি দেশ থেকে অতিমাত্রায় গরু আমদানি না হলে এবছর গত বারের ক্ষতি পুষিয়ে তিনি লাভবান হবেন, পরিবারের স্বপ্ন পূরণ হবে। তার খামারের একটি গরুর দাম চাওয়া হয়েছে ৪ লাখ টাকা।

সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের চৌবাড়িয়া গ্রামের খামারি মো. আশরাফ আলী এবার ৪টি গরু মোটাতাজা করেছেন। তারমধ্যে তিন বছর বয়সী ব্রাহমা জাতের একটি গরু কোরবানি উপলক্ষে ঢাকা সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে দেখতে আসছেন। তিনি গরুটির দাম হাকছেন ৮ লাখ টাকা। কেউ কেউ দাম বলছে ৪-৬ লাখ টাকা।

তিনি জানান, স্ত্রী করুণা বেগম, ছেলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র তায়েবুর রহমান ও তিনি গরু মোটাতাজা করণে কাজ করে থাকেন। প্রাণি সম্পদ অফিসের লোকজন মাঝেমধ্যে এসে তদারকি করেন। গরুর ভাল দাম পেলে এ বছরের স্বপ্ন পুরণ হবে বলে জানান তিনি। খামারি আব্দুল মামুন, রশমত মিয়া, হায়দর আলী সহ অনেকেই বলেন, প্রাকৃতিকভাবে কাঁচা ঘাস, খড়, খৈল, ভুষি খাইয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করছেন তারা। তাদের দাবি প্রতিবেশি দেশ থেকে যেন গরু অতিমাত্রায় আমদানি করা না হয়। তাহলে তারা কিছুটা বেশি লাভবান হতে পারবেন।

দাইন্যা ইউনিয়নের ফুটানী বাজার এলাকার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর গরুর গো-খাদ্যের দাম অনেকটা বেশি। অসাধু পন্থা অবলম্বন না করায় তার প্রতিটি গরুতে তুলনামূলকভাবে বেশি খরচ হয়েছে।

সন্তোষ এলাকার মো. হাফিজুর রহমান বলেন, অনেক যত্নে খামারের গরুগুলো লালন-পালন করেছেন। তার পরিবারের সকল সদস্যই গরুর পরিচর্যা করতে সময় দিয়ে থাকে। বর্তমানে গরুর বাজার ভাল আছে। প্রতিবেশি দেশ থেকে গরু আমদানি করলে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

টাঙ্গাইল জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা এসএম আউয়াল হক জানান, টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় ৪৫ হাজার গরু-ছাগলের চাহিদা রয়েছে। জেলায় প্রায় ৬০হাজার গরু-ছাগল মজুদ রয়েছে। আমদানি ছাড়াই নিজস্ব গরু দিয়ে জেলার কোরবানি কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে। এবছর খামারিরা গরুর ভাল দাম পাবে এবং তাদের স্বপ্ন পুরণ হবে বলে তিনি আশা করেন।

ওএফ

গরু
apps