• রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

নদী ভাঙনে দিশেহারা উলিপুরের ২ শতাধিক পরিবার

প্রকাশ:  ১১ জুলাই ২০১৮, ১৫:৫২
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রিন্ট

কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদীর পানি কমলেও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙ্গন। ১৫ দিনের অব্যাহত ভাঙ্গনে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক বসতবাড়িসহ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের মুখে ঘরবাড়ি সরাতে হিমশিম খাচ্ছেন ভাঙ্গন কবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো। ভাঙ্গনের কারণে গৃহহারা মানুষজন খাদ্য ও আবাসিক সংকটে পড়েছেন।

জানা গেছে, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদী বেষ্টিত উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ইউনিয়ন নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ থেতরাই ইউনিয়নের হোকডাঙ্গা হিন্দু পাড়া, মাঝিপাড়া, মেম্বার পাড়া, ডাক্তার পাড়া, ফকির পাড়া গ্রামের ৫১টি পরিবার গুনাইগাছ ইউনিয়নের সন্তোষ অভিরাম, টিটমা, কাজির চক, শুকদেব কুন্ডর ২০টি পরিবার বজরা ইউনিয়নের সাতালস্কর, চর বজরার ৪৬টি পরিবার হাতিয়া ইউনিয়নের কামারটারি ও হাতিয়া গ্রামের ৮১ পরিবারসহ দুই শতাধিক বসতবাড়ী নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

অবিরাম ভাঙ্গনের মুখে ঘরবাড়ী সরাতে হিমশিম খাচ্ছে ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষজন। ভাঙ্গনে গৃহহারা মানুষজন খাদ্য ও আবাসিক সংকটে পড়েছেন। ভাঙ্গনের হুমকিতে পড়েছে গুনাইগাছ ইউনিয়নে কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্য নির্মিত নাগড়াকুড়া বাঁধ সহ ৫ টি গ্রাম, ১ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২ টি মন্দির।

থেতরাই ইউনিয়নের হোকডাঙ্গা গ্রামের মহুবর রহমান (৫৫), আঞ্জুআরা বেগম (৫০), বিশোদা (৬০), নরেশ চন্দ্র বর্মন (৫৮), মোসলেম উদ্দিন (৪৫), গোপাল চন্দ্র বর্মন (৫০), লালমিয়া (৫৫), বিরেন্দ্র নাথ (৬০), আব্দুল মামুদ (৮৫) সহ নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ অনেকে জানান, গত বছর থেকে এ সব এলাকায় ভাঙ্গন শুরু হলেও কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় চলতি বছর ভাঙ্গনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

জরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গন রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তাদের। ওই ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য তারামনি বম্মণী বলেন, পার্শ্ববর্তী সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের খোদ্দারচরে অপরিকল্পিতভাবে তিস্তা নদীর পশ্চিম পাড়ে মাটি ভরাট করে বৃহৎ সোলার প্যানেল প্রকল্প স্থাপনের কারনে নদীর গতি পরিবর্তন হওয়ায় ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়েছে। তিনি আরও জানান, গত কয়েকদিনের ভাঙ্গনে তার বাড়ী সহ হিন্দু পাড়া ও ডাক্তার পাড়া গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

থেতরাই ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার জানান, ওই এলাকায় প্রতি বছর নদী ভাঙ্গছে কিন্তু ভাঙ্গনরোধে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবেদন করা হয়েছে। কার্যকর ব্যবস্থা নিলে নদী ভাঙ্গনরোধ সম্ভব হবে।

গুনাইগাছ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ খোকা জানান, শুকনো মৌসুমে নাগড়াকুড়া এলাকায় টি’বাঁধের নিকটবর্তী এলাকা থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত টি’বাঁধটি হুমকির সম্মুখিন। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে জানালেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোর জন্য ইউনিয়ন প্রতি ১ টন করে চাল সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থদের খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে ভাঙ্গন রোধের ব্যবস্থার জন্য জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় টি’বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে ।

/পি.এস

কুড়িগ্রাম,নদী ভাঙন