• সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮, ৮ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

চিহিৃত দুই মাদক ব্যবসায়ী পরিবারের ছয়জন আটক, জনমনে স্বস্তি

প্রকাশ:  ০৯ জুলাই ২০১৮, ২০:২৯ | আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৮, ২০:৪০
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রিন্ট

দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর নাশকতার পরিকল্পনাকালে নীলফামারীর চিহিৃত দুই মাদক ব্যবসায়ী পরিবারের ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকদের মধ্যে স্বামী, স্ত্রী এবং সন্তানরাও রয়েছেন।

সোমবার ভোরে (৯জুলাই) নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বনবিভাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। আটকরা হলো সেখানকার মৃত. তফিজ উদ্দিনের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন (৪৭), তোফাজ্জলের স্ত্রী আনোয়ার বেগম ওরফে ছোট কালঠি (৪২), আনোয়ারার ছেলে সাগর ইসলাম (২২) এবং মৃত. আফছার আলীর ছেলে আইউব আলী (৬০), আইউব আলীর ছেলে সোহেল রানা (২২) ও রুবেল রানা (২৫)।

এছাড়া ঈদ-উল-ফিতরের আগে আরেক মাদক ব্যবসায়ী একই পরিবারের আইউব আলীর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ওরফে বড় কালঠি (৫০) মাদক বিরোধী অভিযানে আটক হয়ে জেল হাজতে রয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, মাদক সম্রাজ্ঞী মনোয়ারা বেগম ওরফে বড় কালঠি ও আনোয়ারা বেগম ওরফে ছোট কালঠি দীর্ঘদিন থেকে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত।

পরিবার দুটির এমন কোন ব্যক্তি নেই যে যারা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত নন। বিভিন্ন সময় পুলিশের হাতে কেউ না কেউ আটক হয়ে জেলে থাকলেও বন্ধ হয় না তাদের ব্যবসা।

পুলিশ জানায়, দেশব্যাপী মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হলে লাপাত্তা হন পরিবারের সদস্যরা। তাদের ধরতে চালানো হয় তৎপরতা। এরই মধ্যে ব্যবসায়ীক মন্দা শুরু হলে চলমান মাদক বিরোধী অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিতর্কিত করতে তারা পরিকল্পনা শুরু করে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সোমবার ভোরে নিজ বাড়িতে মাদক ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে নাশকতার চেষ্টা করলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়।

নীলফামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাবুল আখতার জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তারা। সে সময় কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী আনোয়ারা বেগম ওরফে ছোট কালঠিসহ ছয়জনকে আটক করা হয়। এ সময় পালিয়ে যায় আরো কয়েকজন। এ ঘটনায় নীলফামারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন।

তিনি বলেন, তাদের সাথে আরো কারা জড়িত রয়েছে, তাদেরকেও আটক করা হবে। মাদক সম্রাজ্ঞী বড় কালঠি ও ছোট কালঠি পরিবারের সবাই আটক হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

টুপামারী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আবুল কাশেম শাহ জানান, পরিবার দুটির কারণে ধ্বংসের পথে যাচ্ছিলো যুব সমাজ। এলাকার পরিবেশ নষ্ট করেছে তারা। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

জানতে চাইলে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে পড়েছে। যার কারণে তারা অপচেষ্ঠায় লিপ্ত হয়েছে অভিযানকে বিতর্কিত করতে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান বন্ধ করবে না। নীলফামারী জেলাতেও যারা জড়িত রয়েছেন তাদের আটক করে সামাজিক ভাবে বয়কট করা হবে।

পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন বলেন, আটকদের বিরুদ্ধে সবার নামে থানায় মামলা রয়েছে। বিশেষ করে বড় কালটি এবং ছোট কালঠির নামে দশটিরও অধিক মামলা রয়েছে।

ওএফ

মাদক