• রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

জন্মের আগেই পঞ্চম শ্রেণী পাস!

প্রকাশ:  ০৭ জুলাই ২০১৮, ১৭:৪৪ | আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৮, ১৮:০৯
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রিন্ট
প্রবীর এক সময় বিদ্যুৎ অফিসের বিভিন্ন মিটার রাইডারদের একান্ত সহযোগী হিসেবে দৈনিক মজুরিতে কাজ করত। সরকারি চাকুরি ছাড়া এভাবে প্রায় ৮/১০ বছর চলে। এই সুবাদে জড়িয়ে পড়ে নানা অনিয়মে। সন্ধ্যান পায় আলাদিনের চেরাগের। মিটার জালিয়াতি ও অবৈধ লাইন সংযোগ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে ভারি করে পকেট। কিছু দিনের ব্যবধানে একসময়কার রাইডারদের একান্ত সহযোগী প্রবীর আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হয়। তার এ অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে যায়। সাথে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির হুতা মৌলভীবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের লাইন সাহায্যকারী ‘প্রবীর দাস’র অনিয়মের চিত্র বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পরে কর্তৃপক্ষ তাকে লাইন সাহায্যকারী থেকে অভিযোগ কেন্দ্রে স্থানান্তর করেছে। একটি বিশ্বস্থ্য সূত্র জানায়, তার অনিয়মে অফিসের স্টাফরাও বিব্রত। অনেকেই লজ্জায় জনসম্মুখে চলাফেরা করতে পারছেন না। আবার প্রবীর বীরদর্পে বিভিন্ন জনের কাছে বলে বেড়াচ্ছে ‘পত্রিকায় লিখে আমার কিছুই করা যাবে না, আমি অনেক টাকা খরচ করে চাকুরি পেয়েছি’। অনুসন্ধানে জানা যায়, মৌলভীবাজার পৌর এলাকার একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর বাসায় ও দোকানে ত্রিফেজ লাইন সংযোগ দেবার প্রলোভন দেখিয়ে প্রবীর বিপুল অংকের টাকা আত্মসাৎ করে। পরে লাইন সংযোগও দেয়নি এমনকি টাকাও ফেরৎ দেয়নি। পূর্ব গির্জাপাড়ার একটি দু’তলা ও একটি টিনসেটের বাসায় পানির মটর, ফ্রিজ ও টিভিসহ নূন্যতম বিলে চালিয়ে নিত প্রবীর। জানা গেছে তখন সে ওই বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকত। অবৈধ লাইন সংযোগ দেয়ার সুবাধে কোনো বাসা ভাড়া পরিশোধ করতে হতো না। এছাড়াও পৌর শহরের গির্জাপাড়া, কাজিরগাঁও, শাহ মোস্তফা সড়ক, সৈয়ারপুর ও শমসেরনগর সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় তার কুকর্মের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত। এনালগ মিটার থাকা অবস্থায় অবৈধ লাইন সংযোগ দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। সরকার বঞ্চিত হয়েছে বিপুল অংকের রাজস্ব আয় থেকে। অনুসন্ধানে আরোও জানা যায়, ২০১৪ সালে চাকুরিতে যোগদানের পর সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী পুলিশ ভেরিফিকেশন করার কথা থাকলেও প্রবীরের সনদপত্রে জালিয়াতি ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে অদ্যবধি তার পুলিশ ভেরিফিকেশন আটকে আছে। বর্তমানে সে ৮ হাজার ৫’শ টাকা বেতন পাচ্ছে। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরাফাত জানান-‘আমি সদ্য যোগদান করেছি। এব্যাপারে আমি অবগত নয়। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। প্রবীরের চাকরি লাইন সাহায্যকারী হলেও পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর তাকে সিএ (অভিযোগ গ্রহনকারী) হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, জনবল কম থাকায় তাকে আপাতত এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে লাইন সাহায্যকারী প্রবীর দাসের সাথে কথা হলে তিনি বলেন-‘এবিষয়ে আপনার সাথে পরে কথা বলব’।
বিদ্যুৎ অফিসের দুর্নীতি,মৌলভীবাজার,অবৈধ লাইন সংযোগ