• সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮, ৮ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

গৌরনদীতে আ.লীগ নেতার হস্তক্ষেপে ৭ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ:  ০৫ জুলাই ২০১৮, ২১:৪৩
বরিশাল প্রতিনিধি
প্রিন্ট

বরিশালের গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক প্রথম আলোর স্থানীয় প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম জহিরসহ ৭ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (সংশোধন) আইন ২০১৩ এর ৫৭(২) ধারায় অভিযোগ দিয়ে ব্যর্থ হন ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা। অবশেষে ওই প্রভাবশালী নেতার হস্তক্ষেপে সাংবাদিকদের শায়েস্তা করতে বুধবার রাতে গৌরনদী মডেল থানায় শ্লীলতাহানীসহ ৪টি ধারায় মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি দায়ের করেন উপজেলার নরসিংহলপট্টি গ্রামের চান মিয়া সরদারের স্কুল পড়ুয়া কন্যা। মামলায় আসামি করা হয়েছে দৈনিক প্রথম আলোর গৌরনদী প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম, দৈনিক দেশ জনপদ পত্রিকা, বরিশালের কাগজ, আমাদের বরিশাল, দৈনিক সময়ের বার্তা, দৈনিক বরিশাল সময় ও দৈনিক সকালের বার্তার গৌরনদী নিজস্ব প্রতিবেদকদের।

মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে মামলা দায়েরের ঘটনায় বরিশাল, গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, উজিরপুর ও কালকিনিসহ সকল সাংবাদিক মহল গভীর উদ্বেগসহ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

স্থানীয় লোকজন, সাংবাদিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গৌরনদী উপজেলা ছাত্রলীগ কমিটির এক নেতা ও ইউপি সদস্য কর্তৃক এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও ধর্ষিতার পরিবারকে হুমকি দিয়ে আটকে রাখার খবর এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সর্বত্র আলোচিত হয়। বিষয়টি চাউর হয়ে পরে গৌরনদীতে কর্মরত স্থানীয় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স, অনলাইন ও প্রিন্ট পত্রিকার সাংবাদিকরা ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে ওই বাড়িতে যান।

স্থানীয় একাধিক সাংবাদিক জানান, এ খবর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় পরে গত ১ জুলাই স্কুলছাত্রী বাদী হয়ে গৌরনদী মডেল থানায় প্রথম আলোর গৌরনদী প্রতিনিধি জহিরসহ ৭ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। গৌরনদী মডেল থানা অভিযোগপত্রটি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নথিভুক্ত করে ওই দিনই উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মুজাহিদুল ইসলাম জেলা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে পুলিশ হেডকোয়াটারের নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য অনুমতি চেয়ে পাঠান।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, অভিযোগটি তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি (সংশোধন) আইন ২০১৩ এর ৫৭ (২) ধারায় বহির্ভুত হওয়ায় পুলিশ হেডকোয়াটার থেকে অনুমতি দেয়নি।

বাদী এজাহারে উল্লেখ্য করেন, গত ২৯ জুন প্রথম আলোর গৌরনদী প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম তার বাড়িতে গিয়ে তার (বাদীর) অনুপুস্থিতিতে সাক্ষীদের (স্কুলছাত্রীর বাবা মা) সঙ্গে কথা বলেন এবং কোন সত্যতা না পেয়ে ফিরে আসেন। তদুপরি সাংবাদিক জহির বিশেষ মহলের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে নিজের হলুদ সাংবাদিকতার ধারা অক্ষুন্ন রেখে এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে মিথ্যা সংবাদ করে নিজের অনুগতদের দিয়ে ফেসবুক ও পত্রিকায় প্রকাশ করিয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিক জহির পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনাটির ভিকটিম ও তার পরিবার স্বীকার না করায় আমি কোন সংবাদ প্রকাশ করি নাই। যারা ফেসবুক ও পত্রপত্রিকার অফিস থেকে সংবাদ প্রকাশ করেছে বাদী অভিযোগে তাদের অভিযুক্ত করেনি। সম্প্রতি সময়ে প্রকাশিত সংবাদের জের ধরে আমাকে জব্দ ও হয়রানি করতে প্রথমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (সংশোধন) আইন ২০১৩ এর ৫৭(২) ধারায় মামলা দিতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে স্কুলছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও প্রভাবিত করে তাকে দিয়ে আমাকেসহ ৭ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানীসহ ৪টি ধারায় মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে মামলা দায়ের করিয়েছেন।

মামলা দায়েরের ব্যাপারে বাদীর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। পরবর্তীতে বাদীর পিতার কাছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথা মামলা দায়ের সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

এ প্রসঙ্গে গৌরনদী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান খান বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বৃহস্পতিবার সকালে মামলার খবর সাংবাদিক মহলে ছড়িয়ে পড়লে বরিশাল, গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, উজিরপুর ও কালকিনিসহ সকল সাংবাদিকরা গভীর উদ্বেগসহ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

ওএফ

বরিশাল,সাংবাদিক,মামলা