• বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮, ৯ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

জমে উঠেছে ফেনীর ঈদ বাজার

প্রকাশ:  ১০ জুন ২০১৮, ১৩:২৮
ফেনী প্রতিনিধি
প্রিন্ট

শেষ মুহুর্তে জমে উঠেছে ঈদ বাজার। ঈদ শপিং-এ ফেনী শহরের শপিং মলগুলোতে এখন দিন রাত একাকার। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ছাড়াও আশ-পাশের জেলার মানুষও ছুটে আসছে ফেনীর শপিং মলগুলোতে। রমজানের শুরু থেকে শপিং মলগুলোর মালিকদের মধ্যে ছিল চরম হতাশা। ক্রেতা ছিলনা বললেই চলে। কিন্তু ২০ রমজানের পর থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু হয় ক্রেতার সংখ্যা। এতে দোকানদারদের মধ্যে হতাশার চাপ কিছুটা কমে আসলেও বিক্রি নিয়ে হতাশাই রয়ে গেছে।

সূত্রে জানা গেছে, শহরের শপিং, মলগুলোর মধ্যে গ্র্যান্ড হক টাওয়ার, শহীদ হোসেন উদ্দিন বিপনী বিতান, ফেনী সেন্টার জুম্মা শপিং সেন্টার, তমিজিয়া শপিং কমপে¬ক্স, আপ্যায়ণ আফরোজ টাওয়ার, এফ রহমান এসি মার্কেট, গ্রীণ টাওয়ার, জহিরিয়া মসজিদ টাওয়ার, মহিপাল প¬াজা, নিউ মার্কেট ও ফেনী বড় বাজারের দোকানীদের সাথে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে। বিক্রি কম হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ আছে বলে জানান দোকানীরা।

এবার ঈদে জামার মধ্যে রয়েছে ডালি, স্বপ্নের দেশ, অস্থির। মেয়েদের গ্রাউনের মধ্যে রাজ কুমারী, ডায়মন্ড, ললিপপ, জবা। থ্রীপিচের মধ্যে গরিলা, কাবেরী, বিনয় ইত্যাদি। শাড়ির মধ্যে দেশি কাতান ছাড়াও রয়েছে জবা, জবা বড়ভাবী, ক্রাস-২, ভা¹ি-২, নিল পদ্ম, পদ্মরাণী, রাজপরী, রাজেশ্বরী, রাজগুরু। ইন্ডিয়ার চুন্দ্রি কাতান, চায়না সিল্ক, পাকিস্থানী জর্জেট, দেশীয় মসলিন, কাতান শাড়ি, মেয়েদের কাপপিচ, লং থ্রীপিচ, রেডিমেট লংগ্রাউন, বম্বে গ্রাউন, টুপাট কুটি, পাকিস্থানী, ইন্ডিয়ান পাশাপাশি বম্বে, মিশরী ও দেশীয় পাঞ্জাবির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কাপড়ের পাশাপাশি জুতা, প্রসাধনীর দোকানেও বেশ ভীড় করছে ক্রেতারা।

বিশেষ করে প্রবাসী অধ্যুষিত ফেনী এলাকায় অধিকাংশ প্রবাসীরা আয়ের দিক থেকে আগের মতো ভালো অবস্থায় নেই, মধ্য প্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে প্রবাস থেকে রেমিটেন্স কম আসায়, রমজান মাসের মাঝামাঝিতে শুরু হওয়ায় চাকুরীজীবীরা বেতন বোনাস পেতে দেরী হওয়া, উপজেলা ছাড়াও এলাকা ভিত্তিক বেশ কিছু শপিং মল গড়ে উঠা এবং মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে যাওয়াই মূল কারণ বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা। অনেক ব্যবসায়ী ধার দেনা করে পুঁজি সরবরাহ করে ঈদের জামা-কাপড় নিয়ে এসে এখন বিপাকে। লাভতো দূরে থাক পুঁজি আটকে পড়ার শংকায় আছেন তারা।

ফেনী শহরের শপিং মলগুলোতে বিগত বছরগুলোতে র‌্যাফেল ড্র ও পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকলেও বাজার মন্দার কারণে শুধুমাত্র ফেনী সেন্টার, গ্র্যান্ড হক টাওয়ার, শহীদ হোসেন উদ্দিন বিপনী বিতান, আপ্যায়ন আফরোজ টাওয়ার ছাড়া অন্য শপিং মলগুলোতে তা বাতিল করা হয়েছে।

এ দিকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঈদ কেনাকাটায় রয়েছে বাজার মনিটরিং ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য রয়েছে প্রতিটি শপিং মলের সামনে পুলিশী পাহারা। বাজার দর সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নেয়া হয়েছে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান। ইতিমধ্যে গ্র্যান্ড হক টাওয়ারের ‘মায়াবী’ শপিং মলকে ২ লাখ টাকা জরিমানা ও মালিকসহ ৪ জন কর্মচারীকে দেয়া হয়েছে কারাদণ্ড। সব মিলিয়ে স্বাচ্ছন্দে ও নির্ভিঘেœ বেচা কেনা করছেন ক্রেতা বিক্রেতারা।

এবার ঈদে বরাবরের মতো ভারতীয় শাড়ী ও থ্রি-পিচ এর চাহিদাই বেশী। ভারতীয় সিরিয়ালগুলোর অভিনেত্রীদের জামাগুলোর মতো জামা এসেছে বাজারে। তবে সুতি কাজ করা জামার চাহিদা শীর্ষে বলে জানান দোকানীরা। থ্রি-পিচ, অর‌্যান্ডি, ইন্ডিয়ান শাটর্ন, কাতান, জয়পুরি ও পাকিস্তানী লোন চন্ডিকাজ, কোটি, হাতের কাজ খচিত সুতি জামার দিকেই ঝুঁকছেন ক্রেতারা।

অন্যদিকে উচ্চ ও মধ্যবিত্তরা শপিং মলগুলোতে ছুটলেও ভ্রাম্যমান ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষ ছুটছে প্রতিবারের মতন ফুটপাত ও রাজাঝি দীঘির পাড়ের দোকানগুলোতে তারা সেখান থেকেই কিনছেন নিজেদের ঈদের পোষাক, এছাড়া জেলার প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ের শপিং মলগুলোতেও একই অবস্থা বলে জানা গেছে।

লাকী ফ্যাশন স্বত্ত্বধিকারী মো. শামসুদ্দিন বলেন, বেচা-কেনা মোটামুটি ভালো চলছে। আশা করছি রমজানের শেষ দিকে আরো বেশি বিক্রি হবে।

ওয়ান ফ্যাশনের স্বত্ত্বধিকারী মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এবার ভালো বিক্রয় হচ্ছে। দিনে গ্রাম অঞ্চলের ক্রেতাদের আনা-গোনা সব চাইতে বেশি। নতুন নামে ও ডিজাইনের জিন্স প্যান্ট, শ্যার্ট পাঞ্জাবী ও টি-শ্যার্ট ও পাঞ্জাবী রাখা হয়েছে আমাদের প্রতিষ্ঠানে। রমজানের শেষের দিকে বিক্রি আরো বাড়বে বলে জানান তারা।

ফেনী মডেল থানার ওসি (অপারেশন্স) সাজেদুল ইসলাম পলাশ বলেন, ঈদ উপলক্ষে নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে ও নিরাপত্তা দিতে পুলিশের বিভিন্ন টিম দায়িত্ব পালন করছে। টিমগুলো টহলরত আছে।

ওএফ

কেনা-কাটা,শপিং