• শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮, ২ ভাদ্র ১৪২৫
  • ||

দাফনের ৭দিন ছাত্রের পর লাশ উত্তোলন

প্রকাশ:  ২৭ মে ২০১৮, ১৯:১৪
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রিন্ট

দাফনের এক সপ্তাহ পর কবর থেকে উত্তোলন করা হলো শ্যামলী আইডিয়াল পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের কম্পিউটার সাইন্সের ছাত্র মানিকগঞ্জের নাজমুল হাসান সৌরভের (১৮) মরদেহ।

রোববার দুপুরে তার মরদেহ করব থেকে উত্তোলনের পর ময়না তদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এসময় মানিকগঞ্জ আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট বিল্লাল হোসেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাইকেলসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৯ মে ঢাকার আদাবরে কলেজ হোস্টেলে মৃত্যু হয় সৌরভের। বিদ্যুতায়িত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়। ওই দিনই সৌরভকে ময়না তদন্ত ছাড়াই গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর ইউনিয়নের বনগ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। দুদিন পর সৌরভকে হত্যা করা হয়েছে সন্দেহে করে আদাবর থানায় মামলা দায়ের করেন তার বাবা আমজাদ হোসেন। এরপরই লাশ কবর থেকে তুলে ময়না তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সৌরভের বাবা আমজাদ হোসেন মামলায় উল্লেখ করেছেন, তার ছেলে আদাবর থানাধীন মোহনপুর এলাকায় আইডিয়াল পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের ছাত্র হোস্টেলে থাকতো। গত ১৯ মে ভোর রাতে হোস্টেল সুপারভাইজার মো. নয়ন তাকে ফোন করে জানায় সৌরভ বিদ্যুতায়িত হয়ে আহত হয়েছেন। তাকে শহীদ সোহরওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এমন খবর পেয়ে সকালে তিনি হাসপাতালে গেলে হাসপাতাল মর্গের ট্রলির ওপর চাদর দিয়ে ঢাকা সৌরভের লাশ দেখতে পান। সেখানে হোস্টেল সুপার নয়ন, শিক্ষক ও তার কয়েকজন সহপাঠিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের পরামর্শে সৌরভের লাশ মানিকগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে এনে পারিবারিক করবস্থানে দাফন করা হয়।

সৌরভের বাবা মামলায় আরো উল্লেখ করেন, সৌরভের কাপড়- চোপড় আনতে হোস্টেলে গেলে তার রুমের সামনে রক্তের দাগ দেখতে পান। দাফনের জন্য গোসল করানোর সময়ও শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহৃ দেখা গেছে। তাই তিনি ধারণা করছেন হোস্টেল কর্তৃপক্ষ কিংবা তার সহপাঠিরা সৌরভকে হত্যা করেছেন।

সৌরভের বোন উর্মি হোসেন জানান, তার ভাই খুবই শান্ত প্রকৃতির ছিলো। ঘটনার ২/৩ দিন আগে পুলিশী ঝামেলায় পড়েছে জানিয়ে বাড়ি থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা নেয়। পরে মাকে ফোনে জানায় হোস্টেলের কয়েকজন তার টাকা নিয়েছে। রোজার পর তাদের একটা ব্যবস্থা করবে সে।

তিনি জানান, মৃত্যুর পর সৌরভের পায়ে ধূলাবালি দেখা গেছে। বুকে আঘাতের চিহু এবং পেট ফুলেছিলো। এ থেকেই ধারণা করা হয় তাকে হত্যা করা হয়েছে।

আদাবর থানার এসআই মাইকেল জানান, ম্যাজিষ্টেটের উপস্থিতিতে সৌরভের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। এর পর ময়না তদন্তে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে বলে।

ওএফ

দাফন,ছাত্র,লাশ,উত্তোলন