• শনিবার, ২৬ মে ২০১৮, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
  • ||

জীবনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নে কাজ করছেন মুহীউদ্দীন

প্রকাশ:  ১৭ মে ২০১৮, ১৮:৩৮
গিয়াস উদ্দিন রনি (কোম্পানীগঞ্জ)
প্রিন্ট
প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে জীবনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা যখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে ঠিক সেই মুহুর্ত্বে নোয়াখালী সদর উপজেলার চরাঞ্চলে প্রাথমিক স্তরের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের তত্ত্বীয় শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক তথা হাতে-কলমে শিক্ষা পদ্ধতি চালু করেছেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ মুহীউদ্দীন।

এ শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান, বিদ্যালয়ে সঠিক সময়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, বিদ্যালয়গুলো সজ্জিতকরণ, প্রাক-প্রাথমিক রুম আকর্ষণীয়করণ সহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

মুহীউদ্দীন ২০১৪ সালের ২৩ মার্চ নোয়াখালী সদর উপজেলায় সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসাবে যোগদান করেন। যোগদানের পর উপজেলার অবহেলিত চরাঞ্চল চরমটুয়া, আন্ডারচর ও দাদপুর ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর দায়িত্ব নেন তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষার মান-উন্নয়নের লক্ষে প্রথম দিকে দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়িতে হোম ভিজিট এবং নিজ উদ্যোগে তাদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন। প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে জীবনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদের সাথে মতবিনিময় করেন মুহীউদ্দীন।

এরপর বিদ্যালয়ে সঠিক সময়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, বিদ্যালয়গুলো সজ্জিতকরণ এবং প্রাক-প্রাথমিক রুম আকর্ষণীয়করণ সহ একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করে সফল হন এ শিক্ষা কর্মকর্তা। তার উদ্যোগে বর্তমানে ওইসব ইউনিয়নের প্রতিটি বিদ্যালয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ গড়ে তুলেছেন শিক্ষকরা। নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শনের মাধ্যমে এখানকার বিদ্যালয়গুলোতে এখন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে।

প্রাথমিক শিক্ষায় দক্ষতা বৃদ্ধি করতে মুহাম্মদ মুহীউদ্দীন সদর উপজেলায় যোগদানের পর থেকে নিজ উদ্যোগে প্রতি বছর ইউনিয়ন/ক্লাষ্টার পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়, শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ প্রাক-প্রাথমিক, শ্রেষ্ঠ উদীয়মান বিদ্যালয় এবং শ্রেষ্ঠ মা/ অভিভাবককে পুরস্কৃত করেন। নতুন বইয়ের প্রতি ছাত্র-ছাত্রীদের আকর্ষন বাড়াতে বছরের শুরুতেই বই পড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন তিনি। বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল বাস্তবায়নেও তাঁর প্রশংসনীয় উদ্যোগ রয়েছে।

বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ছাত্র-ছাত্রীদের আইসিটি বিষয়ে জ্ঞানদানের জন্য প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি করে ল্যাপটপ প্রদান করেছেন। কিন্তু কম্পিউটার বিষয়ে শিক্ষকদের জ্ঞান/টেনিং না থাকায় ওইসব ল্যাপটপ অলস পড়ে ছিলো। মুহাম্মদ মুহীউদ্দীন ব্যাক্তিগত উদ্যোগে প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে একজন করে শিক্ষককে বিনামূল্যে কম্পিউটার টেনিং প্রদানের মাধ্যমে চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের আইসিটি শিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন।

শুধু তাই নয়, স্বদেশ প্রেমে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে বিদ্যালয়গুলোতে সকল জাতীয় দিবস ঝাকজমকভাবে পালনের জন্য শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে আসছেন তিনি।

উপজেলার লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী হৃদয় হোসেন ও সোনিয়া আক্তার বলেন, মুহীউদ্দীন স্যার বাড়িতে গিয়ে আমাদের পড়া-লেখার খোঁজখবর নেন। আমাদের নিয়মিত স্কুলে আসতে বলেন। বড়দের সম্মান করতে শিখান। আমাদের বিপদের সময় টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন।

পূর্ব মহতাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হারুনুর রশিদ বলেন, মুহীউদ্দীন স্যার আমাদেরকে বিনামূল্যে কম্পিউটার টেনিং দিয়েছেন। কম্পিউটার টেনিং নিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের আইসিটি বিষয়ে শিক্ষা দিতে সক্ষম হচ্ছি।

পূর্ব মাইজচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তাহের মো. শহিদ উদ্দিন বলেন, স্যার নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষার মান-উন্নয়নে আমাদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ প্রদান করে আসছেন। স্যারের পরামর্শ মতে আমার বিদ্যালয়ের প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রী সুশৃঙ্খল জীবন-যাপন করতে উৎসাহ পেয়েছে। তাঁর অনুপ্রেরণায় সকল শিক্ষার্থীকে পাঠ্য শিক্ষার পাশাপাশি জীবনমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করার চেষ্টা করছি।

সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ মুহীউদ্দীন বলেন, বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষার মান-উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। শিক্ষাজীবনের শুরুতে প্রাথমিক স্তর থেকেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের তত্ত্বীয় শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক তথা হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। তাই আমরা উপজেলার প্রান্তিক পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি জীবনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি।

ওএফ