• বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৮ ১৪২৫
  • ||
  • আর্কাইভ

দুটি অচল পা নিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে মিজানুর

প্রকাশ:  ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৫:৫৬
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রিন্ট

দুটি পা অচল। বাবা মায়ের সহযোগিতায় হুইল চেয়ারে করে পরীক্ষা কেন্দ্রে এসে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে শারিরিক প্রতিবন্ধী মিজানুর রহমান। এবারে অনুষ্ঠিত নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার রণচন্ডি স্কুল এ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় দিচ্ছে। তাঁর রোল নম্বর ৬২৭২৩০। 

পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে রণচন্ডী স্কুল এ্যান্ড কলেজে গেলে অধ্যক্ষ মুকুল হোসেন জানান, কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের গনেশ গ্রামের অসহায় দরিদ্র কৃষক মমতাজ মিয়ার ছোট ছেলে মিজানুর রহমান ১০ বছর আগে অজ্ঞাত রোগে দুটি পায়ই অচল হয়ে পরে। দুটি পা অচল হয়ে পড়লে মিজানুর রহমান লেখাপড়া করার জন্য তাঁর পিতা-মাতার কাছে কান্নাকাটি শুরু করে।পিতা মাতা পড়া লেখার প্রতি মিজানুরের আগ্রহ দেখে গনেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেয়।

প্রতিবন্ধি মিজানুর ওই স্কুল থেকে ২০১২ সালে পিএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৫ পেয়ে ভালো রেজাল্ট করে। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে গনেশ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসিতে অংশ নিয়ে ৪ পয়েন্ট পায়। বর্তমানে গনেশ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মিজানুর রণচন্ডি স্কুল এ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে।

প্রতিবন্ধি মিজানুরের মা মর্জিনা বেগম বলেন, আমার দুই ছেলে দুই মেয়ে। চার ছেলে মেয়ের মধ্যে মিজানুর সবচেয়ে ছোট। মিজানুরের পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ দেখে গনেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেদায়েতুল ইসলামের কাছে নিয়ে গেলে তিনি তাঁকে স্কুলে ভর্তি করে নেন।মিজানুর স্কুলে যেতে না পারায় আমি প্রতিদিন তাঁকে কোলে করে স্কুলে নিয়ে যেতাম।

পরবর্তীতে কিশোরগঞ্জ কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধি উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি আসাদুল হক যাদু মিয়ার কাছে ছেলেকে নিয়ে গেলে তিনি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করে দেন। তখন থেকে আমার ছেলেকে হুইল চেয়ারে করে স্কুলে নিয়ে যেতাম। এসএসসি পরীক্ষায় রণচন্ডি স্কুল এ্যান্ড কলেজের দ্বিতীয় তলায় তাঁর সিট পড়ায় তাঁকে কোলে নিয়ে সিটে বসিয়ে দেই।মিজানুর রহমান জানায়, আমি পড়ালেখা করে চাকুরী করতে চাই। আমার জন্য আমার বাবা-মা যে কষ্ট করেছে চাকুরী করে তাদের মুখে হাঁসি ফুটাতে চাই।