• মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৭ ১৪২৫
  • ||
  • আর্কাইভ

গড়াই ও কালিনদী দখল করে স্থাপনা

প্রকাশ:  ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:৩৪
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রিন্ট

কুষ্টিয়ায় ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ও বিএনপির অন্তত ২৫ নেতাকর্মী গড়াই ও কালি নদী দখল করে নির্মাণ করেছে বাড়ী, মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা। সরকারী খাস জমি দেখিয়ে ফলজ বাগান আর প্লট আকারে বিক্রি করা হচ্ছে নদী পাড়ের জমি। দখল করে পুকুর বানিয়ে মাছ চাষ চলছে। 

এতে এক সময়ের প্রবল খরস্রোতা গড়াই কালি নদী শুকিয়ে এখন খালে পরিণত হচ্ছে। দখলমুক্ত করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা না হলে হুমকির মুখে খুলনার সুন্দরবনের কোটি কোটি টাকার বনজ সম্পদ। পদ্মা গড়াই, কালিনদী, মাথা ভাঙ্গা, কুমার, হিসনা ও সাগরখালি নদী কুষ্টিয়ার বুক চিরে বয়ে গেছে। গড়াই নদীর দুপাশ দখল করে বসতবাড়ি, পাকা দোকান ঘর, ফলজ বাগান, মসজিদ, বাজারসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ করায় নদীটি এখন খালে পরিণত হয়েছে।

এখানে দখলের শীর্ষে রয়েছেন স্থানীয় বিএনপির ছাত্রদল ও যুবলীগ নেতা সহ অন্তত ১০/১৫ জনের একটি চক্র। প্লট বানিয়ে ৫০ হাজার থেকে সর্বচ্চ ১ লাখ টাকা নিয়ে দরিদ্র মানুষের কাছে বিক্রি করেছে নদীর জমি। কেউ নদীর চরেই নির্মাণ করেছে অট্রালিকা। এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।এসব অভিযোগ প্রমাণ দিতে পারলেই ডবল টাকা দেয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন দখলকারী পৌর কাউন্সিলর রবিউল ইসলাম। 

তিনি বলেন এটা দখলদারী নয়। ভূমিহীনদের পুর্ণবাসন করা হয়েছে। নদী পাড়ের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কুষ্টিয়া শহরের কোল ঘেষে বাউল সম্রাট লালন সাঁইর মাজারের সামনে দিয়ে বয়ে গেছে কালী নদী। আজ নদীটি দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে দ্বিতল থেকে চারতলা মার্কেট, বাড়ী, বাজারসহ নানা স্থাপনা নদীতে বাধ দিয়ে মাছ চাষের জন্য পুকুর। এখানেও দখলের শীর্ষে আছেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা জিয়া ও বিএনপির স্থানীয় পোকাড়ি মেম্বার। দখলে পড়ায় সেটিও আস্তে আস্তে বিলিন হবার পথে। 

এসব কথা জানালেও দখলকারীদের নাম বলতে রাজী না কেউ। স্থানীয় নদী রক্ষা আন্দোলনকারীরা জানান, ২০১৩ সালের নদী কমিশন আইনে নদীকে কোন ভাবেই দখল বা ভরাট করে কোন স্থাপনা করা যাবে না। সেই সাথে নদীর পাড় থেকে ১শ ৫৯ মিটার দুরে থাকার কথা বলা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে কুষ্টিয়া এলাকায় এক সময় মরুভ’মিতে পরিণত হবে। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হান বলেন, নদীর শ্রেণীর জমি লিজ দেয়ার কোন বিধান নেই। কেউ যদি অবৈধ দখলদার থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।