• রবিবার, ২৭ মে ২০১৮, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
  • ||

আলোচিত রূপা হত্যা মামলার রায় ১২ ফেব্রুয়ারি

প্রকাশ:  ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৫:২৪
তপু আহম্মেদ, টাঙ্গাইল
প্রিন্ট
টাঙ্গাইলের আলোচিত মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজ ছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রুপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীগণের আইনী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। 

সোমবার সকাল থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত আইনী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীগণ। 

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বিশেষ পি.পি. এডভোকেট নাছিমুল আক্তার, রাষ্ট্রপক্ষে সহায়তা করেন মানবাধিকার কমিশনের আইনজীবি এস আকবর খান, মানবাধিকার কর্মী এডভোকেট এম এ করিম মিয়া ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ। 

আসামীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট শামীম চৌধুরী দয়াল ও এডভোকেট দেলুয়ার হোসেন।টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি একেএম নাছিমুল আখতার জানান, টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া জাকিয়া সুলতানা রুপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন। 

সকাল থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত আইনী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীগণ। এর আগে সকাল ১১টায় টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া রুপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন। মামলার আসামিদের উপস্থিতিতে এই বিচারিক কার্যক্রম চলে। আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীগণের আইনী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ মামলার রায়ের দিন ১২ ফেব্র“য়ারি ধার্য করেন আদালতে বিচারক আবুল মনসুর মিয়া।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রুপাকে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ করে পরিবহণ শ্রমিকরা। বাসেই তাকে হত্যার পর মধুপুর উপজেলায় পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে রুপার মরদেহ ফেলে রেখে যায়। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতেই অজ্ঞাত পরিচয় মহিলা হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে রুপার মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। 

পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে তার ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় গিয়ে ছবির ভিত্তিতে তাকে শনাক্ত করেন। ২৮ আগস্ট এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কের ছোঁয়া পরিবহণের হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা প্রত্যেকেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার আসামিরা প্রত্যেকেই এখন টাঙ্গাইল কারাগারে রয়েছে।