• রবিবার, ২৭ মে ২০১৮, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
  • ||

বিয়ের প্রলোভনে আদিবাসী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ

প্রকাশ:  ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২৩:০২
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রিন্ট
জয়পুরহাট শহরের সাহেবপাড়া মহল্লার ফটিক বশাকের ছেলে পরিমল বশাকের (২৮) বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে এক আদিবাসী তরুণীকে দীর্ঘ দিন ধরে ধর্ষনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর জের ধরে বাধ্য হয়ে ওই তরুনী সামজিক স্বীকৃতি আদায়ে শুক্রবার বিকেলে পরিমলের বাড়ি গেলে তাকে মারধর করে বাড়ির সামনে রাস্তায় ফেলে দেয় পরিমলের পরিবারের লোকজন। রাতে খবর পেয়ে পুলিশ ওই মেয়েটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেয়।

অভিযোগে জানা গেছে, জয়পুরহাট সদর উপজেলার চক গোপাল গ্রামের আদিবাসী পল্লীর মঙ্গলের মেয়ে দিপালী রানী (২৮) বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের জয়পুরহাট অফিসে চাকুরী করতেন। পাশ্ববর্তী সাহেব পাড়া মহল্লার ফটিক বসাকের ছেলে পরিমল বসাক দীর্ঘ ৫/৬ বছর আগে দিপালীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরপর থেকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে পরিমল দীর্ঘ দিন যাবৎ তাকে ধর্ষন করে আসছিলেন। এ অবস্থায় সামাজিক ভাবে বিয়ে করে ঘরে তোলার জন্য দিপালী পরিমলকে অনুরোধ করতে থাকেন। 

এমন অভিযোগ করে দিপালী ও তার পরিবার আরো জানান, উচ্চ শিক্ষিত ও ভালো বেতনের চাকুরী করা দিপালীর জন্য অনেক প্রতিষ্ঠিত পাত্রের সন্ধান পাওয়া গেলেও পরিমল এলাকায় খবর ছড়িয়ে দেয় যে, দিপালী তার বিয়ে করা স্ত্রী। এ অবস্থায় এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হলে দিপালীর পরিবার পরিমলকে বিয়ের জন্য অনেক অনুরোধ করে নিষ্ফল হলে বাধ্য হয়ে দিপালী সামজিক স্বীকৃতির দাবীতে পরিমলের বাসায় যান। 

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরিমল ও তার স্বজনরা দিপালীকে কিল-ঘুঁষি দিয়ে মারপিট করে চুলের মুঠি ধরে ছেঁচরিয়ে রাস্তায় টেনে এনে ফেলে দিয়ে যায়। মেয়েটির আর্ত চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে আসলে পরিমলসহ তার পরিবারের লোকজন পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ এসে দিপালীকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেন।

নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক এলাকাবাসী ও দিপালীর বাবা মঙ্গল জানান, এখন এই আদিবাসী মেয়েটির ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন। এ ব্যাপারে মেয়েটির সামজিক স্বীকৃতিসহ সুষ্ঠ সামধান দাবী করেন এলাকাবাসী।  

জযপুরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেলিম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।