• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

চামেলী খাতুন ও ব্যর্থ ক্রিকেট বোর্ডের গল্প

প্রকাশ:  ৩০ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:৩৩ | আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৮, ২৩:২২
রবিউল কমল
প্রিন্ট

বাংলাদেশের ক্রিকেটে হঠাৎ করেই একটি নাম উচ্চারিত হচ্ছে-চামেলী খাতুন। তাও আবার মুস্তাফিজ আর সাকিবের কারণে এই নামটি ফ্রন্টলাইনে এসেছে। কিন্তু কে চামেলী খাতুন? এই প্রশ্নের উত্তর অনেকেরই জানা নেই। চামেলীর পরিচয় জানতে হলে একটু পেছনে ফিরে যেতে হবে।

এই মেয়েটি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের একজন সাবেক খেলোয়াড়। জাতীয় দলের হয়ে প্রায় একযুগ খেলেছেন তিনি।বর্তমানে দারিদ্রতা তার নিত্যসঙ্গী। দারিদ্রতা তাকে এতটাই আপন করে নিয়েছে যে নিজের চিকিৎসাটাও করতে পারছেন না চামেলী খাতুন। অসুস্থ চামেলী একটি ভাঙা ও স্যাতসেতে বাড়িতে বাস করছেন। সেই বাড়িটিও বাধিয়ে রাখার মতো।প্রথম দেখাতেই যে কারও মনে হবে এটি একটি ভাঙা স্তূপ। যে যা ভাবুক সেই স্তূপে দিন কাটে অসুস্থ চামেলীর। তবে এসব কথা হয়তো জানা হতো না যদি না তার পাশে দাঁড়াতেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের দুই তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান এবং মুস্তাফিজুর রহমান। তারা চামেলী খাতুনের চিকিৎসার খরচ বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়া তার পাশে থাকার অঙ্গীকারও করেছেন। এজন্য অবশ্যই এ দুজন প্রশংসার দাবিদার।

তবে প্রশ্ন হচ্ছে জাতীয় দলের একজন সাবেক ক্রিকেটারের পক্ষে যাদের দাঁড়ানোর কথা তারা কেন নিশ্চুপ? তারা কেন এতদিন চামেলীর খোঁজ নেননি? ক্রিকেটে বোর্ডের কর্তাব্যক্তিরা কোথায়? যারা মাইক্রোফোন পেলে কিংবা সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় রাজ্যের বড় বড় বুলি আওড়ান।

তারা কি জানেন না চামেলীর অল্প আয়ে তার চিকিৎসা করা সম্ভব নয়।পায়ের লিগামেন্ট ছেড়া, মেরুদণ্ডে সমস্যা তবুও আনসার ভিডিপির চাকরি করছেন তিনি।তবে বিগত কয়েক মাস সেটাও পারছেন না। পারবেন কীভাবে তিনি তো এখন হাঁটতেই পারেন না। ডাক্তার বলেছেন, চামেলীর দ্রুত চিকিৎসা না করালে পুরোপুরি অক্ষম হয়ে যেতে পারে শরীরের অনেকাংশ।কিন্তু চিকিৎসার জন্য যে লাখ দশেক টাকা দরকার। কে যোগাবে এই অর্থ?

অথচ এই মেয়েটির জন্য কিছুই করেনি বিসিবি। এমন তো নয় যে বিসিবি এটা জানতো না!চামেলী তো বিসিবির কাছেও গিয়েছিল। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিসিবিকে জানিয়েছিলেন, বিসিবি যেন তার পাশে দাঁড়ায়, চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেয়।

কিন্তু কি দাম পেল চামেলীর চোখের পানি? বিসিবির কর্তাদের মন গলেনি এই পানিতে। তার পাশে দাঁড়ায়নি লালসবুজ জার্সির সর্বোচ্চ প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠন বিসিবি। অথচ এই লালসবুজ জার্সি পরেই জীবনের ১২টি বছরে পার করেছিলেন চামেলী। এই জার্সি পরেই মাঠে দৌঁড়েছেন। যে জার্সি ছিল চামেলীর আরাধনা, প্রার্থনা। সেই জার্সি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিসিবি তাকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।

তবে পরিসংখ্যান বলছে বিসিবির এমন আচরণ নতুন কিছু নয়। এর আগেও চোখে কালো চশমা পরেছিল বিসিবি। আপনারা হয়তো সৈয়দ রাসেলের কথা ভুলে যাননি। বাংলাদেশ দলের বাঁহাতি পেসার ছিলেন সৈয়দ রাসেল। দলের অনেক জয়ে তার অবদান ছিল মনে রাখার মতো। অথচ এই ক্রিকেটার পায়ের অপারেশন করাতে পারছিলেন না টাকার অভাবে। তিনি বিসিবির কাছে অসহায়ের মতো হাত পেতেছিলেন। কিন্তু বিসিবি তার পাশে দাঁড়ায়নি।বিসিবি হয়তো ভেবেছিল রাসেল পঙ্গু হয়ে গেলে বাংলাদেশের কোন ক্ষতিই হবে না। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিল রাসেল পঙ্গু হওয়া মানেই একটি পরিবার পঙ্গু হয়ে যাওয়া। তবে তখন রাসেলের পাশে দাঁড়িছিলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি। নিজে টাকা দিয়ে রাসেলকে চিকিৎসার জন্য ভারতে পাঠিয়েছিলেন তিনি। ধন্যবাদ মাশরাফি একজন রাসেলের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

প্রমীলা ক্রিকেটারদের ভবিষ্যত যদি এমন মানবেতর হয় তাহলে ক্রিকেট খেলে লাভ কি? আর বিসিবিরই বা কি প্রয়োজন? যদি তারা এসব ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়াতে না পারে তাহলে এত এত ফান্ড দিয়ে কি হবে? সংবাদমাধ্যমে প্রায়ই পড়ি বিসিবির ফান্ড নাকি ভারত ও অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ডের কাছাকাছি।অথচ বিসিবি কেন এসব ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন না।নাকি আমরা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড না বলে ব্যর্থ ক্রিকেট বোর্ড বলবো? এই প্রশ্ন সব পাঠকের কাছেই থাকলো।

ব্যর্থ ক্রিকেট বোর্ড নিয়ে আর কোনও কথা নাই বা বললাম। তবে সাধুবাদ সাকিব ও মুস্তাফিজকে অসহায় আনসার সদস্য চামেলীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য।ধন্যবাদ মাশরাফিকে, একজন রাসেলকে সুস্থভাবে বাঁচিয়ে রাখার জন্য।

চামেলী খাতুন,মুস্তাফিজ,সাকিব,বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড
apps