• বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১ ভাদ্র ১৪২৫
  • ||

৬৬ জন ফুটবল ফ্যানের প্রাণ হারানোর মঞ্চেই বিশ্বকাপের উদ্বোধন

প্রকাশ:  ১৪ জুন ২০১৮, ২১:০২
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রিন্ট

শুরু হয়ে গেলো ফুটবলের বিশ্বযুদ্ধ৷ আলো ঝলমলে লুজনিকি স্টেডিয়ামে রাত সাড়ে আটটায় উদ্বোধনী ম্যাচে নামবে আয়োজক রাশিয়া ও সৌদি আরব৷ উদ্বোধনের মঞ্চে সেই ম্যাচ দেখবেন ৮০ হাজার দর্শক৷ টানটান ৯০ নব্বই মিনিটের শেষে কেউ কেউ হইহই করতে করতে বাড়ির পথ ধরবেন৷ আবারও কারও কারও সম্বল হবে শুধুই চোখের জল৷

কিন্তু মস্কো শহরের এই গ্র্যান্ড স্পোর্টস এরিনায় এমন একদিন গিয়েছে, যেদিন মাঠ থেকে কেউই হাসিমুখে বেরতে পারেননি৷ বরং কেউ কোনও মতে বাড়ি ফিরেছিলেন৷ কারও আবার ঠাঁই হয়েছিল হাসপাতালে৷ আর ৬৬ জন মাঠ থেকে আর বেঁচে ফিরতে পারেননি৷ চলে গিয়েছিলেন চিরঘুমে৷

এই ঘটনা ১৯৮২ সালের৷ সেদিন লুজনিকি স্টেডিয়ামে উয়েফা কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের একটি ম্যাচ ছিল৷ রাশিয়ার এফসি স্পার্টাক সেদিন খেলতে নেমেছিল ডাচ ক্লাব এইচএফসি হারলেমের বিরুদ্ধে৷

ম্যাচ যখন একেবারে শেষের পথে, তখন গ্যালারি ছাড়তে শুরু করেন দর্শকরা৷ বাড়ি ফেরার জন্য মেট্রো ধরতে ম্যাচ শেষের আগেই দর্শকদের একাংশ স্টেডিয়াম ছাড়তে শুরু করছিলেন৷ আর তাতেই সমস্যা তৈরি হয়৷ শুরু হয়ে যায় হুড়োহুড়ি৷ মাঠে তখন বরফ পড়ছিল৷ সিঁড়িতে সেই বরফে পা পিছলে একজন পড়ে যান৷ তার পরই বিপত্তি ঘটে৷ আরও অনেকে পড়ে যান৷ হুড়োহুড়িতে অনেকে পদপিষ্ট হন৷ বহু দর্শক আহত হন৷ মৃত্যু হয় ৬৬ জন ফুটবল ভক্তের৷

এদিন লুজনিকি স্টেডিয়াম উদ্বোধনের আনন্দে মাতলেও সেদিনের সেই আতঙ্কের স্মৃতি এখনও তরতাজা অনেকের কাছে৷ যদিও এই স্টেডিয়ামের সঙ্গে রাশিয়ার ঐতিহ্যও জড়িয়ে রয়েছে৷ ১৯৫৬ সালের ৩১ জুলাই এই স্টেডিয়ামের যাত্রা শুরু৷ তার আগে ১৯৫৫ থেকে ৫৬ সালের মধ্যে টানা সাড়ে চারশো দিন ধরে এই স্টেডিয়াম তৈরি হয়৷

১৯৫২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতিতে অলিম্পিকে ভালো ফল করেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন৷ তার পরই এই স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়৷ এর পর মস্কোতে গড়ে ওঠে একটি গ্র্যান্ড স্পোর্টস এরিনা৷ তার ঠিক মধ্যস্থলে এই স্টেডিয়াম অবস্থিত৷ গোড়ার দিকে এটার নাম ছিল সেন্ট্রাল লেনিন স্টেডিয়াম৷

১৯৮০ সালে এই স্টেডিয়ামেই শুরু হয়েছিল মস্কো অলিম্পিক৷ শেষও হয়েছিল এখানে৷ এবারও তাই৷ উদ্বোধনী ম্যাচের মতো এখানেই এবারের বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ হবে৷ এছাড়া একটি সেমিফাইনাল, একটি প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল ও তিনটি গ্রুপ লিগের ম্যাচ হবে এই লুজনিকি স্টেডিয়ামে৷

আর এই রাজসূয় যজ্ঞের আয়োজনের জন্য দীর্ঘদিন খেলাও বন্ধ ছিল এখানে৷ ২০১৩ সালের মে মাসে এখানে শেষ ফুটবল ম্যাচটি হয়েছিল৷ তার পর অগস্টে আইএএএফ অ্যাথলেটিক ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয়৷ এর পর শুরু হয় বিশ্বকাপের জন্য স্টেডিয়াম সাজানোর কাজ৷ ২০১৭ সালে শেষ হয় সেই কাজ৷ নতুন ভাবে গড়ে ওঠা স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচ হয় ওই বছরের ১১ নভেম্বর৷ সেটা একটা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ ছিল৷ সেই ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্তিনা ও রাশিয়া৷

এখন ৮০ হাজার লোক ওই স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখতে পারবেন৷ তবে আগে এক সঙ্গে ১ লক্ষ লোক বসে খেলা দেখতে পারতেন৷ কিন্তু ১৯৯০ সালের পর স্টেডিয়াম পুনর্গঠন করে আসন সংখ্যা কমানো হয়৷

তবে এফসি স্পার্টাকের সেই ম্যাচেও প্রায় এক লক্ষ লোক উপস্থিত ছিলেন৷ সেদিনের সেই মর্মান্তিক ম্যাচের পরও ওই স্টেডিয়ামই ছিল স্পার্টাকের হোম গ্রাউন্ড৷ তবে ২০১৪ সালে নিজেদের স্টেডিয়াম তৈরি করে নেয় তারা৷ যদিও সেই মর্মান্তিক স্মৃতি এখনও দগদগে স্পার্টাক সমর্থকদের মনে৷ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে তাই তাঁরা সেই আতঙ্ককে অবশ্যই ভুলে যেতে চাইবেন৷ /এস কে