• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

বাইশগজ সাক্ষী বাঙালির প্রেমের

প্রকাশ:  ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:৫৯
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রিন্ট

প্রেম এমন এক মেডিসিন যেটা এক্সপায়ারি ডেটের পরও কাজ করে যায়৷ যিনি সদ্য প্রেমে পড়েছেন, যার প্রেমিক/প্রেমিকা চিরাচরিত প্রশ্নের উত্তরে বহু কাঙ্খিত ‘হ্যাঁ’ টি বলে দিয়েছেন কিংবা যার প্রেম সদ্য সদ্যই ‘না’ হয়ে গেছে দু’রকমের মানুষেই ‘প্রেমের ফ্রেমে’ বন্দি৷

‘প্রেম’ শব্দটিকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিচ্ছেন যিনি আর ‘প্রেম’ শব্দটা শুনলেই রাগে দাঁত মুখ খিঁচিয়ে কামড়াতে আসেন যে ভদ্রলোক দুজনেই কিন্তু ‘প্রেম’ নিয়ে সমান কৌতুহলী৷ আর যদি সেই প্রেম হয় আপনার, আমার প্রিয় স্পোটর্স পার্সনের! তাহলে তো কথাই নেই৷ ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’তে সে রকম একজন ভীষণ প্রিয় খেলোয়াড়ের ‘ভালোবাসার গল্প’ রইল পাঠকদের জন্য৷

হালে বিরুষ্কার প্রেম ও বিয়ে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়াতে সাড়া পড়ে গেছিল৷ ভারতের ক্রিকেট ও সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির এই জুটির প্রেম ও বিয়ে সবার কৌতূহলের বিষয় ছিল৷ কিন্তু এই লেখাটা বিরাট –অনুষ্কাকে নিয়ে নয় বরং কলকাতার এক বিখ্যাত স্পোর্টস আইকনের ‘লাভ স্টোরি’৷

আশির দশকের মাঝামাঝি-১৯৮৫ সাল৷ ২/৬ বীরেন রায় রোড কলকাতা-৮ এর পাশাপাশি দুটি বাড়িতে বড় হচ্ছিল দুটি ছেলেমেয়ে৷ ছেলেটির চোখ ফুটবল খেলতে যাওয়ার সময় কিংবা স্কুল থেকে ফেরার সময় ঠিক খুঁজে নিত রেলিং-এ দাঁড়ানো পাশের বাড়ির মেয়েটিকে৷ মেয়েটিরও আস্তে আস্তে ভালো লাগতে শুরু করেছিল ছেলেটির নিষ্পাপ চোখ দুটোকে৷ কিন্তু দুই তরফের পরিবারের মধ্যে বহু পুরনো পারিবারিক বিবাদ৷ ঠিক যেন কলকাতার বুকে এক টুকরো শেক্সপিয়রের ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’৷

যাই হোক ছেলেটি তখনও স্পোর্টস আইকন হয়ে উঠেনি, তবে ময়দানে ফুটবল পায়ে নিয়ে দৌড়তে শিখে গিয়েছে৷ ঠিক এই সময় ভালোলাগার ফুটবল ছেড়ে দাদার পরামর্শে ক্রিকেট ব্যাট হাতে তুলে নেওয়া এবং কিছুটা সময় পেরিয়ে ব্রিসবেনে ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দলের জার্সি চাপানো৷ বাকিটা ইতিহাস৷

সৌরভ চন্ডীদাস গাঙ্গুলি, যিনি ভারত এবং বিশ্ব ক্রিকেট প্রায় একটা দশক ধরে শাসন করেছেন রাজকীয় ঢঙে৷ লর্ডসের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে জার্সি উড়িয়ে দাদাগিরি করে এসেছেন৷ স্টেপ আউটে বেরিয়ে এসে একের পর এক ‘বাপি বাড়ি যা’ ছক্কা হাঁকিয়েছেন৷ তখন বেহালার সেই পাশের বাড়ির মেয়েটি কোথায়? অবশ্যই তিনি রয়েছেন৷ ততদিনে সৌরভের শৈশবের প্রেম স্বীকৃতি লাভ করেছে প্রেমিকার৷ কিন্তু এবার বেঁকে বসেছেন পরিবার৷ পুরনো বিবাদ৷ দু’তরফই ‘না’ এ আটকে৷ কিন্তু এবারও নিজের প্রেমের জন্য বুক চিতিয়ে দাঁড়ালেন মহারাজ৷ বাড়িতে না জানিয়েই রেজিস্ট্রি করলেন ডোনা রায়কে৷ ব্যাপারটি গোপন রাখলেন বাড়িতে অনেকদিন পর্যন্ত৷

বিয়েটা জানাজানি হওয়ার অনেক ‘না’ এর সামনে দাঁড়াতে হয় এই জুটিকে৷ কিন্তু কুছ পরোয়া নহি, দুজন একসাথে পথচলা শুরু করলেন৷ এরপর আস্তে আস্তে তাঁদের ভালোবাসার কাছে হার মানেন দুই পরিবার৷ ২১ বছর বিবাহিত সৌরভ-ডোনা এখন সুখী দম্পতি৷ তাঁদের ১৭ বছরের মেয়ের নাম সানা৷

/এস কে

apps