• বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৮ ১৪২৫
  • ||
  • আর্কাইভ

নিজেকে প্রমাণ করার কিছু নেই জিদান

প্রকাশ:  ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:০৭
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রিন্ট

পরপর দু’বছর ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন তাঁর হাত ধরেই। এ বার তা জিততে পারলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের হ্যাটট্রিক হবে জিনেদিন জিদানের ও রিয়াল মাদ্রিদের। কিন্তু চলতি মৌসুমে হঠাৎই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোদের ছন্দ পতন। তার পরে প্রশ্ন উঠছে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজি'র বিরুদ্ধে যদি রিয়ালের অভিযান শেষ হয়ে যায়, তা হলে কি রিয়াল মাদ্রিদ ম্যানেজার হিসেবে চাকরি বজায় থাকবে জিনেদিন জিদানের।

রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বারনাবুতে বুধবার রাতে গ্যারেথ বেল-দের প্রতিপক্ষ নেইমার, কাভানি-দের পিএসজি। সেই ম্যাচ খেলতে নামার আগে জিদান যদিও এ সব চিন্তা আনছেন না। বরং বলছেন, ‘‘আমার প্রমাণ করার কিছু নেই। লোকে আমাদের সম্পর্কে কী বলছে তা আমি পরিবর্তন করতে পারব না। আমি যে কাজটা করছি, সেটা আরও ভাল ভাবে করার চেষ্টা করতে পারি। বাকিটা আমার হাতে নেই।’’ সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন, ‘‘পিএসজি-র বিরুদ্ধে আমার নতুন কিছু করার দরকার আছে বলে মনে করি না। একটা বিষয় দরকার। তা হল ম্যাচটায় গভীর ভাবে মনোনিবেশ করা। সেটাই এই মুহূর্তে একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ কাজ আমার কাছে।’’

দু’বছর আগে তিনি ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদ কর্তা এবং সমর্থকদের কাছে চোখের মণি। কিন্তু রিয়ালের সেই বিশ্বকাপ জয়ী ফরাসি ম্যানেজার চলতি মৌসুমে রাতারাতি পরিণত হয়েছেন খলনায়কে। নেপথ্যে, লা লিগায় শীর্ষে থাকা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার থেকে ১৭ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে লিগের আশা শেষ হয়ে যাওয়া। তার পরে কোপা দেল রে-তেও লেগানেস-এর কাছে হেরে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায়। তাই ফুটবল দুনিয়ার অনেকের কাছেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদ-পিএসজি-র প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ জিদানের কাছে এক অর্থে নাকি ফাইনাল।

যা শুনে জিদান বলছেন, ‘‘আমার কাছে সব ম্যাচই সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে কী হবে তা নিয়ে ভাবার সময় নেই। এটা আমার কাছে মোটেও ফাইনাল ম্যাচ নয়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ হিসেবেই দেখছি।।’’ সঙ্গে রসিকতার মেজাজে বলে দিয়েছেন, ‘‘দু’টো পর্বে ১৮০ মিনিট খেলতে হবে পিএসজি-র বিরুদ্ধে। তাই মাঠে নেমে কী ভাবে ভাল খেলতে পারব, সেটা নিয়েই ভাবছি। কোনও চাপ নেই। বরং জিজ্ঞাসা করুন আমাদের নিয়ে পিএসজি চাপ অনুভব করছে কি না।’’

২০১৫-১৬ মৌসুমে জিদান যখন রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নেন তখন রিয়ালের জয়ের পরিসংখ্যান হার ছিল প্রায় আশি শতাংশের কাছাকাছি। পরের মৌসুমে তা কমে দাঁড়ায় সত্তর শতাংশের কিছু বেশি। আর চলতি মৌসুমে এখনও পর্যন্ত সেই হার ষাট শতাংশের সামান্য বেশি। কেন রিয়ালের হয়ে পরপর দু’টো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং একটি লা লিগা খেতাব জয়ের পরে চলতি মৌসুমে ছন্দপতন জিদানের দলে?

নেই কোনও বড়সড় চোট-আঘাত, ফুটবলারদের মধ্যেও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সে ভাবে প্রকট নয়। বিশাল কোনও ভুল নেই জিদানের ট্যাকটিক্সেও। তা হলে তৃতীয় মৌসুমে এসে জিদানের দলের  হলটা কী? কারণ হিসেবে প্রথমে যদি উঠে আসে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর অফ ফর্মে থাকা। তা হলে সঙ্গে জুড়ে যাচ্ছে, দল ছেড়ে যাওয়া পেপে, হামেস রদ্রিগেজ, আলভারো মোরাতা-দের সঠিক বিকল্প এখনও খুঁজে না পাওয়া। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক দলবদলের বাজারে ইউরোপের অন্য ক্লাবগুলো যখন নতুন ফুটবলার দলে নিয়েছে, তখন কেন জিদান এ ব্যাপারে নিশ্চুপ রইলেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

চার বছর আগে এ রকম পরিস্থিতিতে লা লিগায় তৃতীয় স্থানে শেষ করেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। এ বার কি সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে? প্রশ্ন করা হলে নিস্পৃহ থাকছেন জিদান। বলছেন, ‘‘মাঠে নেমে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। তার জন্য যতটা চাপ অন্য ম্যাচে থাকে, সেটাই রয়েছে। এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।’’ মার্সেই-তে জন্ম রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি এই ম্যানেজারের। আর ফরাসি ফুটবলে পিএসজি-মার্সেই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের শত্রুতা গোটা বিশ্বের জানা। তা নিয়েও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মেগা ম্যাচের আগে বলেছেন জিদান। তাঁর কথায়, ‘‘সবাই জানে আমি মার্সেই আমার জন্মস্থান। কিন্তু তার মানে এই নয়, যে সেই মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামব পিএসজি-র বিরুদ্ধে।’’

/এস কে