• রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

চিকিৎসক না দুরুত্ব

প্রকাশ:  ১০ জুলাই ২০১৮, ২১:১১
আতোয়ার রহমান
প্রিন্ট

২০১৫-২০১৬ বছরে শুধু কানাডার অন্টারিও প্রদেশেই ৩ হাজার ৭শ’ মানুষ দুরারোগ্য লিভারের অসুখ হেপাটাইটিস-সি মুক্ত হয়েছে। সারা বিশ্বের কয়েক লক্ষ মানুষ ইতোমধ্যেই নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। বর্তমানে সারা বিশ্বের প্রায় ৭ কোটি মানুষ লিভারের এই মারাত্মক রোগ থেকে মুক্তি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। অথচ ২০১৪ সালেও এই রোগের কার্যকর কোন ওষুধ ছিলনা।

এ জীবনবিনাশি রোগের ওষুধ ‘সোভালদি’র আবিস্কারকের নাম মাইকেল সোফিয়া। আমরা অনেকেই এই মহান মার্কিন চিকিৎসা বিজ্ঞানীর নাম জানিনা। অথচ শুধু আগামী কয়েক বছরেই প্রায় ৭ কোটি লোকের জীবন রক্ষার কারণ হবে তাঁর আবিষ্কৃত এ ওষুধ। আমরা সারা বিশ্বের মানুষ মেসি, নেইমার, সাকিব, মাশরাফির নাম জানি। কিন্তু যে ব্যক্তিটি এত মানুষের জীবন বাঁচালো, তাঁর নামই আমরা জানিনা, তাঁকে নিয়ে মাতা মাতি তো দুরের কথা।

আমরা একজন ডাঃ ইব্রাহিম বা একজন ডাঃ নুরুল ইসলামের চেয়ে একজন নায়ক মান্না বা সালমান শাহ্‌র নাম বেশি জানি, তাঁদের মৃত্যু শোকে অনেকে গলায় ফাঁস দেই। অথচ একজন ডাঃ ইব্রাহিম বা একজন ডাঃ নুরুল ইসলামের মৃত্যুতে আত্মহত্যা না করি, অন্তত একফোঁটা চোখের জল ফেলতে পারি, কিন্তু তাও করিনা। যেটা বলতে চাচ্ছি সেটা হল চিকিৎসা পেশার মত এত মহৎ বা মানব কল্যাণমূলক পেশা দ্বিতীয়টি নেই। অথচ অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, সম্প্রতি দেশের শীর্ষ আদালত তাদের রায়ে বলেছে, সমগ্র চিকিৎসা ব্যবস্থা দুরুত্বপনায় পরিণত হয়েছে। কতিপয় দুরুত্বের কারণে চিকিৎসা সেবার সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

আমরা একদিকে দেখি কিছু ডাক্তার ভাল মানের মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি ও সাপোর্ট স্টাফ না থাকা সত্বেও রোগীর সময় মত চিকিৎসা করে প্রাণ বাঁচাতে সহায়তা করছে, সততার সাথে নিজের পেশাদারিত্বের প্রমাণ দিচ্ছে।

আবার অন্যদিকে দেখা যায় এক ধরনের চিকিৎসক মাফিয়াদের রাজত্ব কায়েম করেছে। অবহেলায়, অপচিকিৎসায় জলজ্যান্ত ভাল রোগীকে মেরে ফেলছে, অপেশাদারিত্বের প্রমাণ দিচ্ছে। কথায় কথায় সিজারিয়ান, অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত টেস্ট দেয়া, অপ্রয়োজনে আইসিইউতে রাখা, মুমূর্ষু রোগিকে কাস্টমার ভাবা, ওষুধ কোম্পানিগুলির সেলস প্রোমোশন অফিসার হিসেবে কাজ করা, দালাল দিয়ে রোগি ধরা, অবহেলা, খারাপ ব্যবহার করে রোগিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া, রোগিকে জিম্মি করে টাকা আদায় করা, লাশ আটকে রেখে বিল আদায় করা ইত্যাদি হাজারো অভিযোগ রয়েছে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে। ডাক্তারদের অবহেলায় আমার অনেক বন্ধু, সহকর্মীর স্বজন হারানোর করুণ কাহিনী শুনেছি, আমার নিজের ভাইকেও হারিয়েছি এক অর্থলোভী, পিশাচ, অপেশাদার ডাক্তারের নিষ্ঠুরতায়।

এই সমস্ত কতিপয় বেলাগাম অর্থলোভী স্বাস্থ্য ব্যবসায়ীদের কারণে সমগ্র চিকিৎসক সমাজকে কসাই উপাধিসহ অনেক অশ্রাব্য ভাষা শুনতে হচ্ছে, রেষারেষি, মারধরের শিকার হতে হচ্ছে। আমরা জানি বেশির ভাগ সন্মানিত চিকিৎসক এ অপকর্মগুলো করেনা। কিন্তু কতিপয় অপকর্মকারিদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে। এটাই শঙ্কার কারণ। এমতাবস্থায় সকল ভাল চিকিৎসকদের খারাপ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সরব হতে হবে। তা না হলে তাদের অপকর্মের দায়ীত্ব সমগ্র চিকিৎসক সমাজের উপর পড়বে। চিকিৎসক পরিষদের নেত্রীবৃন্দকে আলোচনা করে এ সমস্যার নিরসন করতে হবে। তবে এ সংকটের জন্য শুধু ডাক্তারদের দায়ী করলে চলবেনা। সরকারকেও আন্তরিক ভুমিকা রাখতে হবে, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রকে দুর্নীতমুক্ত করতে হবে, জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

ওএফ