• রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

মেধাবীরা ক্ষমতা পেয়ে কান্ডজ্ঞানহীন আচরণ করে তখন দুশ্চিন্তা হয়

প্রকাশ:  ০৭ জুলাই ২০১৮, ১৩:৪৩ | আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৮, ১৪:৪২
অশোক চৌধুরী
প্রিন্ট

নেতৃত্ব দেয়া একটি সৃজনশীল কাজ, যা করতে হলে নেতৃত্ব গুণ থাকতে হয়, না থাকলে এমন দায়িত্বে না আসাই ভালো। দিক বিদিক হাত পা ছড়িয়ে চিৎকার চেচামেচি করলে আর হুমকি ধামকি দেয়া নেতৃত্ব গুণ নয়। আর অমন আচরণ, ব্যবহার করলেই নেতা হওয়া যায় না। নেতার যেমন বজ্র কঠিন স্বভাব দরকার হয় তেমনি বিনয়ও থাকতে হয়।

চিকিৎসা বিজ্ঞান পড়তে আসে মেধাবীরা। কিন্তু তারা যখন ক্ষমতা পেয়ে কান্ডজ্ঞানহীন আচরণ করে, তখন দুশ্চিন্তা হয়, অনেক দুর্ভাবনা আসে মাথায়। চট্টগ্রামে শিশু কন্যা রাইফা মারা গেছে ভুল চিকিৎসায়---এমন অভিযোগ তোলা কি দোষ? রাইফা সাংবাদিকের সন্তান, স্বাভাবিকভাবেই সাংবাদিক পরিবার জোরালোভাবে এই অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখার দাবি তুলেছে। প্রত্যুত্তরে চিকিৎসক সংগঠনের নেতারা বললেন, তারা কোন সাংবাদিক ও তাদের সন্তানদের চিকিৎসা করবে না। সমস্ত হাসপাতাল ও প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করে দেবে। সন্তানহারা পরিবারের পক্ষে দাঁড়ানোর বিপরীতে একজন চিকিৎসক নেতার এটা কি ধরনের জবাব?!

এমন অনাকাঙ্খিত হুঁশিয়ারী সাংবাদিকদের মনে হুল ফুটার যন্ত্রণা দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করতে থাকে সাংবাদিকরা। আমরাতো আর মারামারি করতে পারি না। আমাদের অস্ত্র কলম, তাই ধরলো সাংবাদিকরা। সেই চিকিৎসক নেতা এবার মামলা করার হুমকি দিতে থাকলেন। চিকিৎসকরা সড়ক অবরোধ করলেন। বন্ধ করলেন চিকিৎসা সেবা প্রদান। সমস্ত চিকিৎসকদের ভুল বুঝালেন, নামালেন রাস্তায়।

সাংবাদিকরা কিন্তু একবারও সকল চিকিৎসক বা চিকিৎসক সমাজের বিরুদ্ধে কথা বলেনি। তারা এই মহান পেশার আড়ালে থাকা গুটিকয়েক অসৎ চিকিৎসকের কথা বলেছে। যাদের কারণে, অনেক চিকিৎসকও কিন্তু আমাদের কাছে তাদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরছেন। নেতা হয়ে কে কী করছে সাংবাদিক হিসেবে আমাদের কাছে সেসবের খবর থাকে, আছে। আমাদেরকে শুধু শুধু ভয় দেখানোটা আপনাদের বড় অপচয়, ভয় দেখাবেন না। ভয়হীন চিত্ত আমাদের, ভয় পাই না বলেই আমরা সাংবাদিকতার মত ঝূঁকিপূর্ণ পেশায় সাহস নিয়ে কাজ করতে এসেছি। সাংবাদিকতা কিন্তু সমাজের বৃহৎ কল্যাণে করা হয়, এটাও মহৎ পেশা, তাই উচ্চ শিক্ষা নিয়ে এই পেশাকে ব্রত হিসেবে নিয়েছি। যারা অন্যায় করে, তারা যে পেশারই হোক, যতো শক্তিশালীই হোক, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের কলম থামবে না, লেখনি ক্লান্ত হবে না।

আমরা জানি, নিজেকে বাঁচাতে সবাই শেষ পর্যন্ত সব দোষ সাংবাদিকদের উপর চাপায়। আমাদের ওপরই চাপাবে এক্ষেত্রে, আমাদেরই গালি দেবে। কিন্তু মনে রাখবেন, মানুষ যখন সমাজের কোথাও সমস্যার সমাধান পায় না, প্রতিকার পায় না, সুবিচার পায় না, তখন আমাদের কাছেই আসেন, সাংবাদিকরা মানুষের শেষ আশ্রয়। তখন আমরা আপনাদের পক্ষে কলম খুলি। অতীতের স্মৃতি হাতরে স্মরণ করার চেষ্টা করুন আপনাদের জন্য আমাদের মত সাংবাদিকদের অবদান।

আমরা সাংবাদিক বলে কি আমাদের কোন দুঃখ- কষ্টের অনুভূতি থাকতে পারেনা? আমাদের অনুভূতি বিসর্জন দিয়ে কিন্তু এই পেশায় আসি নি, মনে রাখবেন আমাদের অনুভূতি প্রখর বলেই আমরা অন্যায় দেখলে চুপ থাকতে পারি না। চিকিৎসা সেবা দিয়ে মানুষের কল্যাণ করা যায়, সেটা জানি বলেই আমাদের পরিবারের অনেক সদস্য এই মহান পেশায়ও গেছে। আমরা সবাই যা চাই, আপনাদের কাছে থেকে ন্যূনতম ভালো ব্যবহার। নিজেদের ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থে অন্য চিকিৎসকদের বিভ্রান্ত করা থেকে বিরত থাকুন। এই পেশার প্রতি আপনাদের চাইতে আমাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা কোন অংশে কম নয়।

/পি.এস

ক্ষমতা,চিকিৎসক