• মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ৮ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

সত্য যত কঠিনই হোক, বলে ফেললেই শেষ

প্রকাশ:  ৩১ মে ২০১৮, ০৪:৫৯
জুনায়েদ ইভান
প্রিন্ট

কেউ কোন আবদার নিয়ে এলে '' আচ্ছা দেখি'' জাতীয় জবাব দেয়াটা এক ধরনের চারিত্রিক দুর্বলতা। চক্ষু লজ্জায় কেউ হয়তবা নিজের সীমাবদ্ধতার কথা না ভেবে প্রতিশ্রুতিও দিয়ে ফেলছেন।

আমরা এই ভুলগুলো করি কেননা আমরা হুট করে জবাব দিয়ে ফেলি। একটা জিনিস মনে রাখবেন, যিনি আবদার নিয়ে এসেছেন তিনি কিন্তু আপনাকে বলবার আগে প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে। কতটুকু বলবে, কোন প্রসঙ্গে বলবে, কীভাবে বলবে সবই আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে আসা।

আপনার ক্ষেত্রেও কিছু বলবার আগে সময় চেয়ে নেয়াটা যুক্তি সঙ্গত। সেটা যদি সাধ্যের বাইরে থাকে, ইনিয়ে বিনিয়ে ঘোলা না করে মার্জিত ভাবে পরিষ্কার বলে দিন। করুণাগ্রস্ত অশ্রুসিক্ত চোখের দিকে তাকিয়ে 'না' বলতে পারাটা একটা বড় গুণ। সেটা আয়ত্ত করুন।

আমাদের ভেতরে প্রশংসা করা এবং প্রশংসা না করার একটা বিপরীতমুখী অভ্যাস আছে। আমরা সহজে প্রশংসা করি না। আর যখন করি অযথা বাড়িয়ে করি। কেউ ভালো কিছু করলে সেটার প্রশংসা না করাটা একধরনের হীনমন্যতা আর অযথা বাড়িয়ে প্রশংসা করাটা এক ধরনের চাটুকারিতা। হীনমন্যতা এবং চাটুকারীতা , এ দুটোর মাঝামাঝিও একটা জায়গা আছে। সেখানে থাকাটাই শ্রেয়।

সত্য যত কঠিনই হোক , বলে ফেললেই শেষ হয়ে যায়। মিথ্যের আশ্রয় নেয়া মানে হল ঘটনাটা চলমান। সেটা কখনো না কখনো আপনার ভেতর দিয়ে বয়ে বেড়াবে।

সত্য কঠিন হতে পারে, নিষ্ঠুর হতে পারে, অন্যায় হতে পারে তবু বলে ফেললেই দেখবেন হালকা হয়ে গেছেন। তিতা ওষুধ যেমন পানির সাথে মিশিয়ে এক চুমকে খেয়ে ফেলতে হয় কঠিন সত্য সেরকম দম নিয়ে এক নিমিষে বলে ফেলতে হয়। দম ছাড়ার পর দেখবেন অর্ধেক হালকা হয়ে গেছেন।

সত্য বলার পর কেউ হয়ত আপনাকে অপরাধী ভাবতে পারে, এতে দুশ্চিন্তা কোথায় ? সেটা যদি সত্যই হয়ে থাকে তাহলে আপনি তো অপরাধীই। অন্তত আপনাকে ভুল তো বুঝল না ! নিজেকে শুধরানোর এটাই একমাত্র সুযোগ।

(ফেসবুক স্ট্যাটাস)