• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

পুলিশ পিটিয়ে গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য গ্রাম

প্রকাশ:  ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৪৭ | আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ২৩:৪৬
যশোর প্রতিনিধি
প্রিন্ট

ভুয়া পুলিশ সন্দেহে তিন কনস্টেবলসহ চার জনকে পেটানোর ঘটনার পর থেকে গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়েছে পড়েছে যশোরের ঝিকরগাছার হাঝিরবাগ ইউপির মাটিকোমরা নামে এক গ্রাম।

বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ ৪০/৪৫ জন গ্রামবাসীকে গণগ্রেফতার করলে হয়রানি মূলক গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে গ্রামের সবাই।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে মাইক্রোবাসে করে প্রায় ৫/৬ জন মানুষ মাটিকোমরা গ্রামের আজগর আলীর ছেলে একাধিক মামলার আসামি জহিরুল ইসলামের নিকট এসে ডিবি পরিচয় দিয়ে তাকে সাথে নিয়ে গ্রামের নিরীহ মানুষকে গ্রেফতার এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করা শুরু করে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে এলাকার মাঠে মাদক সেবনকালে গ্রামের কয়েকশ লোক তাদের আটক করে গণধোলাই দেয়। এতে চারজন আহত হয়।

আহতরা হলেন- ডিবির কনস্টেবল মুরাদ হোসেন, শিমুল হোসেন ও মামুন আলী এবং প্রাইভেটকার চালক শাওন। পরে আহতদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এসময় জহুরুল ইসলাম পালিয়ে গেলে তাকে গ্রেফতারের জোর দাবি জানায় গ্রামের শতশত মানুষ। পুলিশ তাকে গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে গ্রামবাসী আশ্বস্ত হয়। মাইক্রোবাস থেকে উদ্ধার হওয়া দেশি অস্ত্র, হকি ষ্টিক, লাঠি, ফেন্সিডিল ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশে সৌপর্দ করে।

এদিকে এই ঘটনার পর থেকে যশোর ও ঝিকরগাছা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করে সারা গ্রামে গণগ্রেফতার শুরু করে পুলিশ। স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন (৪০) ও তার ভাইপো আসাদুল ইসলামকে (৩২) পায়ে গুলি করা হয়। তাদের যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ওই গ্রামের ৪৪ জনকে আটকের কথা স্বীকার করে পুলিশ জানায়, পুলিশ সদস্যদের পেটানোর ঘটনায় শুক্রবার (৯ নভেম্বর) সকালে হাঝিরবাগ ইউপির সদস্য ফারুক হোসেন ও তার ভাইপো আশাদুল ইসলামসহ অর্ধশতাধিক লোককে আটক করা হয়েছে।

তবে, ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনের দাবি, পুলিশ পিটিয়ে তাদের দুজনের পা ভেঙে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, এএসআই আজগর আলীর নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল অভিযানে গিয়েছিল। গ্রামবাসী তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলায় জড়িত ৪০ জনকে গ্রেফতার করেছে।

আহত দু’জন ছাদের ওপর থেকে লাফ দিয়ে পালাতে গিয়ে আহত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, পুলিশ দুজনকে পিটিয়ে জখম করেছে, এ অভিযোগ সঠিক নয়।

পুলিশের অভিযানে ২-৩টি বাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে দাবি করে এলাকাবাসী জানায়, জহিরুল কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছিল। গ্রামে তারা পুলিশ পরিচয়ে নিরীহ লোকজনকে আটক করে অর্থবাণিজ্য করছিল। গ্রামে ছিনতাই, চুরির ঘটনাও বেড়ে গিয়েছিল। এতে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ পরিচয়ে চার ব্যক্তি গ্রামে ঢোকার বিষয়টি টের পেয়ে গ্রামবাসী তাদের ঘিরে ফেলে এবং পরিচয় জানতে চায়। কিন্তু তাদের সঙ্গে কোনও কর্মকর্তা ছিল না। গ্রামবাসীর সন্দেহ হয় তারা ভুয়া পুলিশ। এ নিয়ে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা গুলি ছোড়ে। এতে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ওই চার জনকে পিটুনি দেয় ও একটি প্রাইভেটকার ভাঙচুর করে। ওই বাসে অস্ত্র, মাদকদ্রব্যও ছিল।

তারা জানায়, ভুয়া পুলিশ সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনার পর পুলিশ গ্রামে গণগ্রেফতার করছে। অন্তত ৭০-৮০ জনকে ইতিমধ্যে আটকও করা হয়েছে। এদের মধ্যে মাটিকুমড়া গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় হাজিরবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন ও তার ভাইপো আশাদুল ইসলামকে আটকের পর পিটিয়ে হাত পা ভেঙে দিয়েছে পুলিশ। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

/আইসা

সম্পর্কিত খবর

ভুয়া পুলিশ
apps