• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

ইবির প্রশ্নপত্রে অসঙ্গতির জটিলতায় তদন্ত কমিটি

প্রকাশ:  ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:৪৯
ইবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট

ইসালামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদভুক্ত 'সি' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্রে অসঙ্গতি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় অধ্যাপক ড. জাকারিয়া রহমানকে আহবায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী।

সোমবার সকাল সাড়ে নয়টায় অনুষ্ঠিত ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রে এবং ওএমআর শিটে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। ফলে পরীক্ষা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্রে অসঙ্গতির কারণে ফলাফল নিয়ে শংকায় আছে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। তারা পূণরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

এদিকে ভর্তি পরীক্ষায় ‘সি’ ইউনিটের জন্য গঠিত কোর কমিটি বাতিল করে নতুন একটি কোর কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রেজিষ্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ।

প্রশ্নপত্র ও ওএমআর শিটের মধ্যে অসঙ্গতির জটিলতা নিয়ে গঠিত কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম, আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. জহুরুল ইসলাম, হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন এবং ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ। তদন্ত কমিটিকে আগামী ৫ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

একই সাথে ‘সি’ ইউনিটের জন্য গঠিত কোর কমিটি বাতিল করে নতুন একটি কোর কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে অধ্যাপক ড. জাকারিয়া রহমানকে সমন্বকারী এবং অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান ও অধ্যাপক সাইফুল ইসলামকে সদস্য করা হয়েছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে নয়টায় প্রথম শিফটে 'সি' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রশ্নপত্রে দেখা যায় মোট ৬০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্ন ১ থেকে ৩০ পর্যন্ত ইংরেজী, ৩১ থেকে ৪৫ পর্যন্ত ব্যবসায় শিক্ষা, ৪৬ থেকে ৬০ পর্যন্ত হিসাব বিজ্ঞান বিষয় ক্রমবিন্যাস করা হয়।

তবে ও এম আর শিটে প্রথমে ইংরেজী (১ থেকে ৩০) পরে হিসাব বিজ্ঞান (৩১ থেকে ৪৫) এবং ব্যবসায় শিক্ষা (৪৬ থেকে ৬০) বিষয়টি ক্রমবিন্যাস করা হয়। এতে প্রশ্নপত্র এবং ওএমআর এর সাথে অমিলের বিষয়টি উঠে আসে। তবে শিক্ষার্থীরা জানায় প্রশ্নপত্রে ৩১ থেকে ৪৫ নং এমসিকিউগুলোর ক্রমবিন্যাসে ব্যবসায় শিক্ষা থাকলেও মুলত এগুলো হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ের।

অপরদিকে প্রশ্নপত্রে ৪৬ থেকে ৬০ নং এমসিকিউগুলোর ক্রমবিন্যাস হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ের দেয়া থাকলেও এগুলো মুলত ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ের।

এছাড়াও ২০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের সাথে ওএমআর শিটেরও অমিল পাওয়া যায়। প্রশ্নপত্রে দেখা যায়, ৬১ থেকে ৮০ নম্বর পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নের ক্রমবিন্যাস করা হয়। তবে শিক্ষার্থীরা জানায় যে প্রশ্নপত্রে ৬১ থেকে ৮০ পর্যন্ত ক্রমবিন্যাস করা হলেও ওএমআর শিটে ক্রমবিন্যাস ১ থেকে ২০ পর্যন্ত করা হয়।

তবে পরীক্ষার কেন্দ্রে অসঙ্গতি দেখে তাৎক্ষণিক সমাধান দেয়া হয় বলে জানায় কক্ষ পরিদর্শনকগণ। তারা জানায়, 'প্রশ্নে উল্লেখিত শিরোনামটা (ইংরেজী, ব্যবসায় শিক্ষা, হিসাব বিজ্ঞান) বাদ দিয়ে প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত ক্রমানুসারে উত্তর দিতে বলি। এছাড়াও প্রশ্নপত্রে লিখিত পরীক্ষার ক্রমবিন্যাস ৬১ থেকে ৮০ হলেও তা ওএমআর শিটে অনুযায়ী ১ থেকে ২০ ক্রমানুযায়ী উত্তর দিতে বলি।'

তারা আরো বলেন, 'যদি কোনো কক্ষে নির্দেশনা পৌছানোর আগেই শিক্ষার্থীরা উত্তর দিয়ে ফেলে তাহলে প্রশাসন থেকে আমরা অই কক্ষ গুলোকে শনাক্ত করে রাখছি এ ব্যপারে প্রশাসন পরে সিদ্ধান্ত নেবে।'

তবে বেশ কিছু কক্ষে এই নির্দেশনাটি দেয়া হয়নি বলে জানা গেছে। আবার বিভিন্ন অনুষদে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান ভর্তিচ্ছুরা। যার ফলে তারা ওএমআর বাতিল হয়ে যাওয়ার আশংকা করছি।' একইসাথে বেশকিছু পরীক্ষার হলে ওএমআর শিটে কাটাকাটি করে উত্তর দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। প্রশ্নে ক্রমবিন্যাসে ভুল থাকার পরও ওমএমআর শিটে হিসাব বিজ্ঞানের পরিবর্তে ব্যবসায় শিক্ষা (৩১ থেকে ৪৫) এবং ব্যবসায় শিক্ষার পরিবর্তে হিসাব বিজ্ঞান (৪৬ থেকে ৬০) বিষয়টি সংশোধন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওএমআর শিটে বৃত্ত ভরাট ছাড়া অন্য কোনো দাগ দিলে সে ওমএমআর বাতিল বলে গন্য করা হবে। যার ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের ওএমআর বাতিল হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় ভুগছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী বলেন, ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা কমিটি সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ভর্তি পরীক্ষায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এ জটিলতার তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করবে।’

ওএফ

ইবি
apps