• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

হৃদপিণ্ডের শব্দ

প্রকাশ:  ০৪ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:৩৩ | আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ০৭:১৭
পূর্বপশ্চিম সাহিত্য
প্রিন্ট

মূল: এডগার অ্যালান পো, ভাবানুবাদ: বিপুল হাসান

সত্যিই... থর থর কাঁপছিলাম আমি, অস্বীকার করবো না। আচমকা নতুন কিছুর মুখোমুখি হলে চমকে ওঠাই স্বাভাবিক। তাই বলে আমাকে তুমি উন্মাদ বলতে পারো না! কারণ নিজের উপর আমার শতভাগ নিয়ন্ত্রণ আছে। আমার অনুভূতি, স্মৃতি বা উপলব্ধি কোনোটাতেই মরচে ধরেনি। বিশ্বাস করো, সব ঠিক আছে। বরং আমার কান আগের চেয়ে অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠেছে। আমার শ্রবণশক্তি কয়েকগুণ বেড়েছে। যোজন যোজন দূর থেকে অজানা সব শব্দ আমার কানে ভেসে আসে। আমি এমন কিছু শুনতে পাই, যা তোমার কেউ কোনোদিন শুনোনি। বিশ্বাস হচ্ছে না, আমাকে পাগল ভাবছো? মোটেও আমি তা নই, এর প্রমাণ চাইলে আমার গল্পটা তোমাদের মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে।

ফিস ফিস, চোখ টেপা, ইশারা-ইঙ্গিত সব বন্ধ। সব একদম চুপ। গল্পটা শোনো।

আমাকে খুনটা করতেই হবে, এই ভাবনা কবে কখন কিভাবে মাথায় ঢুকেছে তা বলতে পারবো না। কাকে খুন করবো? ওই বুড়ো লোকটাকে। যার প্রতি কোনো বিদ্বেষ-ঘৃণা কখনও ছিল না। বরং বৃদ্ধ মানুষটাকে যথেষ্ট পছন্দই করতাম। আমার সঙ্গে কখনও খারাপ ব্যবহার করেনি, কখনও বকাও দেয়নি। বুড়োটা বিত্তবান, কিন্তু ওই বিত্তের প্রতি আমার বিন্দু পরিমাণ লোভ ছিল না। সব দোষ আসলে তার একটা চোখের। উফ, কি ভয়ংকর ফ্যাকাস নীল ওই চোখের মনি। ঠিক যেন শকুনের চোখ। আর ভয়াল সেই চোখের দৃষ্টি, শকুন যেমন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মৃত পশুদের দিকে তাকিয়ে থাকে। বুড়োটা আমার দিকে তাকালেই শীতল স্রোত অনুভব করি ধমনিতে। প্রখর গরমে বইতে থাকে হিম হিম হাওয়া। বরফের মতো জমে যেতে থাকি। বিশ্বাস করো আর নাইবা করো, কেবল সেই বিভৎস দৃষ্টি থেকে বাঁচতেই তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিতে হয় আমাকে।

শোনো, বোকার মতো আমাকে উন্মাদ মনে করো না। মস্তিষ্ক বিকৃত কারও পক্ষে নিখুঁত খুনের পরিকল্পনা করা কী সম্ভব, তুমিই বলো? আমার পরিকল্পনা কতোটা সুক্ষ ছিল শুনলে তুমি অবাক হবে। লোকটাকে হত্যার মিশনে আমি এগিয়েছি ধীর পায়ে।

আমার পাষাণ বুকে কখনো কোনো মমতা অনুভব করিনি। কিন্তু বুড়োটার প্রতি মমতার মায়াজাল ছড়িয়ে দেই খুনের আগে। টানা একসপ্তাহ তার প্রতি গভীর অান্তরিকতা দেখাই। অবশ্যই সেটা ছিল ভান। প্রতিদিন গভীর রাতে তার ঘরের চৌকাঠে গিয়ে দাঁড়াতাম। নি:শব্দে দরোজার খিল খুলতাম। একটা কপাট সামান্য সরিয়ে আগে আমার মাথা ঢুকাতাম, এরপর ধীরে ধীরে পুরো শরীর। অামার হাতে সবসময় থাকতো কালো কাপড়ে ঢাকা একটা হারিকেন।। দেখলে তোমার চোখ নির্ঘাৎ কপালে উঠতো, বাজি ধরে বলতে পারি এতো সতর্কতার সঙ্গে কেউ কারো ঘরে প্রবেশ করেনি। ঘরে ঢুকে হারিকেনের কাপড়টা আস্তে আস্তে সরিয়ে নিতাম। সলতের শিখা থেকে সরু একটা আলোর রেখা কৌশলে বুড়োর শকুন-চোখের উপর ফেলতাম।

টানা সাত রাত এই কাজটা আমাকে করতে হয়েছে। দূর্ভাগ্য আর কাকে বলে! বুড়োর অভিশপ্ত চোখটা প্রতিবারই বন্ধ পাই। নিস্ফল হয় আমার উদ্দেশ্য। কারণ,লোকটার উপর তো আমার রাগ নেই; সব রাগ তার বিভৎস চোখটার উপর। সকালে বুড়োটার ঘরে ঢুকে কণ্ঠে দরদ ঢেলে জানতে চাইতাম, রাতে ঘুম কেমন হলো? শরীরের যত্ন নিচ্ছেন তো? বেচারা নিশ্চিত কল্পনাও করেনি যে, এই আমি সারারাত তার ঘুমন্ত মুখের দিকে চেয়ে থাকি একটা কুটিল কাজের নেশায়।

কেটে গেলো সাতটি রাত, কিন্তু কাজ তো হলো না। অষ্টম রাতে বুড়োর ঘরের দিকে পা রাখতেই অন্যরকম একটা অনুভূতি আমার ভেতরে টের পাই। আগের চেয়ে বাড়তি সতর্কতায় দরোজা খুলি। পেয়ে যাই মুক্তির সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ঘড়ির কাটা মিনিটের বৃত্ত পাড় হওয়ার আগেই দানবিক শক্তি আমার ভেতর ভর করে। অট্টহাসিকে বাগে আনতে হয় অনেক কষ্টে। বোধহয় খানিকটা হেসে ওঠেছিলাম, নয়ত লোকটা নড়ে উঠবে কেন? পঞ্চমীর চাঁদ ডুবে যাওয়া রাতে ঘরটা ছিল গাঢ় অন্ধকারে অাচ্ছন্ন। বুড়োটা আবার চোরের ভয়ে ঘরের দরজা-জানালা সব আটকে রাখতো। আমি নিশ্চিত যে লোকটা দেখেনি, নিঃশব্দে তার কপাট খোলার মতো আমকেও। হারিকেনের কাপড়টা সরিয়ে শকুন-চোখে আলো ফেলার ঠিক আগে, বুড়ো অাঁতকে উঠলো। বিছানায় উঠে বসে আতঙ্কের চাপা কণ্ঠে বলে ওঠলো, কে? কে ওখানে?

আলকাতরার মতো সেই অন্ধকারে আমাকে দেখার উপায় তার ছিল না। নিঃশ্বাসের শব্দ আটকে নিশ্চল হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ি। ঘণ্টাখানেক একটুও নাড়াচাড়া না করে স্থির দাঁড়িয়ে থাকি। এই লম্বা সময় বুড়োটাও কিছু একটা অনুভব করার চেষ্টা করতে থাকে। তার শুয়ে পরার শব্দ আমার কানে আসেনি। একসময় তাকে গুঙিয়ে ওঠতে শুনি। বিষণ্ন সেই গোঙানির মধ্যে ছিল মরনের সুর। আমার ভেতরের উপচানো হাসি রুখতে আমি কসরত চালিয়ে যাই।

বুড়ো তার দু’চোখের পাতা এক করতে পারেনি, বুঝতে পারছি। প্রথমে সে ভেবেছে, ধূর কিসের শব্দ? কিসের কি! সবই মনের ভুল। একটু পরেই আবার ভেবেছে, শব্দ তো একটা হয়েছেই। হয়তো ইদুঁর, মেঝের ওপর দৌড়ে পালিয়েছে। কিংবা ঝিঁঝিঁ পোকা, একবার ডেকেই হয়তো থেমে গেছে। তবে কোনো স্বান্তনা তাকে সত্য থেকে আড়ালে রাখতে পারেনি। কিছু না দেখেও, কিছু না শুনেও বুড়ো টের পেয়ে গেল, ঘরে ঢুকেছে মৃত্যুদূত। কাজেই কাজটা আমাকে শুরু করতেই হলো।

হারিকেনের ওপর থেকে মোটা কালো কাপড়ের আবরণটা অাস্তে আস্তে সরিয়ে নিলাম। সলতের সরু আলোর শিখাটা ফুলকির মতো বুড়োর শকুন চোখে গিয়ে পরল। ওটা খোলা ছিল। ওই চোখ ছাড়া জগতের আর সব কিছু ছিল অন্ধকারে ঢাকা। তার নিস্পলক চোখে দেখলাম বিভৎস সেই দৃষ্টি।একলাফে বেড়ে গেল আক্রোশ।

তোমাকে তো অাগেই বলেছি, আমার শ্রবণশক্তি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এটা শুরু হয় ঠিক এখান থেকেই। আমি শুনতে পাই একটা মৃদু ভোঁতা আওয়াজ। দেয়ালের ওপাশে রাখা দেয়াল ঘড়ির শব্দ যেমন, অনেকটা সেইরকম। ওটা যে বুড়োর হৃদপিণ্ডের শব্দ, তা কাউকে বলে দিতে হলো না। যুদ্ধক্ষেত্রে দামামা যেমন সৈনিকের রক্ত গরম করে তোলে, বুড়ো লোকটার হৃদপিণ্ডের শব্দে আমার বাড়তে থাকে ক্রোধ। হয়তো সেটা ক্রোধের চেয়েও বড় কিছু ছিল। নারকীয় ক্রোধে আমি কাঁপতে থাকি, কেঁপে যায় আমার হাতের আলোর শিখাটাও। বুড়োর নীলাভ চোখে আলোর শিখাটা স্থীর রাখতে চেষ্টা বৃথাই চেষ্টা করি। এ আলো নিভলেই ব্যর্থ হবো, ধরা পড়ে যেতেও পারি। এটা ভাবতেই অবর্ণনীয় আতঙ্কের স্রোত ছড়িয়ে যায় আমার শিরায় শিরায়! নিশুতি রাতের শেষ প্রহরে ক্রোধ আর অাতঙ্কের ঠোকাঠুকি নিয়ে ঘরের ভেতর ঝাঁপিয়ে পড়ি।

হারিকেনটা একপাশে রেখে বুড়োটাকে একপলক দেখে নিই। চুরি যাওয়া আলোতে ভয়ে কুঁকড়ে অাছে লোকটা। আমাকে চিনতে পেরেছে কি পারেনি ঠাহর পেলাম না। দেখলাম মাথার ওপর বিছানার চাদরটা তুলে ধরা সে আত্মরক্ষার চেষ্টা করলো। খড়কুটোর মতোই সেই প্রতিরোধ ভেঙে বুড়োকে বিছানায় ঠেসে ধরলাম। লাফ দিয়ে তার বুকে বসে ভারি বালিশটা চেপে ধরলাম নাকেমুখে। দুর্বল বুড়ো কিছুক্ষণ হাতপা ছুঁড়ে ক্ষ্যান্ত দিলো। কিন্তু তার হৃদপিণ্ডের শব্দ থামলো না। ধিক ধিক শব্দটা স্তব্ধ হতে অনেকটা সময় নিল। আমি নিশ্চিত হতে তার বুকের বামপাশটায় কান রাখলাম। পুরোপুরি নিঃশব্দ। বুড়ো লোকটা মারা গেছে। তার শরীরটা ঠান্ডা হতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেল তার দেহ। আমার ভেতর কিযে প্রশান্তি, বুড়োর ওই ভয়ংকর শকুন-চোখ জ্বালাবে না আমাকে আর কখনো কোনো দিন।

এবার বলো, এমন নিখুঁত খুন করার পরও কি তুমি আমাকে পাগল বলবে? লাশ গুমের জন্য আমি কি কি করেছি তা জানলে আমাকে আর পাগল বলতে পারবে না। রাতের শেষপ্রহরে বুড়োটাকে মারি। ভোর হয়ে আসছিল। তাই দ্রুত নিঃশব্দে কাজ করে যাই। একদম ঠান্ডা মাথায় প্রথমে লোকটার মাথাটা কেটে শরীর থেকে আলাদা করলাম। দুই হাত আর দুই পা- আলাদা আলাদা করে কাটলাম। কাটাকাটির কাজটার সময় খুবই সতর্ক ছিলাম, যাতে একফোটা রক্ত মেঝেতে না পড়ে। এরপর কাঠের তৈরি মেঝে থেকে তিনটা তক্তা খুলে নিলাম। বুড়োর দেহের খন্ডিত অংশগুলো ভেতরে ফেলে তক্তাগুলো আগের মত বসিয়ে দিলাম। কাজটা এতো গুছিয়ে করলাম যে বাজি ধরে বলতে পারি, এখানে যে কিছু রাখা কারও চোখেই ধরা পড়বে না। সবশেষে বুড়োর বাথটাবে গিয়ে অামার গায়ের সব দাগ ধুয়ে মুছে একদম ফ্রেশ হয়ে যাই।

নিজের কাজে সন্তুষ্ট হয়ে যখন আমি তৃপ্তির ঢেকুঁর তুলতে থাকি, অমনি দরোজায় ঠক ঠক। ভোরের আলো তখনও ফুটেনি। কিছুক্ষণ আগে ঘড়িতে শুনেছি ঢংঢং ক’রে চারবার ঘণ্টি বেজে ওঠার শব্দ। এই আধো অন্ধকারে দরোজায় কে নক করে! আমি তো এখন ভাবনাবিহীন, ভয়ের কিছু নেই। নির্ভয়ে দরজাটা খুলতেই তিনজন পোশাকধারী লোক। তারা যে পুলিশ তা আমাকে বলে দিতে হলো না। পাশের এক প্রতিবেশী নাকি এ ঘরে কারও আর্তনাদ শুনে পুলিশে খবর দিয়েছে। তারা তদন্তে এসেছে। ঘরটা তল্লাশি করবে, আর ঘরের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

আমি হেসে ওঠলাম। বললাম, প্রতিবেশি ঠিকই শুনেছেন।চিৎকারটা আমি নিজেই দিয়েছি। দুঃস্বপ্ন দেখে ভয় পেয়ে চিৎকারটা দেই। তবু আপনারা ভেতরে আসুন। তাদের নিয়ে ঘরে ঢুকলাম। নিজে থেকেই বললাম, এটা আমার বাসা নয়। এ বাসার বুড়ো লোকটা তার এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে গ্রামে বেড়াতে গেছেন।বাসার পাহাড়ায় রেখে গেছেন আমাকে। আমি তাদেরকে পুরো বাড়ির সবকিছু ঘুরে ঘুরে দেখালাম। সবশেষে পুলিশদের নিয়ে এলাম বুড়োর বেডরুমে। আমি এতোটাই আত্মবিশ্বাসী যে, চেয়ার টেনে ওদের ওই ঘরেই বসতে দিলাম। আমি নিজে বসলাম, মেঝের নিচে যেখানে বুড়োকে লুকিয়ে রেখেছি ঠিক সেখানটায়। জানাতে চাইলাম, তাদের আরও কিছু জানার বা বলার আছে কিনা।

আমার আন্তরিক ব্যবহার আর স্বাভাবিক কথবার্তায় তারা সন্তুষ্ট হলো। আমার বানিয়ে বলা গল্পটাও পুলিশের লোকগুলি বিশ্বাস করলো। জানালো ভোরের আলো ফুটে ওঠার জন্য আরেকটু বসতে চায়। আমি সানন্দেই তাদের বসতে বললাম। তারা নিজেরেই নিজেদের মধ্যে গল্প শুরু করলো, আমিও তাদের সঙ্গে আড্ডায় যোগ দিলাম। কিন্ত হঠাৎ করেই আমার কেমন জানি লাগতে শুরু করলো। একটা অস্বাভাবিক মৃদু শব্দ কানে আসছে, এই শব্দটা আমার পরিচিত।

নিজের মধ্যে অস্বস্তি টের পেলাম। মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারছি, কি হচ্ছে এসব! অস্বস্তি কাটাতে আমি জোরে জোরে বেশি বেশি কথা বলতে লাগলাম। যতো সময় যাচ্ছে শব্দটা ততোই স্পষ্ট হচ্ছে। আমার চেহারাটা ফ্যাকাশে হয়ে গেল। আমার সামনে বসা পুলিশ সদস্যরা পরিবর্তনটা টের পেয়ে গেছে কি? বাইরে ভোরের আলো ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে, কিন্তু ঘরের ভেতর চাপা অন্ধকার। নিশ্চয় তারা আমার মুখটা ঠিকমত দেখতে পাচ্ছে না। কিন্তু শব্দ, শব্দতো বাড়ছে। ঘড়ির কাঁটার শব্দ যেমন দেয়াল ভেদ করে কানে আসে, ঠিক তেমনই শব্দ হচ্ছে। আমার চেনা শব্দটা বাড়তেই থাকলো। পুলিশরা কি শব্দটা শুনতে পাচ্ছে, এখন না পেলেও একসময় ওরাও শুনবে। বাইরে আলো ফুটেছে তবু তারা যাচ্ছে না কেনো?

আমি শব্দটাকে চাপা দিতে ওঠে দাঁড়ালাম। কাঠের মেঝেতে পায়ের শব্দ তুলে পায়চারি শুরু করলাম। কিন্তু একি! ওই শব্দটা তো কমছে না, বরং বাড়ছেই, বেড়েই চলেছে। পুলিশরা কি শব্দ শুনতে পাচ্ছে না? শব্দ বাড়ছে, শব্দের উৎস লাশ পোঁতা ওই জায়গাটা। কিন্তু তারা শোনতে পাচ্ছে না, এটা হতে পারে না। ভয়ংকর শব্দটা ঢাকতে আমার চেয়ারখানা তুলে আছাড় দিয়ে ভাঙলাম, সেই তিন তক্তার ওপর। ওদের বিস্ফোরিত চোখের সামনে অামি আঙুল তুলে চিৎকার করে বললাম, ওইখানে বুড়োটাকে খুন করে গুম করেছি আমি।

আমি বলে যাই, ওটা মানুষ ছিল না, আসলে ডাঁহা শয়তান। মেরে কেটে টুকরো টুকরো করে লুকিয়ে রেখেছি। তবু ওর হৃদপিণ্ডের শব্দ থামলো না। শব্দ থামাও, শব্দ থামাও।

ঠিক তখনই হঠাৎ শব্দটা থেমে গেল, আমারও প্রাণ জুড়ালো।

[দি টেল-টেইল হার্ট গল্পের ভাবানুবাদ]

লেখক পরিচিতি

রহস্য রোমাঞ্চ গল্প-উপন্যাস জগতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী একটি নাম এডগার অ্যালান পো। একাধারে মার্কিন কবি, গল্পকার, সম্পাদক ও সাহিত্য সমালোচক। বৈচিত্র্যময় জীবনের অধিকারী এই প্রতিভাবান সাহিত্যিকের সারা জীবন কাটে নানা রকম যন্ত্রণা, আর্থিক দৈন্যদশা ও মানসিক অস্থিরতার মধ্যে। বিশ বছর বয়স হবার আগেই লেখালেখি শুরু করেন। বিশ্বসাহিত্যে এলেন পোকে বলা হয় ডিটেকটিভ ফিকশনের জনক। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁর অবাধ বিচরণ থাকলেও ছোট গল্প লিখেই বিশ্ব সাহিত্যে নিজের আসন পোক্ত করেন। সমালোচকদের দৃষ্টিতে তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গল্পকারদের অন্যতম ছিলেন। তিনিিই প্রথম আমেরিকান লেখক যিনি বই লেখে জীবিকা নির্বাহ করেছিলেন। মূলত; আর্থিক অনটন থেকে বাঁচতেই লেখালেখি করতেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অসংযমী। ১৮৪৯ সালের ৩ অক্টোবর অ্যালান বাল্টিমোরে রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন

এনই

apps