• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

ঢাকার রাস্তায় বৃদ্ধাকে ফেলে গেলো স্বজনরা, ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশ:  ০২ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে সড়কের ধারে ফেলে গেছে স্বজনরা। শুক্রবার (২ নভেম্বর) দিনভর এমনি এক ভিডিও ঘুড়ে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে।

হাসিবুল হাসিম নামের এক ব্যক্তি তার ফেসবুক ওয়ালে একটি ভিডিও পোষ্ট করে লিখেছেন, রাজধানীর মিরপুরের ষাট ফিট রাস্তার ধারে একজন প্রবীণ মা’কে ফেলে রেখে গেছে তার পরিবারের সদস্যরা। কখন থেকে সে রাস্তার কোনায় পড়ে আছে কেউ জানে না। তবে ঐ রাস্তা দিয়ে সকাল ৮টায় বাসা থেকে বের হয়ে জহুরা দেখতে পায় বৃদ্ধাকে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, কিছু লোক সেই বৃদ্ধ মহিলাকে রিক্সা থেকে নিয়ে একটি ঘরের ভিতর যাচ্ছেন।

পাঠকদের জন্য স্ট্যটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো: “মিরপুরে ষাটফিট রাস্তার ধারে একজন প্রবীণ মা’কে ফেলে রেখে গেছে তার পরিবারের সদস্যরা। কখন থেকে সে রাস্তার কোনায় পড়ে আছে কেউ জানে না। তবে ঐ রাস্তা দিয়ে সকাল ৮টায় বাসা থেকে বের হয়ে জহুরা দেখতে পায় বৃদ্ধাকে।দুপুর ৩টায় যখন জহুরা বাড়ী ফেরে তখন দেখতে পায় একদল পথের মানুষ বৃদ্ধাকে নিয়ে জড়ো হয়ে আছে, ঘটনা জানতে কাছে যায় সে। জানতে পারে বৃদ্ধার নাম, আমেনা খাতুন, বয়স আশির উপরে তো হবেই।প্রায় ঘন্টাখানিক রাস্তার মানুষ কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারে নি এই বৃদ্ধাকে কি করবে।

জহুরা তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক মহিলাকে নিয়ে বৃদ্ধাকে রিকশা করে নিয়ে আসে বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘে।প্রবীণ হিতৈষী সংঘে সাধারনত এ ধরনের পরিচয়হীন পথপ্রবীণদের রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই।তাই নীচে বসে থেকে তারা চলে যায়।আমি যথারীতি আমার কাজ শেষ করে প্রবীণ হাসপাতাল থেকে সাড়ে তিনটায় বের হচ্ছি।গেটের দাঁড়োয়ানের কাছে শুনতে পেলাম ঘটনাটি।ততক্ষনে তারা রিকশায় প্রবীণকে নিয়ে চলে গেছে।কোন পথে গেছে শুনে নিয়ে বাইক দিয়ে খুঁজতে লাগলাম সেই প্রবীণকে। কিছুক্ষন খোঁজার পর পেয়েও গেলাম।জহুরা কোনো উপায় না দেখে রাস্তায় যেখান থেকে বৃদ্ধাকে কুঁড়িয়ে নিয়ে এসেছিলো, সেখানেই রাখতে যাচ্ছিলো।

হৃদয়বিদারক ঘটনাটি নিজ কানে শুনলাম, বৃদ্ধার সাথে কথা বললাম।কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ফোন দিলাম কিন্তু কেউই এ ধরনের প্রবীনের দ্বায়িত্ব নিবে না।আমিও কোনো উপায় খুঁজে বের করতে পারছিলাম না।ভাবলাম থানায় নিয়ে পুলিশের হেফাজতে দিয়ে আসি তারা কোনো সেল্টার হোমে রাখবে হয়তো।থানায় যাওয়ার সময় পেয়ে গেলাম বাইগামের সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা সুমন ভাইকে, তাকে আমাদের সাথে যেতে বলতেই তিনিও না করলেন না। যথারীতি সবাই মিলে বৃদ্ধাকে নিয়ে গেলাম শের-ই-বাংলানগর থানায়।

কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার সব শুনে শেষমেষ জানালো তারাও কিছু করতে পারবে না।তাদের কিছু করতে হলে কোর্টের অর্ডার লাগবে, এই বৃদ্ধাকে কোর্টে পাঠাতে হবে, তারা জানালো আপনারা যা ভালো বুঝেন করেন, তারা কিছু করতে পারবেনা।মনটাই খারাপ হয়ে গেলো,এই বৃদ্ধাকে নিয়ে এখন কি করি।চারদিকে যতো সোর্স আছে সবকটি সোর্সে খোঁজ লাগালাম। শেষতক জানতে পারলাম, কল্যানপুরের পাইকপাড়ায় চাইল্ড এন্ড ওল্ড কেয়ার নামে একটি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের প্রবীণদের রাখা যায়।সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মিল্টন ভাইয়ের সাথে ফোনে কথা বললাম।তিনি জানালেন তার প্রতিষ্ঠান এ ধরনের মা-বাবাদেরই দ্বায়িত্ব নিয়ে থাকে।

সন্ধ্যা হয়ে গেছে, আমরা সবাই একটি স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারলাম, সবাই বৃদ্ধাকে নিয়ে রওনা দিলাম কল্যাণপুরের পাইকপাড়ার উদ্দেশ্যে। সেই প্রতিষ্ঠানের সবাই আমাদের সাদরে গ্রহন করলো, বৃদ্ধাকে যত্ন করে নিয়ে গিয়ে একটি বিছানায় শুইয়ে দিলেন কর্তব্যরতরা।ওখানে গিয়ে চোখে পানি চলে এলো, এরকম আরও একত্রিশ জন মা-বাবা রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটিতে।মিল্টন ভাই তাদের সবাইকে মা ও বাবা বলেই ডাকেন।

এই পথপ্রবীণের একজন লোকাল গার্জেন লাগবে, তার লোকাল গার্জেনের দ্বায়িত্বটা আমিই নিলাম। একটা আলাদা শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে মিল্টন ভাইকে জড়িয়ে ধরলাম,কি অসাধারন কাজ করছেন তিনি।তাকে দেখে নিজেকে অনেক ক্ষুদ্র মানুষ মনে হলো।

ওখান থেকে ফিরছি, বাইকে ফিরতে ফিরতে বারবার মনে হলো কে বলে ভালো মানুষ নেই, আমি তো যেখানেই যাই সেখানেই ভালো মানুষে ঠাঁসা আমাদের দেশটা,যে রিকশাওয়ালা বৃদ্ধাকে নিয়ে আজ ঘন্টা চারেক ঘুরলো, তার চোখের কোনেও পানি জমে ছিলো,সেও বৃদ্ধাকে ছেড়ে যেতে চাচ্ছিলো না,সাদা মনের সাদামাটা মানুষ।আমাদের দেশটাকে আমাদেরকেই তো পাল্টাতে হবে।

আসুন আমরা প্রবীণদের ভালোবাসি, আসুন আমরা প্রবীণ বন্ধু হই।

আমরাই তো বাংলাদেশ।

(ভিডিওটি শেয়ার করে বৃদ্ধার ছেলে মেয়েকে খুঁজে পেতে সহায়তা করুন। অামি তাদের পিতা-মাতার ভরণ পোষন অাইনটি পড়ে শোনাতে চাই)”

/এসএফ

ভিডিও ভাইরাল,ফেসবুক,বৃদ্ধা মহিলা
apps