• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোড়া মবিলের প্রতিবাদ

প্রকাশ:  ২৯ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:২০
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

সংসদে পাস হওয়া ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ এর কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ আট দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট আজও চলছে। রোববার (২৮ অক্টোবর) সকাল ছয়টা থেকে এই ধর্মঘট শুরু হয়। যা চলবে মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ছয়টা পর্যন্ত।

ধর্মঘটের প্রথম দিন রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে নৈরাজ্য কায়েম করেছে পরিবহন শ্রমিকরা। পরিত্যক্ত পোড়া মবিল আর অালকাতরার টিন হাতে নিয়ে তারা ত্রাস সৃষ্টি করেছে সড়কে সড়কে। ধর্মঘটের মধ্যে সড়কে গাড়ি বের করলেই চালকদের মুখে মবিল-আলকাতরা মেখে দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। দেশের যেকোনো আন্দোলনে এরকম ঘটনা এবারই প্রথম।

এই পোড়া মবিল মুখে দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ফেসবুকে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তানভির নামে এক ব্যক্তি তার ওয়ালে লিখেছেন, ‘পরিবহন শ্রমিকরা তাদের ৮ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করছেন রোববার সকাল থেকে। ধর্মঘট চলাকালে যাত্রাবাড়ী এলাকায় একজন প্রাইভেটকার চালকের মুখে আন্দোলনকারীরা পোড়া মবিল মেখে দেন। শুধু যাত্রাবাড়ী নয়, পোড়া মবিল মেখে দেওয়া হয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজের বাসের চালকের মুখে, আক্রান্ত হয়েছে কলেজের ছাত্রীরা। মৌলভীবাজারে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। কর্মবিরতির সময় ওই অ্যাম্বুলেন্সকে বাধা দেন শ্রমিকেরা। পোড়া মবিলে আক্রান্ত মুখগুলোতে আমি আমার নিজের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেয়েছি। রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসেবে আমি এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্তদের শাস্তি দাবি করছি। হোক প্রতিবাদ।’

তার এই পোস্টের উপর অনেকে মন্তব্য করেছেন। একজন লিখেছেন-‘এমন অরাজকতা আমার বাংলাদেশেই সম্ভব।’ অপর এক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন ‘শাস্তি চাই’।

আর একজন মন্তব্য করেছেন, ‘আর কয়দিন পরে মুখে আর কি মাখাবে ওইসব সন্ত্রাসীরা? অনেকেই বলে দলের চেয়ে দেশ বড় আর দেশের চেয়ে দেশের জনগণ বড়! সবই কি নষ্টদের অধিকারে চলে যাচ্ছে? আজ সাধারণ মানুষের মুখে যারা মবিল দিল তাদের নেতাদের, মদদকারিকে সবাই জানে, জেনেও চুপ। সরকারের এই নতজানু ভূমিকায় আমি লজ্জিত, জাতির মুখে মবিলের কালি, কার কাছে প্রকাশ করবো এই ধিক্কার, আমাদের কথা শোনার মতো কেউ আছে কি?’

আর একজন তানভীর আহমেদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেছেন ‘সহমত। হোক প্রতিবাদ’।

পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতির নামে ‘পোড়া মবিল সন্ত্রাস’থেকে রক্ষা পায়নি নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীরাও। কলেজ বাসে হামলা চালিয়ে পরিবহন শ্রমিকরা ছাত্রীদের গায়ে পোড়া মবিল লেপন করেছে। ভাংচুর করেছে বাসের গ্লাস। এসময় ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে রোববার দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সাইনবোর্ড এলাকায় একটি পাম্পের কাছে। পরে বাসটি সেখানে থামিয়ে দিয়ে আর যেতে দেয়নি।

অপর দিকে মেহেদী হাসান পলাশ নামের আরও একজন ব্যক্তি ফেসবুকে তার ওয়ালে পোড়া মবিল দিয়ে আঁকা সরকারের নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের একটি প্রতীকি ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘মাধ্যম পোড়া মবিল’

পরিবহন শ্রমিকদের আট দফা দাবি হলো- সড়ক দুর্ঘটনায় মামলা জামিনযোগ্য করতে হবে; শ্রমিকদের অর্থদণ্ড ৫ লাখ টাকা করা যাবে না; সড়ক দুর্ঘটনা তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখতে হবে; ড্রাইভিং লাইসেন্সে শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি করতে হবে; ওয়েটস্কেলে (ট্রাক ওজন স্কেল) জরিমানা কমানোসহ শাস্তি বাতিল করতে হবে; সড়কে পুলিশের হয়রানি বন্ধ করতে হবে; গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের সময় শ্রমিকদের নিয়োগপত্র সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সত্যায়িত স্বাক্ষর থাকার ব্যবস্থা করতে হবে; সব জেলায় শ্রমিকদের ব্যাপকহারে প্রশিক্ষণ দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করতে হবে এবং লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।

সম্প্রতি সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ আইন সংসদে পাশ হয়েছে। আইন পাশ হওয়ার পর থেকেই শ্রমিক ফেডারেশন আইনের বিভিন্ন ধারার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে আসছিল।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পর-পর বেশ কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। তখন নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে সরকার আইনটি প্রণয়ন করে।

/এসএফ

পরিবহন আইন,পোড়া মবিল
apps