• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

হঠাৎই মইনুল হোসেন ঐক্যফ্রন্টে বিলয় হয়ে গেলেন কী করে বুঝতে পারলাম না

প্রকাশ:  ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:১১
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম
প্রিন্ট

২৮ অক্টোবর রবিবার, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার প্রতিবাদ-প্রতিরোধে জাতীয় মুক্তিবাহিনীর প্রতিরোধ যোদ্ধাদের এক সভা আহ্ববান করা হয়েছে। এজন্য যতটা সম্ভব যাদের তালিকা ছিল তাদের সবাইকে ডাকযোগে পত্র দেওয়া হয়েছে। যখন লিখছি তখনো কেউ একটি পত্রও পায়নি। অথচ পুরো এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেল। মনে হয় আজকালের মধ্যে তারা অবশ্যই চিঠিপত্র পাবে। বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর নির্বাসিত জীবনে ৫০ পয়সা ডাক টিকিটে ভারতে প্রায় ৭০ হাজার চিঠি পেয়েছি। যার ৫৪-৫৫ হাজার চিঠির উত্তর দিয়েছি। ব্যক্তিগত পত্র লেখায় মহাত্মা গান্ধীর পরই বা কাছাকাছি আমার জায়গা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাইলে যাদের যাদের বলতে হয় তাদের বার বার বলেছি। সর্বশেষ ৩ অক্টোবর ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ চেয়ে তাঁর তেজগাঁও দফতরে চিঠি দিয়েছি। এ ছাড়া ইমেইল তো আছেই। আজ ২২ অক্টোবর, আজও কোনো উত্তর পাইনি। একজন নাগরিক হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুবই বিশ্বস্ত স্নেহধন্য হিসেবে কিছুটা খারাপ তো লাগেই।

বিজয়া দশমীতে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিকে ফোন করেছিলাম। দু-তিনবার রিং হতেই তাঁকে পেয়েছিলাম। আমি তাঁর কী কুশল কামনা করব, তিনিই আমার, ছেলেমেয়ে, স্ত্রী, দেশের মানুষ সম্পর্কে অনেক কথা বলছিলেন। বলছিলেন, ‘পুজো সেরে এইমাত্র কলকাতায় এলাম। একটু পরই দিল্লির প্লেন ধরছি।’ খুবই ভালো লেগেছে তাঁর সহমর্মিতা। আরও ১৫-১৬ জনকে ফোন করেছি। একটি ফোনেও ব্যর্থ হইনি। কিন্তু বাংলাদেশে যে কী হয়েছে কিছুই বুঝতে পারি না। গত সপ্তাহে শেরপুর, নালিতাবাড়ী, হালুয়াঘাট, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শ্যামগঞ্জ গিয়েছিলাম। শ্যামগঞ্জ তাত্রাকান্দা রজব আলীর বাড়িতে কমান্ডার জীতেন ভৌমিক এক অসাধারণ মতবিনিময়ের ব্যবস্থা করেছিল। বড় ভালো লেগেছে। রজব আলী ’৭৬-এ পাঁচগাঁও যুদ্ধে শহীদ হয়েছে। একজন শহীদ প্রতিরোধ যোদ্ধার বাড়িতে তার কথা স্মরণ করতে পেরে যারপরনাই ভালো লেগেছে। শেরপুরে শুধু মতিয়া চৌধুরীর জন্য দারুণ তাচ্ছিল্য পেয়ে ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা সার্কিট হাউসে অসাধারণ সেবাযতে মনপ্রাণ ভরে গিয়েছিল। সুকুমার সরকারের সমন্বয়ে কয়েক শ প্রতিরোধ সংগ্রামীকে নিয়ে মতবিনিময় খুব ভালো হয়েছে। অনেকেই জানার চেষ্টা করছে ওই মাহেন্দ্রক্ষণে ২৮ অক্টোবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে পাওয়া যাবে কিনা। সে ব্যাপারে আজও আমি কিছুই জানি না। যদি পাওয়া যায় সাদরে গ্রহণ করব।

অনেক সময় কিছু কিছু কথায় বেশ মজা পাওয়া যায়, বিস্ময়ও লাগে। বছর কয়েক আগে বগুড়া গিয়েছিলাম ’৭৫-এর প্রতিরোধ যোদ্ধা যুবলীগের সভাপতি আমার প্রিয় শহীদ আবদুল খালেক খসরুর ছেলে আবদুল নাসের মাহমুদের বিয়েতে। মাহমুদকে খালেক তার মায়ের পেটে রেখে শহীদ হয়েছিল। বাবার অনুরোধে খালেকের ছোট ভাই পাইলট খাজা ভাবিকে বিয়ে করে ওরা দারুণ সুখী হয়েছে। ফেরার পথে কী নিয়ে দীপ-কুঁড়ি-কুশি খুব খলবল করছিল। দীপ আর কুঁড়ির কথার মাঝে কুশি বেশ চিৎকার-চেঁচামেচি করছিল। একবার দুই হাতে ভাইয়ের গাল আবার বোনের দুই গাল চেপে ধরে বলছিল, ‘কোনো অসুমিনা নাই, কোনো অসুমিনা নাই।’ অসুবিধাকে কুশি প্রায় দুই বছর অসুমিনা বলত। ঠিক কুঁড়িও তেমন করেছিল। কুঁড়ির যখন পাঁচ-ছয় বছর, দীপের তখন ১০-১১। লাগাতার তিন-চার বছর ছেলেমেয়ে নিয়ে শহীদ মিনারে ও বাংলা নববর্ষে রমনা বটমূলে গেছি। আসলে সে জীবনই ছিল আলাদা। ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখ। রাস্তায় তিল ধরার স্থান থাকত না। মানুষ আর মানুষ। আমার মেয়ে কুঁড়িও আলতো আলতো স্বরে বার বার বলত অববর্ষ। সেও প্রায় দুই-তিন বছর নববর্ষকে অববর্ষ বলেছে। আমি যখন একেবারে ছোট তখন গøাসকে গেজাল, পানিকে মাজুল বলতাম। আমরা ছিলাম গ্রামের। আমার গেজাল মাজুল বলা আর আমার ছেলে-মেয়েদের নববর্ষকে অববর্ষ, অসুবিধাকে অসুমিনা সে অন্য কথা। একই রকম এক ঘটনা। সেদিন বাবর রোডের বাড়িতে মা’র লাগানো নারিকেল গাছের পাশে বারান্দায় বসে পত্রিকা পড়ছিলাম। ঝিরঝির বাতাসে নারিকেল গাছের পাতা নড়ছিল। মনে হচ্ছিল যেন মায়ের হাতের অঙ্গুলি পরশে হৃদয়-মন নেচে উঠছে। এক পুরনো কর্মী পাশে বসে পেপার পড়তে পড়তে একসময় বলল, ‘দাদা, জানেন। সেদিন ছাত্রলীগের এক নেতা বলল, এখন খালি খালি আওয়ামী লীগাররাই আওয়ামী লীগ করে। পাবলিক আর আওয়ামী লীগ করে না।’ কথাটা শুনে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম, বলে কী! এমন ধ্রুবতারার মতো সত্য একজন ছাত্রলীগ নেতার কণ্ঠে, ‘শুধু শুধু আওয়ামী লীগাররা আওয়ামী লীগ করে। কোনো পাবলিক করে না।’ চমক ভাঙতে কয়েক দিন লেগেছে। সামর্থ্য থাকলে শুধু এ কথার জন্য তাকে সম্মানজনক পুরস্কার দিতাম। সত্যিই কখনো কখনো কিছু কিছু কথা কামানের গোলার চাইতেও শক্তিশালী হয়।

সেদিন মানিকগঞ্জ থেকে এক প্রবীণ মাস্টার বসির উদ্দিন বাচ্চু এসেছিলেন তার একগাদা কবিতা দেখাতে। সবই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে, জননেত্রীর ছেলে জয়, মেয়ে পুতুল কাউকে বাদ দেননি। আমিও আছি তাতে। আমাদের দেশে বেশি লোকই একদিকদর্শী। পেছনের দিকটা বা উল্টো দিকটা ভেবে দেখে না। তাকে বলেছি, শুধু বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবার নিয়ে লেখার জন্য আপনি হয়তো এখনো কোনো সাড়া বা প্রশংসা পাবেন না। কিন্তু তাদের অবস্থান নষ্ট হলে মারাত্মক কষ্টে পড়বেন। সেই ভদ্রলোকই বলছিলেন, ‘গত সংখ্যায় এক মিসকিনের কথা লিখেছেন।’ কথাটা সত্য। অনেক সময় ফকির-মিসকিনরা মসজিদের সামনে বসে বসে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। খাবারের পয়সাও জোটে না। কিন্তু কোনো ক্লাব বা ওই ধরনের কোনো জায়গায় গিয়ে বসে কখনো সখনো গভীর রাতে যারা বের হয় তারা যদি তাল সামলাতে না পারে পকেট খালি করে দিয়ে যায়। আমি শুনেছি, মাতলামিতেও নাকি একটা মজা আছে। আর নেশা গ্রহণ করলে নিজেকে অনেকেই সম্রাট বাবর, আকবর, শাহজাহান ভাবে। ভদ্রলোকের নাকি আমার উপমাটা খুবই ভালো লেগেছে। পাঠকদের ভালো লাগার জন্যই লিখি। যখন যা লিখি পবিত্রতার সঙ্গে লিখবার চেষ্টা করি, আন্তরিকতার সঙ্গে ইবাদতের মতো বিশ্বাস করে লিখি।

গত কয়েকদিন জাতীয় রাজনীতি নিয়ে মারাত্মক ডামাডোল চলছে। প্রবীণ মানুষ ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী এ দেশের একজন প্রাতঃস্মরণীয় ডাক্তার। তার চিকিৎসায় দেশ উপকৃত। ভারতবর্ষে ডা. বিধান চন্দ্র রায় ছিলেন চিকিৎসাশাস্ত্রে একজন দিকপাল। তিনি রোগীর চোখ-মুখ দেখে চিকিৎসা করতে পারতেন। আমার দাদা আলাউদ্দিন সিদ্দিকী, বাবা মৌলভী মুহাম্মদ আবদুল আলী সিদ্দিকীরও চিকিৎসা করেছিলেন। ভারতবর্ষে বিধান চন্দ্র রায়ের চাইতে জনদরদি জাদুকর চিকিৎসক দ্বিতীয় কেউ ছিলেন না। বাংলাদেশে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর মাঝে আমি বিধান চন্দ্র রায়ের প্রতিচ্ছবি দেখি। বিএনপির সঙ্গে মতবিরোধ হলে রাষ্ট্রপতি পদে ইস্তফা দিয়ে বিকল্পধারার জš§ দিয়েছিলেন। কী দুর্ভাগ্যের! সেই বিকল্পধারা থেকে বিকল্পধারার প্রতিষ্ঠাতা বদরুদ্দোজা চৌধুরী, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, যুগ্মসম্পাদক মাহী বি. চৌধুরীকে বহিষ্কৃত কয়েকজন মিলেমিশে বহিষ্কার করেছেন! বদরুদ্দোজা চৌধুরীর প্রতিষ্ঠিত দল থেকে কেউ বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বহিষ্কার করতে পারেন কিনা এটা বিশ্লে­ষণের ব্যাপার। দলের কাঠামো থাকলে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা যদি তলবি সভা করে, তারা যদি সেখানে প্রতিষ্ঠাতাকে বাদ দেওয়ার মতো শক্তিশালী, সংখ্যাগরিষ্ঠ গঠনতন্ত্রমতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো হন তাহলে অবশ্যই পারেন। কিন্তু কারও কোনো ইঙ্গিতে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়াই গণতন্ত্র ধ্বংসের নামান্তর।

গত পরশু গিয়েছিলাম নাটোরের গুরুদাসপুর। জনসভা হয়েছে বড়াইগ্রামের কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। বনগ্রাম মোড়েই কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বড় ভালো লেগেছে। আমাদের বহুদিনের নেতা গুরুদাসপুর চাচকৈর বাজারের শহীদ মুন্সী। এক কথায় বলতে গেলে শহীদ মুন্সী আমাদের ওই অঞ্চলের নেতা। নেতা কী, প্রধান নেতা। গত পরশু নাটোর যাতায়াত দুটোই ছিল আনন্দদায়ক। শহীদ মুন্সীর বাড়িতে খাবার খেয়ে সভাস্থলে পৌঁছেছিলাম ঠিক ৪টায়। গুরুদাসপুর থেকে দু-তিন শ মোটরসাইকেল, অর্ধশতাধিক গিয়ারের গাড়ি, সিএনজি আয়োজনের কোনো শেষ ছিল না। বহুদিন পর একটা বেশ আনন্দদায়ক জনসভা হলো। সেখানে আবার শহীদ মুন্সীর ছেলে আবদুল্লাহ ও মেয়ে আমেনাও ছিল। আসরের নামাজ মাঠের পাশেই আমিনা হাসপাতালে আদায় করে সভামঞ্চে যেতেই দেখলাম কিছু মুক্তিযোদ্ধা মাথায় টুপি দিয়ে সভায় এলেন। উদ্যোক্তাদের তাদের বসার ব্যবস্থা করতে বলেছিলাম। উত্তর পাশে মাথায় গামছা বাঁধা কিছু কর্মী ছিল। মেয়েদের পাশে বসা কর্মীদের চেয়ার পেতে সুবিধা হবে এজন্য সেখানে বসাতে বলেছিলাম। কিন্তু না, একজন গামছা বাঁধা নেতা বা কর্মীও চেয়ার ছাড়তে উৎসাহী নন। আমার মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের স্রষ্টা মুক্তিযোদ্ধাদের কার আগে কে চেয়ার দেবে এ নিয়ে হুড়োহুড়ি পড়ে যাবে।

কিন্তু না, তেমন কিছুই হয়নি। বড় ব্যথা পেয়েছি। আমি বেঁচে থাকতেই মুক্তিযোদ্ধাদের এই দশা, মরে গেলে কেমন কী হবে? একজন মুক্তিযোদ্ধা বক্তৃতা করেছেন। তার দৃষ্টিতে চমৎকার। আমার কাছেও ভালো লেগেছে। কিন্তু তার কথার অর্থ অনেকটাই জননেত্রীকে সমর্থন করা। কেন করা তা বুঝিয়ে বলতে পারেননি। সারা দেশে বহু মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লে­ক্স হয়েছে। কিন্তু বড়াইগ্রামে হয়নি এটা তার আফসোস। আমি বলেছি যাতে খুব তাড়াতাড়ি বড়াইগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লে­ক্স হয় তার জন্য আমার পক্ষে যতটা যা করা সম্ভব করব। বাংলাদেশ খুবই ছোট দেশ। ঘুরেফিরে সবার সঙ্গে সবার দেখা হয়। তেমনি এক ঘটনা। মঞ্চে আমার পাশে বসেছিলেন রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান। প্রায় ২৫ বছর আগে রাজাপুরে এক জনসভায় গিয়েছিলাম। তখন বিএনপির আমল। আওয়ামী লীগ সব ইঁদুরের গর্তে লুকিয়ে। গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামের এমপি আবদুল কুদ্দুস নিয়ে গিয়েছিলেন। বিএনপি আওয়ামী লীগকে কোথাও মিটিং করতে না দিলেও আমার মিটিংয়ে তেমন উচ্ছৃঙ্খলতা করেনি। বড়াইগ্রামের রাজাপুর মিটিংয়েও নয়। সেদিন সে মিটিংয়ে সভাপতি হওয়ার লোক পাওয়া যাচ্ছিল না। জোর করে সিদ্দিকুর রহমানকে সভাপতি করা হয়েছিল। তার বাড়িতেই খেয়েছিলাম। তার দুটো মেয়েকে বড় ভালো লেগেছিল। আমার মেয়েদের মতোই অপূর্ব। তাদের ভালো ঘরে বিয়ে হয়েছে শুনে খুব খুশি লাগল। ভদ্রলোক সিদ্দিকুর রহমান বলছিলেন, ‘আপনি এসে আমাদের ঘর থেকে বের করে দিয়েছিলেন আজ আমরা তার ফল ভোগ করছি।’ ঠিক আছে। কারও না কারও পরিশ্রমের ফল কেউ না কেউ ভোগ করবেন এটাই নিয়ম। ফেরার পথে শহীদ মুন্সীকে প্রাণভরে দোয়া করে এসেছি, আল্লাহ যেন তাকে রহম করেন, দয়া করেন।

সামনে নির্বাচন। সবখানেই উত্তেজনা। বিশেষ করে ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে বড় কাড়াকাড়ি, টানাটানি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে আরও। এসবই হওয়ার কথা। অর্থবহ একটা জাতীয় ঐক্যের চেষ্টা দীর্ঘদিনের। সেই প্রচেষ্টায় এ দেশের সাংবাদিকতার প্রবাদপুরুষ মানিক মিয়ার ছেলে মইনুল হোসেনকে খুব একটা দেখিনি। কী করে হঠাৎই তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বিলয় হয়ে গেলেন বুঝতে পারলাম না। তবে সেদিন এক নারী সাংবাদিককে চরিত্রহীন বলে তিনি খুব একটা ভালো করেননি। আমরা গরিব মানুষ। সারা জীবন গাধার খাটুনি খেটে এতদূর এসেছি। বিশিষ্ট সাংবাদিক মানিক মিয়া সোনার চামচ মুখে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে না এলেও মইনুল হোসেন ও আনোয়ার হোসেন সোনার চামচ মুখে নিয়েই জন্মেছিলেন। কষ্ট কাকে বলে খুব একটা দেখেননি। মুক্তিযুদ্ধের সময় ইত্তেফাক পুড়ে দেওয়ায় তাদের প্রতি জাতি যেমন সম্মান দেখায়, তেমনি কদিন পর পাকিস্তানি টাকায় দ্বিগুণ-তিন গুণ উৎসাহে ইত্তেফাক চালু করে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে লেখা দারুণ পীড়াদায়ক। সিরাজ ভাইয়ের হত্যার সঙ্গে মইনুল হোসেনরা জড়িত এ কথা পুব দিক থেকে চাঁদ উঠলেও আমি বলব না বা মানব না।

কিন্তু ইত্তেফাক পুড়ে দেওয়ার পর কেন পাকিস্তানিরা তাদের তিন গুণ-চার গুণ বেশি টাকা দিয়ে সর্বাধুনিক মেশিন এনে চালু করেছিল এমন প্রশ্ন তো সবার মনেই জাগে। মেয়েদের যত সম্মান করা যায় ততই ভালো। দেখতে শুনতে মইনুল হোসেন বেঁটেখাটো হলেও অসাধারণ। একবার তার বাড়ি গিয়েছিলাম। আমার তো বেহেশত দেখার সৌভাগ্য হয়নি। বেহেশত মইনুল হোসেনের বাড়ির মতো হবে কিনা, নাকি আরও সুন্দর। বঙ্গভবন, গণভবন, ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন, প্রধানমন্ত্রীর ভবন, তাজমহল, রেডফোর্ট, ফতেপুর সিক্রি এসব স্থাপত্যের চাইতে মইনুল হোসেনের বাড়ি একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো নয়। তবে এত সুন্দর মানুষ কথাবার্তা কিন্তু তাদের দুই ভাইয়েরই অত সুন্দর নয়। তাদের কথাবার্তায় তারা যে শব্দ ব্যবহার করেন অন্য কোনো শিক্ষিত মানুষ কখনো সেসব শব্দ জীবনে একবারও ব্যবহার করেছেন কিনা সন্দেহ। গালাগালের ক্ষেত্রে কেউ তাদের কাছে জিততে পারবে না। কেন এমন হয় কেন এমন হয়েছে জানি না। কিন্তু একজন মহিলা সাংবাদিককে ওভাবে চরিত্রহীন বলায় তার যদি যাবজ্জীবন কারাদন্ডও হয় আমি মনে করব কম হয়েছে। সাংবাদিক তো মোটেই অসত্য বলেননি। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভায় যে মধুর বচন দিয়েছিলেন তা ধ্রুবতারার মতো সত্য। রাজনীতি করতে গেলে পিঠের চামড়া একটু মোটা হতে হয়। বিত্তের সাগরে হাবুডুবু খাওয়া মানুষ তো তাই দরিদ্রের কশাঘাতে জর্জরিত হননি সেজন্য এমন দাম্ভিকতা। আমি সারা দেশের এমনকি বিশ্বের বিবেকবান পুরুষের পক্ষ থেকে মইনুল হোসেনের শাস্তি চাই।সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন।

লেখক : রাজনীতিক ।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম
apps