• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

তসলিমা এবার মাসুদা ভাট্টিকে ভয়ংকর মিথ্যুক চরিত্রহীন বললেন

প্রকাশ:  ২২ অক্টোবর ২০১৮, ২৩:১২ | আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৮, ২৩:৪৫
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

মাসুদা ভাট্টি 'জবাব' দিয়েছে। জবাব তো নয়, আবারও এক রাশ মিথ্যের কলস উপুড় করেছে। আমি তাকে আমার পাবলিশার হিসেবে বা ফ্যান হিসেবে পরিচয় করিয়েছি, বড় ব্যাপার নয়। সে আমার পাবলিশারও নয়, ফ্যানও নয়। আমাকে দিয়ে মিথ্যে বলিয়ে নিয়েছে নিজের স্বার্থের জন্য।

সবচেয়ে বড় যে মিথ্যেটি ছিল, সেটা হলো 'সে বাংলাদেশে ফিরে গেলে তাকে মৌলবাদিরা মেরে ফেলবে' -- এই মিথ্যে বাক্যটির কারণে সে ইউকেতে পলিটিক্যাল এসাইলাম পেয়েছিল। তখন তার পক্ষে নাকি সাংবাদিকরা দাঁড়িয়েছিল, তবে কারও দাঁড়ানোর জন্য কিন্তু তার পলিটিক্যাল এসাইলাম হয়নি, হয়েছে আমার চিঠির কারণে। ইনিয়ে বিনিয়ে নানা কথা বললো, এটি কিন্তু বললো না। পলিটিক্যাল এসাইলাম এবং সিটিজেনশিপ পাওয়ার পর আমাকে কিন্তু কোনও ধন্যবাদও দেয়নি। দেবে কেন, আমার পিঠে ছুরি বসাবার জন্য তখন তো ছুরি শানাতে ব্যস্ত ছিল। উপকারীর উপকার স্বীকার করতে তার ইচ্ছে হয় না। আরও বড় মিথ্যে কথা লিখেছে, সে নাকি আমার বইয়ের সমালোচনা করেছে, ব্যক্তি আক্রমণ করেনি। রিয়েলি? দেখাক তার তিন কিস্তিতে লেখা তসলিমার প্রতি ঘৃণা আর নিন্দা ছুড়ে দেওয়া সেই নোংরা গালাগালি গুলো? তার লেখার শিরোনাম ছিল ' তসলিমা নাসরিনের ক -- ফুরিয়ে যাওয়া যৌবনের আত্মযৌবনিক কামশাস্ত্র'। শিরোনাম পড়েই নিশ্চয়ই অনুমান করা যায়, কী বলতে চেয়েছে সে। ওই নোংরা জিনিস আমি রাখিনি, কিন্তু নিজের রচনা তো নিজে সে রেখেছে। দেখাক। মানুষ পড়ুক। তসলিমা কুড়ি বছরে কুড়িবার লিখেছে তার বিরুদ্ধে? তাই বুঝি? ২০০৩ থেকে এখন ১৫ বছর। তো এই ১৫ বছরে তাহলে ছন্দ মিলিয়ে তাকে বলতে হবে ১৫ বার। আমি ১৫ বার লিখেছি, দেখাক সে ১৫ বারের লেখা? পারবে ?

পারবে না। সত্য শতবার উচ্চারণ করতে হয়। আজ যখন বড় বড় বুদ্ধিজীবীরা দাঁড়িয়ে গেছে মাসুদাকে কেন চরিত্রহীন বলা হলো, এই প্রতিবাদে, তখন আমার মনে হয়েছে, ও তো চরিত্রহীনই। চরিত্রহীনকে চরিত্রহীন বললে এত ক্ষেপে উঠছে কেন মানুষ। মইনুল কী কারণে ওকে চরিত্রহীন বলেছে, সে মইনুল জানে। আমি তাকে কী কারণে চরিত্রহীন বলেছি, সে আমি ব্যাখ্যা করেছি। মাসুদা দাবি করেছে আমার পক্ষে সে লিখেছে অনেক। মানুষের সহানুভূতি কাড়ার জন্য ন্যাকামো বেশ জানা আছে তার। আমার সহানুভুতি পাওয়ার জন্যও ন্যাকামো করেছিল, আড়ালে ছুরিতে শান দিচ্ছিল।

সরকারি আরাম আয়েস জুটছে তার, রথী মহারথীরা তাকে ঘিরে আছে, আর সে ভান করছে, তার নাকি সংকটকাল চলছে। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দোষ দিয়েছে আমাকে, আমি দেশের রাজনৈতিক অবস্থার এদিক ওদিক করে দিয়েছি। আমি একা মানুষ, তার মতো প্রভাবশালী নই। আমার কোনও ক্ষমতা নেই রাজনীতির জলে তরংগ তোলার। আমার মতো রাজনীতি না বোঝা বোকা লোক যেমন সংসারে আছে, মাসুদা ভাট্টির মতো ধুর্ত লোকেরা চিরকালই ছিল, আছে। মানুষের পিঠে চড়ে চড়ে উঁচুতে গিয়ে ওঠে, তারপর লাথি মেরে ফেলে দেয় নিচের লোকদের। আমি অনেক লোক দেখেছি জীবনে, মাসুদা ভাট্টির মতো এত ভয়ঙ্কর মিথ্যুক আর চরিত্রহীন জীবনে দেখিনি। আমাকে নিয়ে মন্দ কথা অনেক লোকই লিখেছে, এসবে আমার কিছু যায় আসে না।

কিন্তু যার জীবনের সবচেয়ে বড় উপকারটি আমি করে দিলাম, সে যখন বই রিভিউয়ের নামে ব্যক্তি আমাকে জঘন্য রকম আক্রমণ করে , যৌন হেনস্থাকারীর পক্ষ নিয়ে আমাকেই করে কুৎসিত পুরুষতান্ত্রিক আক্রমণ, তখন কষ্ট হয়। সেই কষ্ট থেকেই লিখেছি গতকাল।

(তসলিমা নাসরিনের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

তসলিমা,মাসুদা ভাট্টি
apps