• বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ২ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

কর্ণফুলীর তিন রাস্তার মোড়

নেই ট্রাফিক পুলিশ, ড্রাইভিং সিটে বালক

প্রকাশ:  ১১ অক্টোবর ২০১৮, ২০:২৫
জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম
প্রিন্ট

কর্ণফুলীতে বাড়ছে অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা। বাদ যাচ্ছেনা স্কুল ছাত্র হতে নিরীহ পথচারীরাও। দিনের বেলায় মিল কারখানার অত্যাধিক ভারি যান চলাচল। চালকের আসনে বসা অপ্রাপ্ত বালকের অবহেলা আর ট্রাফিক ব্যবস্থা না থাকায় মৃত্যু ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে বলে সচেতন মহলের অভিমত।

দেশের ৪৯০তম কর্ণফুলী উপজেলা। চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের আওতাধীন একটি এরিয়া। এক সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর ৪৯তম ওয়ার্ড হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার ধারপ্রান্তে গিয়েছিল। পরে আদালতে মামলা গড়ায় স্থিতি রয়।

তথ্যমতে, কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জারটেক হয়ে ব্রিজঘাট সিডিএ সড়ক ৩ কিঃ মিঃ মতো , আজিমপাড়া কাঁচাবাজার হতে ইছানগর বাজার বিএফডিসি সড়ক দেড় কিঃ মিঃ এবং ইছানগর হতে ডায়মন্ড সড়কের প্রায় ২ কিঃ মিঃ পরিপাটি সড়ক। প্রায় ৭ কিঃ মিঃ সড়কেই নেই ট্রাফিক।

ফলে আইন ভঙ্গ করে ১৪/১৫ বছরের বালকেরা ড্রাইভিং সিটে বসে চালাচ্ছে মিনি ট্রাক কিংবা ভারি গাড়ি। ট্রাফিক পুলিশের অব্যবস্থাপনা এবং সড়কে চলাচলকারী মানুষের অসচেতনতার কারণেই এমন হচ্ছে বলে অনেকের অভিযোগ।

গত মঙ্গলবার (২ অক্টোবর) ইছানগরের ডায়মন্ড সড়কে শিশু সায়েম ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হয়। এর পুর্বেও একই সড়কে পথচারী কিংবা স্কুল শিশুদের নিহত কিংবা আহতের খবর আমরা পেয়ে থাকি।

এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ত্রি চাকার ইজিবাইক, ব্যাটারী চালিত নিষিদ্ধ রিক্সার চলাচল অব্যাহত রয়েছে। এখানে রয়েছে দেশের বড় বড় মিল কারখানা ডায়মন্ড সিমেন্ট ,প্রিমিয়ার সিমেন্ট ও এস আলম গ্রুপ-সহ নানা শিল্পজাত কোম্পানী। যাদের মালামাল বহনে ভারি যান চলাচল অব্যাহত। তথ্যমতে, অধিকাংশ গাড়িতে কম বয়সী ড্রাইভার আর রাতে হেলপারের ছড়াছড়ি চোখে পড়ার মতো। উল্টোপথে যানবাহন চলাচলের বহর। যেখানে কোনো ট্রাফিক পুলিশের সন্ধান পাওয়া যায়নি। অথচ এলাকার জনগণ মনে করছে, ব্রিজঘাট কাঁচাবাজারে একজন ট্রাফিক পুলিশের দরকার। একজন ট্রাফিক পুলিশের অভাবে নিত্যদিন যানজট আর ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে এলাকার জনসাধারণ।

এলাকায় দেখা গেছে, অসংখ্য নিষিদ্ধ ব্যাটারী চালিত রিকশা, নাম্বার প্লেটবিহীন মোটরসাইকেল, সিএনজি, প্রাইভেট কার-সহ বিভিন্ন গাড়ি নিয়ম ভঙ্গ করে উল্টোপথে চলাচল করতে। অনিয়ম যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে এখানে। উল্টোপথে চলাচলরত রিকশা ও মোটরসাইকেল আরোহীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানে কোনো ট্রাফিক পুলিশ নেই। তাই নিশ্চিন্তে এ রুটে উল্টোপথে আসা যায়। যানজটের কবল থেকে রক্ষা পেতে উল্টোপথে গাড়ি চালান বলে তারা জানান।

এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ কেন নেই। সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলায় দায়িত্বরত কর্ণফুলী পুলিশ বক্সেও ট্রাফিক সার্জেন্ট মোঃ সোহেল রানা বলেন, ব্রিজঘাট কাঁচাবাজার মোড়ের মতো আরো অনেক ভাইটাল জায়গা রয়েছে,যেখানে ট্রাফিক পুলিশের খুব দরকার কিন্তু আমাদের জনবল সংকটের কারণে এসব জায়গায় লোক দিতে পারছিনা।

তিনি আরও জানান, যদি খুব বেশি দরকার পড়ে এলাকার স্বার্থে ট্রাফিক অফিসে জনপ্রতিনিধিরা আবেদন করলে ব্যবস্থা হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তথ্য মতে জানা যায়, ১৯৮৩ সালে জারিকৃত মোটরযান আইন এর ৪ ধারা অনুযায়ী কোন ১৮ বছরের কম বয়সী কোন ব্যক্তি যান চলাতে পারবে না। এতে আরও বলা আছে, ২০ বছরের কম বয়সী কোন ব্যক্তি কোন পাবলিক স্থানে একটি পেশাদার ড্রাইভার হিসাবে মোটর গাড়ির চালনা করতে পারবে না।

একজন ড্রাইভারকে ড্রাইভিং এর সময় তার সাথে যা বহন করতে হবে

১। একটি বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ২। গাড়ির নিবন্ধন ডকুমেন্টস ৩। গাড়ির বীমার ডকুমেন্ট ৪। ট্যাক্স টোকেন ৫। ফিটনেস সার্টিফিকেট ৬। রুট পারমিট (যদি প্রযোজ্য হয়)।

অন্যদিকে কর্ণফুলীতে রোডস এন্ড হাইওয়ের সিডিএ সড়ক ,বিএফডিসি সড়ক ও ডায়মন্ড সড়কে বেশির ভাগ ভারি যানবাহনে বালক ও শিশুরা রাতে ড্রাইভিং সিটে গাড়ি চালাতে দেখা যায়। আর রাতে কর্ণফুলী সড়কগুলো ট্রাকের দখলে চলে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

নতুন ব্রিজের দক্ষিণ পাশ হতে শিকলবাহা ক্রসিং, ব্রিজঘাট কাঁচাবাজার হতে মইজ্জ্যারটেক পর্যন্ত হেলপারেরা তাদের গাড়ি নিয়ে সড়ক দখলে রাখে।

বাংলাদেশে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ হলেও সড়ক পরিবহনে এর ব্যবহার বৃদ্ধির প্রবণতাকে উদ্বেগজনক বলে বর্ননা করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে এই শিশুদের পাশাপাশি যাত্রীদের জীবনও ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের দাবি, পরিবহন খাতে কোন নজরদারি না থাকায় সেখানে অল্প পারিশ্রমিকে শিশুদের ব্যবহার করছে মালিকপক্ষরা।

কয়েক মাসের প্রকাশিত খবরে জানা যায়, কর্ণফুলীতে এ বছরের ১১ ফেব্রুয়ারী মধ্যরাতে ট্রাকের ধাক্কায় ২ সিএনজি যাত্রী নিহত, ৩ যাত্রী গুরুতর আহত হয়। স্থানীয় স‚ত্রে জানা গেছে, অপেক্ষমাণ একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে গিয়ে সিএনজি ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা এলাকায় এক পথচারী নিহত হয়েছেন। তার নাম মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী, বয়স ৩৮ বছর। এ ঘটনায় ট্রাক চালক পালিয়ে গেলেও ট্রাকটি আটক করা হয়েছে।

১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ইং উপজেলার ইছানগর মির্জাবাড়ির সামনে হাজি আরমান সড়কে ট্রাকের ধাক্কায় এক পথচারী নিহত হয়েছে। নিহতের নাম মোঃ সালাউদ্দিন প্রকাশ চৌধুরী (৩২। জানা যায়, রাত ৮টার দিকে ইছানগর চৌরাস্তা মোড় পার হবার সময় দ্রুত গতিতে আসা একটি ট্রাক পথচারীকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

পুলিশ ঘাতক ট্রাকটি আটক করেছে যার নং চট্টমেট্রো ড ১১.২৫৯৪। কর্ণফুলী দ্বিতীয় সেতুর টোল প্লাজায় বাসের ধাক্কায় সিএনজি অটোরিকশার আরোহী একই পরিবারের ৪ জনসহ ৫ জন নিহত হয়।

গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর ইছানগরে ট্রাক চাপায় মো. আরাফাত (৭) নামে এক স্কুল ছাত্রের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে এবং কয়েকটি গাড়িতে ভাংচুর চালায়। এভাবে ঘটতে থাকে একের পর এক নির্মম দূর্ঘটনা । কিন্তু তারপরেও কতৃপক্ষের টনক নড়েনা বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খানাখন্দক সড়ক দিয়ে ভারি যান চলাচলে এমন দূর্ঘটনার কারণ বলা মনে করেন অনেকে।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের তোফায়েল মিয়া বলেন, মিল কারখানার প্রতিনিয়ত ভারি যান চলাচলে দ্রুত সড়ক নষ্ট হয়ে যায় ফলে সাময়িক সমস্যা হচ্ছে। কিছু দিনের মধ্যে এ সড়কের কাজ করা হবে’।

ওএফ