• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

তোমরা যারা কেএফসি’তে খেতে যাও...

প্রকাশ:  ০৪ অক্টোবর ২০১৮, ২৩:০৫ | আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৮, ২৩:২৫
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

জনপ্রিয় ফাস্ট ফুড চেইন কেএফসির সুনাম বিশ্বজুড়ে। মজাদার খাবারের জন্য বিখ্যাত হলেও সেসবের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বহুবার। কখনো ফ্রায়েড চিকেনে কাঁচা মাংস বা কাঁচা হৃদপিন্ড পাওয়া গিয়েছে। কখনো রান্নায় পচা তেলের জন্য জরিমানা করা হয়েছে। আবার কখনো বা খাবারের মেন্যুতে আস্ত ‘ইদুর ভাঁজি’ দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ফেসবুকে আবারও ভাইরাল হয়েছে কেএফসির কিছু খাবারের ছবি যেগুলোতে শুধু কাঁচা মাংসই নয়, রীতিমতো পোকা কিলবিল করছে। তবে খাবারগুলো কেএফসির কোন শাখা থেকে কেনা বা ছবিগুলো কবে তোলা সে তথ্য জানা যায়নি। ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে যেসব মন্তব্য এসেছে, সেখানে সন্তোষ নয় বরং কেএফসির খাবার নিয়ে এমন বাজে অভিজ্ঞতা আগেও হয়েছে বলে দাবি করেছেন অনেকেই।

বাংলাদেশে কেএফসির বেশ কয়েকটি শাখা রয়েছে। এর মধ্যে গত ২৩ মে রেস্টুরেন্টর ধানমন্ডি শাখাকে রান্নায় অপরিশোধিত পানি ব্যবহারের দায়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। এর আগেও কেএফসির ওই শাখাকে অস্বাস্থ্যকর উপায়ে খাদ্যপণ্য তৈরির জন্য জরিমানা করা হয়েছিল।

মাসখানেক আগেই কেএফসি’র খাবারে মুরগির কাঁচা হৃৎপিণ্ড পাওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। অস্ট্রেলিয়ায় ফুড চেইনটির একটি শাখা থেকে রাতের খাবার কেনার পর সেখানে হৃৎপিণ্ড খুঁজে পায় এক তরুণ।

টিমোথি নামের ২১ বছর বয়সী ওই তরুণ মেলবোর্নে কেএফসির একটি শাখা থেকে রাতের খাবারের জন্য একটি ‘অরিজিনাল টেন্ডারস বক্স (ওটিবি)’ নিয়ে আসেন। পরে ছোট ছোট টুকরা করা চিকেনের টেন্ডারের ভেতর একটি কাঁচা হৃৎপিণ্ড খুজে পান তিনি।

এই নিয়ে অভিযোগ করলে তাকে খাবারের টাকা ফেরত দেয়া হয় এবং ভুলের জন্য ভোক্তাদের কাছে ক্ষমাও চায় প্রতিষ্ঠানটি।

তবে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় অভিযোগটি বোধহয় কেএফসির খাবারে ‘ইদুর ভাঁজা’ পাওয়াটা। এ বছরের মাঝামাঝি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছিল সেই ছবিটি। কেএফসিতে ‘ডিপ ফ্রাইড চিকেন’ অর্ডার দিয়ে আস্ত ইঁদুর ভাজা পাওয়ার অভিযোগ এনেছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেভোরাউজ ডিক্সন নামের এক ব্যক্তি।

এ নিয়ে মিরর, দ্যা ইন্ডিপেন্ডেন্ট, টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ডিক্সনের পোস্ট করা ছবিতে দেখা যায়, ফোলা গোলাকার পেট, লম্বা একটি লেজ ও ইঁদুরের মুখের আকৃতির ভাজা একটি খাবার। তিনি জোর গলায় বলছেন, এটি একটি কড়া ভাজা ইঁদুর, চিকেন নয়!

ডিক্সন জানান, অর্ডার করা চিকেন ফ্রাই দেখেই তার সন্দেহ হয়। সেটিতে তিনি লেজ খুঁজে পান। কিন্তু চিকেনে কেন ইঁদুরের মতো লেজ থাকবে! আদতে চিকেন বলে তাকে যেটা পার্সেল দেওয়া হয়েছে সেটি একটি আস্ত ইঁদুর ফ্রাই! সঙ্গে সঙ্গে তিনি ছোটেন কেএফসির ওই আউটলেটে। দেন অভিযোগ।

ডিক্সন একটি ভিডিও পোস্ট করেন যেন লোকে না ভাবে ছবিতে ফটোশপের কাজ করেছেন তিনি।

দুটি ছবি পাশাপাশি পোস্ট করে উপরে তিনি লিখেন, ‘আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার এখনই সময়!!! নিরাপদ থাকুন, ফাস্টফুড খাবেন না!!!’

তাৎক্ষণিক ওই আউটলেটের কর্মকর্তা এটি ইঁদুর বলে স্বীকার করে মি. ডিক্সনের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান।

পরে কেএফসি সংবাদমাধ্যমে একটি বিবৃতি দেয়। কেএফসি দাবি করে, তারা অনেক চেষ্টা করেও অভিযোগকারী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিষয়টি আজও অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।

-একে

কেএফসি
apps