• বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫
  • ||
শিরোনাম

ঢাবির ভাইরাল হওয়া সেই ছবিটি ভুয়া!

প্রকাশ:  ০৪ অক্টোবর ২০১৮, ১৩:২৭
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

সমাবর্তনের গাউন পরিয়ে রিকশাচালককে স্যেলুট জানানোর যে ছবিটি ভাইরাল হয়েছে তার তথ্য সঠিক নয়। ছবিতে যাদের দেখা গেছে, তারা আসলে বাবা ছেলে নন।

ভাইরাল হওয়া ছবিটি শাহরিয়ার সোহাগ নামের এক তরুণের তোলা। তার বক্তব্য থেকে জানা যায় ক্যাপশনগুলো অতিরঞ্জিত করা হয়েছে।

যদিও শাহরিয়ার সোহাগের ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ছবিটিসহ দেওয়া পোস্টে লেখা রয়েছে ছবির দুজন বাবা-ছেলে। তার পোস্টটি হুবুহু দেওয়া হলো:

“নিজে রিক্সাচালক, তবে সন্তান তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট।

গর্বে মুখে তাঁর প্রশস্ত হাসি।

সন্তানের হাত ধরে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। ছবি: শাহরিয়ার সোহাগ। কলাভবন, ঢা.বি.”

সোহাগ ছবিটির পেছনের কাহিনি সম্পর্কে একটি গণমাধ্যমকে বলছেন, 'প্রোফেশনালি কিংবা শখের বসে ছবি তোলা আমার নেশা। লেখালেখি করি বিধায় কৌতূহলটাও বেশি। ক্যামেরা নিয়ে সেদিন ঘুরতে থাকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।'

এই তরুণ বলেন, 'আমার মামা লিটন মোস্তাফিজ ও তার বন্ধুরা সমাবর্তন উদযাপন করছিলো। তাদেরও কিছু ছবি তুললাম। অপরাজেয় বাংলার সামনে আসতেই একজন বৃদ্ধ রিকশায় বসে অনেকক্ষণ টুপি উড়ানো দেখছিলেন। কৌতূহল নিয়ে কাছে গেলাম আমি আর মামা। 'তাঁর ছেলেও নাকি পাশ করেছে। আমি বিস্তারিত অনুসন্ধান কিংবা জেরা করার প্রয়োজন মনে করিনি। কারণ এমন ঘটনা এখন অহরহ।'

সোহাগ নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে সবিস্তারে বলেন, 'গ্রাম থেকে উঠে আসা ছেলেমেয়ারাই এই গ্রাজুয়েটের একটা বড় অংশ। উনার সন্তান সমাবর্তন টুপি পরেছেন বা পরবেন সে যা ই হোক, উনি একজন বাবা। তারও সন্তান আছে। আর আজ যারা গ্রাজুয়েট তারাও কোনো না কোনো বাবার সন্তান। অনেককে শুনেছি তাকে বাবা বলে সম্বোধন করতে। আর এত মানুষের বাবা ডাকে উনি তখন আবেগপ্লুত।'

তিনি বলেন, 'আমি আমার তোলা কয়েকটা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করি। অনেকে অনেক ভাবেই ছবিগুলোতে অতিরঞ্জিত ক্যাপশন ব্যবহার করেছেন। অনেকে আবার ছবি নিয়ে বিশ্লেষণ শুরু করেছেন। নিজের ভালো লাগার জায়গা থেকে ছবিগুলো পোস্ট করার পর ছবিগুলো রীতিমতো ভাইরাল।'

ওই রিকশাচালককে বাবা হিসেবে কল্পনা করার আহবান জানিয়ে সোহাগ বলেন, 'আলোচনা কিংবা সমালোচনা কে পাশ কাটিয়ে নিজেকে গ্রাজুয়েট ভাবুন আর বৃদ্ধর ক্লান্ত মুখে নিজের বাবাকে কল্পনা করুন। বাবারা তো একই রকম হয়। আলাদা শুধু চেহারাটা। সব বাবাদের ভেতরটা একই রকম। এখন থেকে রিক্সায় উঠলে কিংবা যে কোনো কাজে বয়োজ্যেষ্ঠ দের যেন সম্মানন করি। কারণ আমাদের বাবারা আমাদের কারো কাছ থেকেই যেন কষ্ট না পান। সব বাবারা ভালো থাক। এপারে কিংবা ওপারে।'

গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে তার ফেসবুক পোস্টের মিল খুঁজে পায়নি পূর্বপশ্চিম। অতিরঞ্জিত ক্যাপশন ব্যবহার করার কথা তিনি বললেও তার ফেসবুক পোস্টে দেওয়া ক্যাপশনে বাবা-ছেলের কথা উল্লেখ রয়েছে।

তার স্ববিরোধী কথা এখন প্রশ্ন তুলেছে সবার মনে। তবে কি ভাইরাল হতেই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি?

এর আগে, ভাইরাল হওয়ার লক্ষ্যে একটি চুমুর দৃশ্য উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

ছেলে ঢাবির গ্রেজুয়েট, রিক্সাচালক বাবার যে ছবি ভাইরাল