• বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গণমাধ্যম ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের হয়রানি বাড়বে

প্রকাশ:  ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:৪৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ফলে মুক্তমনা গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সাথে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদেরও হয়রানি বাড়বে এবং তার সাথে এ আইনও বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন।

বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় তোপখানা রোডস্থ কমরেড নির্মল সেন মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ সংগঠন এমন দাবি জানান।

সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, নিরাপত্তার নামে একটি অনিরাপদ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর ফলে মুক্তমনা গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সাথে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদেরও হয়রানি বাড়বে। আমাদের দেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির নিরাপত্তার জন্য পূর্বেও অনেক আইন ছিল। যেমন অশ্লীল বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধকরণ আইন-১৯৬৩, পর্ণগ্রাফী নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২, তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০০৬। যার মধ্যে বিতর্কিত ৫৭ ধারাও ছিল।

এত আইন থাকা সত্ত্বেও এই আইনসমূহের সঠিক প্রয়োগ না থাকার কারণে প্রযুক্তির অপব্যবহার মাথা চারা দিয়ে উঠেছে। এর জন্য দেশের জনগণকে কি দোষ দেয়া যায়? তাই হঠাৎ করে প্রযুক্তি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন না করে সদ্য পাশ হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সত্যিই কি ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য? নাকি দেশের মুক্তমনা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সেই সাথে সাধারণ শ্রেণির ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের হয়রানি করার জন্য?

তিনি আরও বলেন, এই কারণে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা মনে করেন, এ আইনের ২১, ২৫, ২৮, ৩১, ৩২ ও ৪৩ ধারা স্বাধীন মতপ্রকাশের প্রতিবন্ধক। আমরাও মনে করি, এ সকল ধারা মুক্ত চিন্তা ও মতামত প্রকাশে সহায়ক নয়। অন্যদিকে পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা পুলিশকে দেয়া হয়েছে। বাদ দেয়া হয়েছে ডিজিটাল এজেন্সির অনুমোদন নেওয়ার বিষয়টিও ফলে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রায় ৯ কোটি গ্রাহক রাস্তা বের হলে পুলিশের তল্লাশির নামে হয়রানির শিকার হতে পারেন এমনটা আমরা আশংকা করছি। এতে করে দুর্নীতি বেড়ে সুশাসন অনিশ্চয়তার মধ্যে পরার সম্ভবনাই বেশি।

বিশ্বের উন্নত দেশে যেখানে কয়েদি পাওয়া দুষ্কর সেখানে সাধারণ শ্রেণীর মানুষ যারা প্রযুক্তির ব্যবহার নিজে নিজেই শিক্ষা লাভ করেছেন আজ অবধি যারা প্রযুক্তির ভালোমন্দ বুঝে উঠতে পারেন নাই তাদেরকে সচেতন ও সুশিক্ষিত না করে কারাগারে ভর্তি করার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন বাতিল করে প্রকৃতপক্ষে জনসচেতনতামূলক ও ডিজিটাল নিরাপত্তার স্বার্থে প্রকৃত আইন তৈরি করার জন্য সরকার মহোদয়ের নিকট আমরা আবেদন করছি। সেই সাথে পাশকৃত আইন বাতিল করে, পুনঃসংস্কার করে নতুনভাবে প্রযুক্তি খাতে গ্রাহকবান্ধব এবং সকলের মতামতের ভিত্তিতে মানবাধিকার রক্ষা করে এমন যুগোপযোগী আইন তৈরি করার দাবি জানাচ্ছি।

সিপিবির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর বিরোধিতা করে বলেন, ‘স্বাধীনতা মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়। কথা বলার, প্রশ্ন করার অধিকার খর্ব করে, স্বাধীন ও মুক্তভাবে মতামত প্রকাশে, স্বাধীনতা খর্ব দেশের অগ্রগতি করা যাবে না। এই আইনে মানুষের মুখ ও চোখ বেঁধে দেয়া হয়েছে। এই আইনে পুলিশকে গ্রেফতারের যে সুযোগ দেয়া হয়েছে তার অপব্যবহার যে হবে এ কথা নিশ্চিত করেই বলা যায়। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সংবাদ মাধ্যমে দুর্নীতি ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, দুর্নীতিবাজদের বিপদ হলেও সমাজের জন্য উপকারী। এই আইনে সংবাদকর্মীদের কলম ও চোখ বেঁধে দেওয়ার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে।’ তিনি এই আইন আরও পর্যালোচনা করা, অগণতান্ত্রিক ধারাসমূহ বাতিলের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয়ী মানুষ কোন কালো আইন মেনে নেবে না।’

বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে মানুষকে নিরাপত্তাহীন করা হয়েছে। দেশে অনেক আইন আছে তা যথাযথ প্রয়োগ হলে নতুন আইন দরকার নেই। অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্ট আসলে দুর্নীতি বিরোধী কোন কথা বলা যাবে না। এর মাধ্যমে দুর্নীতিকে বৈধতা দেওয়া চেষ্টা করা হয়েছে।’

সাবেক সংসদ সদস্য হুমায়ুন কবির হিরু বলেন, ‘এই আইন চালু হলে মত প্রকাশ ও মানুষের বাকস্বাধীনতা খর্ব হবে। তাই এখনই এই আইন বাতিল করা দরকার। আগের সরকারের ধারাবাহিকতায় এই আইন করা হয়েছে। তাই চলমান রাজনৈতিক ধারা বাতিল করতে না পারলে কালো তৈরির ধারাও বহাল থাকবে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক হুমায়ুন কবির, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলনের আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ খান, জাগো বাঙালীর সভাপতি ড. মেজর হাবিবুর রহমান, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর কাজী আমান উল্যাহ মাহফুজ, বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন’র সাংগঠনিক সম্পাদক এস.এম.রেজাউল করিম, প্রচার সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, পেশাজীবি ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ওএফ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন,গণমাধ্যম ও ইন্টারনেট