• বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

দেদারসে বিক্রি হচ্ছে ভেজাল ও নিম্ন মানের ওষুধ

প্রকাশ:  ৩০ আগস্ট ২০১৮, ১৮:০৭
মুজাহিদ মুন্না (মেহেরপুর)
প্রিন্ট

মেহেরপুরে জেলা জুড়ে সয়লাব ভেজাল, নকল নিম্নমানের ওষুধ। জীবন বাঁচাতে মানসম্মত ওষুধ উপেক্ষা করে মেহেরপুরের এক শ্রেণির অসাধু ডাক্তার ও ওষুধ ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফার লোভে নকল-ভেজাল এবং নিম্নমানের ওষুধ বাজাজাতের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনুমোদন হীন ওষুধ কোম্পানীগুলো তাদের উৎপাদিত মানহীন ওষুধ দেদারছে মেহেরপুরের বাজারজাত করছে।

এসব ওষুধ ব্যবহারে মানুষ সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে আরো জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। চিকিৎসক, ওষুধ বিক্রেতা ও ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের যোগসাজসে সহজেই নকল ভেজাল আর নিম্ন মানের ওষুধ বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি ওষুধের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের।

প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় জেলা জুড়ে চলছে নিম্ন মানে ওষুধ বাণিজ্য চলছে বলেও তারা জানিয়েছেন। আধুনিক প্রযুক্তির সাহয়তায় চাকচিক্য মড়ক ব্যবহার করে সুনামধন্য কোম্পানীর নামেও বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে নিম্ন মানের এসকল ওষুধ। যা ক্রয় করে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে মেহেরপুরের বিভিন্ন এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ড্রাগ সুপাররের তোষণ নীতি ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারীর অভাবে এ সকল মানহীন ওষুধগুলো কিছু অসাধু ওষুধ কোম্পানী বাজারজাত করে আসছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে মেট্টানিডাজল-৫০০ মি.গ্রা প্রতি ট্যাবলেট অপারেশন রোগীদের জন্য মূল্য ১ টাকা ৩০ পয়সা অথচ এই নামের নকল ওষুধ ২০ থেকে ২৫ পয়সার কিনে ১ টাকা ৩০ পয়সায় বিক্রয় করা হচ্ছে। কিটোরোলাক ব্যাথ্যানাশক প্রতিটি -১০ মি.গ্রা ট্যাবলেটের সর্ব্বোচ মূল্য ২০ টাকা কিন্তু নকলগুলো একই রকম প্যাকেট নিম্নমানের ট্যাবলেটটি ১ টাকায় কিনে ২০ টাকায় বিক্রয় করা হচ্ছে।

কাটা-ছেড়া রোগীর সেলাইয়ের জন্য ক্যাটগাড মূল্য ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। অথচ বাজারে এই নামের নকল ওষুধ ৪০ থেকে ৫০ টাকায় কিনে আসলটির মূল্যে বিক্রয় করে থাকে। সেফট্রিকজন ইনজেকশন-১ গ্রাম ৬০ টাকায় কিনে ১৯০ টাকায় কেউ কেউ বিক্রয় করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রযুক্তির সহায়তায় দামি কোম্পানীর নকল মোড়কে বিক্রি হচ্ছে ভিটামিন ভিট, বলারিস্ট, নিরাময়, ওসাকা, বডি ফিল্টার। ফার্মেসীর কিছু মালিক এগুলো মাত্র ৫০-৬০ টাকায় কিনে ২৫০-৩০০ টাকায় বিক্রয় করে থাকে। হিস্টাট্যাব ১ বক্স’র মূল্য ১০০ টাকা। সেখানে নিম্নমানের ঔষধ ১ বক্স মাত্র ৩০ টাকা। এজিথ্রোমাইসিন নামক এন্টিবায়োটিক প্রতিটির বাজার মূল্য ৩৫-৫৫ টাকা কিন্তু নকলটি ২ টাকায় ক্রয় করে ৩৫ টাকায় বিক্রয় করছে অনেকে। এমনকি শহরতলির গ্রামগুলোর পান, বিড়ি, মুদি দোকানেও এ নিম্ন মানের ভেজাল এজিথ্রোমাইসিন পাওয়া যায়। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ( ডাঃ তাপশ কুমার, এমবিবিএস বলেন) মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বলেন, অখ্যাত কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা ওষুধ বিক্রেতা ও ডাক্তারদের বিভিন্ন উপঢোকন, নগদটাকাসহ নানা সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন। আর এ সব কোম্পানীর ওষুধ বিক্রি করে বিক্রেতারাও অধিক মুনাফা অর্জন করছে।

মেহেরপুর হোটেল বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী সেন্টু হোসেন বলেন, এ ভেজাল ওষুধ বিক্রয়ের প্রতিকার হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু ড্রাগ সুপারের উদাসিনতার কারণে মূলত বাজারে ভেজাল ওষুধ বিক্রি হচ্ছে।

মেহেরপুর ওষুধ বিক্রেতা সমিতির সভাপতি আনারুল ইসলাম বলেন, ড্রাগসুপার আমাদের কাছে নিম্ন ও ভেজাল ওষুধ বিক্রেতাদের তালিকা চেয়েছেন। আমরা তালিকা তৈরি করছি আমরা আচিরেই এসকল ভেজাল বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে সমিতি থেকে ব্যবস্থা নেব।

মেহেরপুর ড্রাগ সুপার সূর্কন আহম্মেদ বলেন, কোন কোন এলাকাতে এ ধরনের ওষুধ বিক্রি হয় সেগুলো তালিকা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনা করা হবে।

মেহেরপুর সিভিল সার্জেন ডা. জিকেএম সামছুজ্জামান বলেন, ভেজাল ও নিম্ন মানে ওষুধ মানুষের বিভিন্ন ক্ষতি করে থাকে এমনকি তার জীবন ও শেষ হয়ে যেতে পারে। তার এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, এ বিষয়টি সিভিল সার্জেনের মাধ্যমে জেলার ড্রাগ সুপার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে ড্রাগসুপারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তিনি জানান।

মেহেরপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, মেহেরপুরে যে কোন ভেজাল জিনিষের বিরুদ্ধে প্রশাসনীক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, নিয়মিত ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের সনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওএফ

ওষুধ