• রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

দৃষ্টি হাসিনা-মোদি বৈঠকের দিকে

প্রকাশ:  ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০২:২৮ | আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০২:৫২
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী ৩০শে আগস্ট ফের বৈঠকে বসছেন। চলতি বছরে এটি তাদের দ্বিতীয় বৈঠক। আর বাংলাদেশের নির্বাচনের আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এটাই সম্ভবত তার শেষ আনুষ্ঠানিক বৈঠক হতে যাচ্ছে। কাঠমান্ডুতে সেই বৈঠক হবে। চতুর্থ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী ৩০শে আগস্ট কাঠমান্ডু যাচ্ছেন দুই নেতাই। দু’দিনের ওই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে তারা দ্বিপক্ষীয় বিষয়াদি নিয়ে বৈঠকে বসবেন।

অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রাজনীতি, রোহিঙ্গা সংকট এবং নব সৃষ্ট আসামের এনআরসি ইস্যুতে হাসিনা মোদি আসন্ন বৈঠকটিকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বৈঠকের বিষয়ে এরইমধ্যে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তার ভাষ্য মতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিমসটেকের সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন।

স্বাভাবিকভাবেই দুই নেতার মধ্যে বৈঠক হবে। গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রীর পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতন সফরে মোদির সঙ্গে সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল। সেখানে তিস্তা ছাড়া দ্বিপক্ষীয় সব বিষয়েই আলোচনা হয়েছিল। ‘বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন বিমসটেক’-এর চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলন অংশ নিতে গত ৪ঠা আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে বিশেষ আমন্ত্রণ জানান নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি।

তার আমন্ত্রণে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের শিডিউল ঠিক হওয়ায় শেখ হাসিনা কাঠমান্ডু যাচ্ছেন। ওই সম্মেলনে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইত্রিপালা সিরিসেনা এবং থাই প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচারেরও যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় অঞ্চলে থাকা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ৭ দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বিষয়ক জোট বিমসটেক ১৯৯৭ সালে গঠিত হয়। সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় ঢাকায়, আর বর্তমান সভাপতি দেশ নেপাল।

হিমালয়কন্যা খ্যাত নেপালের রাজধানীতে আগামী ৩০-৩১শে আগস্ট জোটের শীর্ষ নেতাদের পরবর্তী মিলনমেলার আয়োজন করা হয়েছে। নেপালের বিশেষ অনুরোধে এবার সব সদস্য রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারা অংশ নিচ্ছেন। সেখানে নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক বৈঠক হবে। তবে হাসিনা- মোদির বৈঠকেই চোখ থাকছে ঢাকা ও দিল্লির। বিশেষ করে ভোটের মুখে থাকা বাংলাদেশের তরফে বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তার পানি বণ্টনের বিষয়টি তোলা হবে কি-না? এ নিয়েই আগ্রহ সবার। অবশ্য ঢাকার কোনো দায়িত্বশীল প্রতিনিধি বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলছেন না।

তারা কেবলই বলছেন, যখন বৈঠক হবে তখন দেখা যাবে। আসন্ন ওই বৈঠক নিয়ে কলকাতার বহুল প্রচারিত আনন্দবাজার পত্রিকাও রিপোর্ট করেছে। তাতেও তিস্তার কোনো উল্লেখ নেই। আনন্দবাজারের রিপোর্টে বলা হয়- শেষ মুহূর্তে কোনো পরিবর্তন না হলে কাঠমান্ডুতে আরও একবার মুখোমুখি হতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উভয়ের বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার কথা।

বাংলাদেশের ভোটের আগে বৈঠকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিভিন্ন ইস্যুতে কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে আঞ্চলিক রাজনীতি। ভারতে আসামের চলতি এনআরসি বিতর্কের আঁচ ঢাকাতেও পড়েছে। যদিও ভারতের তরফে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাসহ বিভিন্ন স্তরের বাংলাদেশি প্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে, অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। ভোটের মুখে ঢাকার স্পর্শকাতরতার দিকটি অবশ্যই দিল্লি বিবেচনায় রাখছে।

ভারতের তরফ থেকে এমন কিছু করা হবে না, যাতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। সূত্রের বরাতে আনন্দবাজার লিখেছে- আসন্ন বৈঠকটিতে এবার খোদ মোদি এনআরসি নিয়ে কথা বলবেন শেখ হাসিনার সঙ্গে। তাঁকে আশ্বস্ত করা হবে। পাশাপাশি মোদি এ কথাও জানাবেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য ঢাকাকে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে হবে না। নয়া দিল্লি বিষয়টি নিয়ে সর্বতভাবে ঢাকার পাশে রয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ভারতের পরবর্তী সাহায্য পাঠানোর বিষয়টি ছাড়াও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ নিয়েও বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনা হবে বলে ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্রঃ মানবজমিন ।

/পি আর