• রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

নিহত রোহিঙ্গাদের ‘তালিকা' প্রকাশ

প্রকাশ:  ১৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:৩৯ | আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:৪৮
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

লোকটা নিতান্তই সাধরণ। নাম মুহিব উল্লাহ।। তাকে দেখলে কোনো মানবাধিকার তদন্তকারী মনে হবে না৷ তিনি পান খান এবং প্লাস্টিক আর বাঁশ দিয়ে তৈরি এক ঝুপড়ি ঘরে থাকেন৷ মাঝেমাঝে তাঁকে রোহিঙ্গা শিবিরে লাইনে দাঁড়িয়ে রেশন সংগ্রহ করতেও দেখা যায়৷

তবে আপাত সাধারণ এই মানুষটা আরো কয়েকজন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে সঙ্গে নিয়ে এমন এক কাজ করেছেন যা উন্নয়নসংস্থা, বিভিন্ন দেশের সরকার, এমনকি সাংবাদিকদের পক্ষেও করা সম্ভব হয়নি৷ প্রতিবেদন ডয়চে ভেলে।

তাঁরা গত বছর মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে সেদেশের সেনাবাহিনীর দমনপীড়ন চলাকালে যারা নিহত হয়েছেন বলে শোনা গেছে, তাঁদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন৷ মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের সেদেশের নাগরিক মনে করে না৷ দেশটি রোহিঙ্গাদের এমন ‘বাঙালি' বা ‘মুসলমান' হিসেবে বিবেচনা করে, যারা অন্যদেশ থেকে সেদেশে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন৷

গত বছর আগস্টে রাখাইনে এক নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গাদের উপর দমনপীড়ন শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী৷ সেসময় প্রাণ বাঁচাতে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেন৷ সেনা অভিযানে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নিহত হন বলেও জানিয়েছে একাধিক মানবাধিকার সংস্থা৷

বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য কাজ করা সাহায্য সংস্থা ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স'-এর হিসেব অনুযায়ী, গত বছরের সহিংসতার প্রথম মাসেই অন্তত ৬,৭০০ রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছেন৷ টেকনাফে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে জরিপ চালিয়ে তৈরি সেই হিসেবে শুধুমাত্র একমাসে নিহতদের সংখ্যা বলা হলেও তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি৷

রোহিঙ্গাদের নিজেদের তৈরি নিহতদের সাম্প্রতিক তালিকাটি অবশ্য বেশ বিস্তৃত৷ তাঁদের হিসেবে, সহিংসতায় প্রাণ হারানো রোহিঙ্গার সংখ্যা দশ হাজারের বেশি৷ এতে অবশ্য শুধু গত আগস্টই নয়, ২০১৬ সালের অক্টোবরে আরেক সহিংসতায় নিহতদের কথাও যোগ করা হয়েছে৷ তালিকাতে নিহতের নাম, বয়স, বাবার নাম, মিয়ানমারের ঠিকানা এবং কিভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল তার বিশদ বিবরণ রয়েছে৷

নতুন এই তালিকার বিষয়ে মুহিব উল্লাহ বলেন, ‘‘আমি যখন নিজেই শরণার্থীতে পরিণত হয়ে যাই, তখন এ ব্যাপারে কিছু একটা করার তাগাদা অনুভব করি৷'' তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে এই তালিকা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নৃশংসতার এক ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে কাজ করবে৷

রোহিঙ্গাদের তৈরি তালিকার বিষয়ে কথা বলতে মিয়ানমার সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে বার্তাসংস্থা রয়টার্স৷ কিন্তু তাঁদের কাছ থেকে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি৷ গত বছরের শেষের দিকে অবশ্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দাবি করেছিল যে, আগস্ট মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৩ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছিল৷ এছাড়া ‘রোহিঙ্গা জঙ্গিদের' বিরুদ্ধে ২৫ আগস্ট থেকে ৫ অক্টোবর অবধি সেনাঅভিযান চলাকালে ৩৭৬ জন রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধারের কথাও স্বীকার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী৷

এনই/

রোহিঙ্গা