• মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

দুই পরিবারের জমি বিরোধ মিটলো ৪০ বছর পর

প্রকাশ:  ১৩ জুলাই ২০১৮, ০৯:৫৯
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রিন্ট

ঝালকাঠিতে জেলা পুলিশের উদ্যোগে হিন্দু মুসলিম দুটি পরিবারের জমি নিয়ে প্রায় ৪০ বছরের বিরোধ মিটে গেল। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পরে অবসান হলো দুই পরিবারের জমি নিয়ে সংঘাত ও মামলা।

বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম মাহামুদ হাসানের কার্যালয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে এ বিরোধ নিস্পত্তি হয়।

দীর্ঘ দিনের বিরোধ মিটে যাওয়ায় খুশি নিরঞ্জন চক্রবর্ত্তী ও প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম ওরফে ইউনুস মাঝিও। সকলের সামনে দুজনে কুশল বিনিময় করলেন । একে অন্যের হাতে ফুল দিয়ে জড়িয়ে ধরলেন। এই সবকিছুই সম্ভব হয়েছে ঝালকাঠি জেলা পুলিশের সহযোগিতায়।

এলাকাবাসি ও জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দক্ষিণ মগড় গ্রামের নজরুল ইসলাম ওরফে ইউনুস মাঝির সঙ্গে ৬ একর ৫২ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল নিরঞ্জন চক্রবর্তীর। ক্রয় সূত্রে জমির মালিক দাবি করেন ইউনুস মাঝি। আর পৈত্রিক সূত্রে জমির দাবি করেন নিরঞ্জন চক্রবর্তী। ওই জমির মাঝে একটি মাটির ঘরে কোন মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন নিরঞ্জন চক্রবর্তী। জমি দখল করে থাকার অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেন ইউনুস মাঝি। আদালত জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। সেই থেকে নিজের ঘরের সংস্কারও করতে পারেনি নিরঞ্জন চক্রবর্ত্তী। কোন রকমের খুপড়ি ঘরের মধ্যে পরিবারসহ রাত কাটাতেন ।

বিষয়টি জানতে পেরে জেলা পুলিশ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মো. জোবায়েদুর রহমানের নির্দেশে দুই পক্ষের বিরোধ নিস্পত্তির দায়িত্ব নেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম মাহামুদ হাসান। তিনি ৩ দফায় ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সাথে একাধিক বৈঠক করেন। অবশেষে দুই পক্ষই সমঝোতায় সম্মতি জানায়। একটি রোয়েদাদ করে তাদের বিরোধ মিটিয়ে দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত হয় ৪৪ শতাংশ জমি, নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা ও তিনটি গাছ দেওয়া হয় নিরঞ্জন চক্রবর্ত্তীকে। বাকি জমি ভোগদখল করবেন নজরুল ইসলাম ওরফে ইউনুস মাঝি। নগদ টাকা পরিশোধ করে ইউনুস মাঝিও পরিত্রাণ পান।

উভয় পক্ষকে ডেকে বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম মাহামুদ হাসান ফুল তুলে দেন তাদের হাতে। একে অন্যের হাতে ফুল দিয়ে জড়িয়ে ধরেন। পুলিশের এ কাজে সহযোগিতা করেন মগড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এনামুল হক শাহীন।

এ বিষয়ে নিরঞ্জন চক্রবর্ত্তী বলেন, আমার সারা জীবনের কষ্ট দূর করেছে পুলিশ। আমি এখন নিশ্চিন্তে ঘর তুলে বসবাস করতে পারবো। নজরুল ইসলাসের সাথে আমার আর কোন বিরোধ নেই।

নজরুল ইসলাম ওরফে ইউনুস মাঝি বলেন, জমি ৪০ বছর ধরে জমি নিয়ে কত মামলা-হামলা হয়েছে। সব বিরোধ মিটিয়ে দিয়েছে পুলিশ। আমরা এখন থেকে একে অপরকে ভালবাসবো। আমাদের মধ্যে আজ থেকে কোন বিরোধ নেই।

মগড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক শাহীন বলেন, বিরোধ নিস্পত্তি হওয়ায় দুটি পরিবারের মাঝেই শান্তি বয়ে আনবে। তাদের মধ্যে মামলারও অবসান ঘটবে। যে যার মামলা তুলে নিবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উভয় পক্ষ।

এ বিষয়ে ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম মাহামুদ হাসান বলেন, পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে আমি দুই পক্ষের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে বিরোধ নিস্পত্তি করতে সক্ষম হয়েছি। সবকিছুই মহান আল্লাহর রহমতে হয়েছে। দুই শত্রু পরিবার এখন বন্ধুতে পরিনত হয়েছে। তাদের মধ্যে আর কোন বিরোধ নেই। তারা যেন ভাল থাকেন, এটাই আমাদের কামনা।

ওএফ

বিরোধ,জমি,পুলিশ,ঝালকাঠি