• শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

পুলিশের গাড়িতে মুখোমুখি ধর্ষক ও ধর্ষিতা

প্রকাশ:  ১৩ জুলাই ২০১৮, ০২:১৯ | আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৮, ০২:৩০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট

রাতে যে ব্যক্তি ধর্ষণ করেছেন তরুণীকে, তার সাথে একই গাড়িতে মুখোমুখি বসিয়ে আদালতে নিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন জড়িত পুলিশ কর্মকর্তারা।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের অশোকনগরে।

রবিবার রাতে অশোকনগরের গুমা কালীনগর এলাকার যুবক বাপ্পা নাথ এক বন্ধুকে সস্ত্রীক বাড়িতে নিমন্ত্রণ করেছিলেন। নিজের স্ত্রীকে অন্যত্র পাঠিয়ে দেন বাপ্পা।

অভিযোগ উঠেছে, রাতে তরুণীর স্বামীকে মদ খাইয়ে বেহুঁশ করে ফেলেন বাপ্পা। তরুণীকেও জোর করে মদ্যপান করান। কিছুটা পানীয় মুখে যেতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে দাবি তরুণীর।

সেই সুযোগে বাপ্পা তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রাতে স্বামীর হুঁশ ফেরেনি বলে পুলিশকে জানিয়েছেন ওই তরুণী। রাতটা কাটে বাপ্পার বাড়িতেই। সকালে ওই দম্পতি পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ আটক করে বাপ্পাকে।

থানায় আনা হয় দু’পক্ষকেই, থানা থেকে বের হওয়ার পর ওই তরুণী ও বাপ্পাকে তোলা হয় একই গাড়িতে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বাপ্পা সামনে এসে বসতেই অস্বস্তিতে পড়েন তরুণী। মাথা নিচু করে বসেছিলেন তিনি।

পরে গাড়িতে ওঠেন এক নারী কনস্টেবল ও এক পুলিশ কর্মী। গাড়ি রওনা দেয় বারাসত জেলা আদালতের দিকে। আধ ঘণ্টার পথ পেরিয়ে দু’জনকে নিয়ে যাওয়া হয় বারাসত আদালতে। বিচারকের কাছে গোপন জবানবন্দি দেন তরুণী। বাপ্পাকে দু’দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।

এদিকে, অভিযোগকারীর মুখোমুখি বসানোয় তরুণীর মনের উপরে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে বলে মত অনেকেরই। অভিযুক্ত যুবক তরুণীকে ভয় দেখানোর সুযোগও পেতে পারতেন। এমনকী, দু’জনের কথা কাটাকাটি, হাতাহাতি হওয়াও অসম্ভব ছিল না বলে মনে করছেন অনেকে।

ওই তরুণী এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তবে মানবাধিকার কর্মী তথা এপিডিআর-এর বনগাঁ শাখার সম্পাদক অজয় মজুমদার বলেন, ৩০ মিনিটের যাত্রাপথে তরুণীর উপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ পড়ার কথা। অসুস্থও হয়ে পড়তে পারতেন।

পুলিশ অবশ্য এসব আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের যুক্তি, গাড়িতে যেহেতু অন্য পুলিশ কর্মী ছিলেন, সে ক্ষেত্রে গোলমালের আশঙ্কা ছিল না। তাদের বক্তব্য, থানার এত বড় পরিকাঠামো নেই যে আলাদা গাড়িতে করে সব সময়ে দু’জনকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে। -একে

ধর্ষণ
apps