• রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

ছেলেরা কোনভাবেই নিজেদের দায়ী ভাববে না: নিহত ডুবুরির স্ত্রী

প্রকাশ:  ১২ জুলাই ২০১৮, ১৬:২৭ | আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৮, ১৬:৩৯
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

সারাবিশ্ব যখন থাইল্যান্ডের গুহায় আটকে পড়া শিশুদের উদ্ধার হওয়া নিয়ে আনন্দের উদ্ভাসিত, তখন সেই উদ্ধার অভিযানে প্রাণ হারানো ডুবুরির সামারান কুনানের জন্য কাঁদছেন তার স্ত্রী।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করা এক ছবির ক্যাপশনে নিহত ডুবুরির স্ত্রী জানিয়েছেন, স্বামী ছিলেন তার পরম ভালোবাসার মানুষ। তাকে হারিয়ে শূন্যতা অনুভব করছেন। তবে এ ঘটনার জন্য গুহা থেকে উদ্ধার হওয়া কিশোর ফুটবল দলের সদস্যদের দোষারোপ করেনি তিনি।

তার স্ত্রী ভ্যালিপোয়ান ইন্সটাগ্রামে স্বামীর একটি সাদাকালো ছবি পোস্ট করে এর ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি’। ‘তোমার শূন্যতা অনুভব করছি। সমস্ত হৃদয় দিয়ে তোমাকে ভালোবাসি’। এখন থেকে ঘুম থেকে জাগার পর আমি কাকে আলিঙ্গন করব?’ তবে ভ্যালিপোয়ান শিশুদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘শোন ছেলেরা, কোনভাবেই নিজেদের দায়ী ভাববে না তোমরা’।

তার এই ইন্সটাগ্রামের পোস্টটিতে সাড়া দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ নিহত ডুবুরির বিরোচিত ভূমিকা স্মরণ করে স্ত্রীর জন্য শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে বিশ্ববাসী। আবার ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম গুহায় বৃষ্টি সত্ত্বেও প্রবেশের কারণে অনেকেই কিশোর ফুটবল দলটিকে দুষেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন ফুটবল অনুশীলন শেষে ২৫ বছর বয়সী কোচসহ ওই ১২ কিশোর ফুটবলার থাম লুয়াং গুহাটির ভেতরে ঘুরতে গিয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে গুহার প্রবেশমুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আটকা পড়ে। টানা ৯ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ২ জুলাই গুহার ভেতরে জীবিত অবস্থায় ১২ কিশোর ফুটবলারসহ তাদের কোচকে শনাক্ত করেন ডুবুরিরা।

থাই নৌ বাহিনীর সাবেক সদস্য সামারান কুনান তাদের খোঁজে শুরু হওয়া অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ১ জুলাই। ৫ জুলাই (বৃহস্পতিবার) মধ্যরাতে অভিযান চলার সময় অক্সিজেন স্বল্পতায় পড়েন কুনান। নেভিসিল কমান্ডার জানান, আটকা পড়া শিশুদের বের করে আনতে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে গুহায় অক্সিজেনের ট্যাঙ্ক বসানো হচ্ছিলো। সেখানেই কাজ করছিলেন ৩৮ বছর বয়সী সামান কুনান। তবে অক্সিজেনের লাইন টানার সময় নিজেই অক্সিজেন স্বল্পতায় পড়ে অচেতন হয়ে পড়েন। শুক্রবারের প্রথম প্রহরেই তিনি মারা যান।

অভিযানের শেষ দিনে উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্বে থাকা চিয়াং রাই’র ভারপ্রাপ্ত গভর্নর নারোংসাক ওসোটানাকর্ন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সামারানের মৃত্যুর দিনে কিশোর ফুটবলারদের ওই পুরো দল শোকাহত ছিল। তবে সেই শোককে আমরা শক্তি বানিয়েছি। জীবন বাঁচাতেই তিনি জীবন দিয়েছেন। সামারান প্রকৃত বীর। বিশ্ব তাকে মনে রাখবে।’

/এসএফ

থাইল্যান্ডের গুহা,নিহত ডুবুরি