• সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮, ৮ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

রনির পক্ষে সেই কোচিং মালিকের ‘স্বীকারোক্তি’র ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশ:  ১১ জুলাই ২০১৮, ২৩:০০
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

তিন মাস আগে একটি কোচিং সেন্টারের মালিক মো. রাশেদ মিয়াকে চড়-থাপ্পড় মারার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সংগঠন থেকে অব্যাহতি নিয়েছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া চাঁদাবাজির মামলায় আসামি করা হয় রনিকে। তিন মাস পর এবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিও বার্তায় দেখা যাচ্ছে, রাশেদ নিজের মুখে স্বীকার করছেন যে, রনি তার ব্যবসায়িক পার্টনার ছিলেন। রনি তাকে সাড়ে ৯ লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন।

বুধবার (১১ জুলাই) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে নুরুল আজিম রনির ফেসবুক টাইমলাইনে আপলোড করা হয় এই ভিডিও। এতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তিন নম্বর পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কফিল উদ্দিনকেও রাশেদের সঙ্গে এই বিষয়ে সমঝোতামূলক কথা বলতে দেখা গেছে।

ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন:

ভিডিও-১

ভিডিও-২

ভিডিও-৩

তবে এই ভিডিও আপলোডের পর রাশেদ মিয়া দাবি করেছেন- রনির অনুসারীরা এক ছাত্রসহ তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে এই বক্তব্য প্রদানে বাধ্য করেছেন। এমনকি রনির বিরুদ্ধে তার দায়ের করা মামলাটি তুলে নেওয়ার হবে মর্মে তিনটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতেও বাধ্য করেছেন।

অন্যদিকে কাউন্সিলর কফিল উদ্দিন, রনি ও তার অনুসারীরা বলেছেন, রাশেদ স্বেচ্ছায় মামলা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তার উপর কেউ চাপ প্রয়োগ করেনি। রাশেদের ছাত্র নিজেও এই ‘জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার’ অভিযোগ সত্য নয় বলে জানিয়েছেন।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ইউনিএইড কোচিং সেন্টারের মালিক রাশেদ মিয়াকে নগরীর জিইসি মোড়ে তার অফিসে মারধরের একটি ভিডিও ১৯ এপ্রিল ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

তিন মাস পর রনির আপলোড করা ভিডিও বার্তায় রাশেদের সঙ্গে কথোপকথনে শোনা গেছে, রনি তার পার্টনার ছিল। রাশেদ রনির কাছ থেকে নগদ সাড়ে নয় লাখ টাকা নিয়েছিল। তবে সেই টাকা দিয়ে ব্যবসা করতে পারেননি রাশেদ। পরে রনি কিছু টাকা ফেরত চান। রাশেদ টাকা দিতে না পারলে পুরো টাকাই ফেরত চান রনি।

কাউন্সিলর কফিল উদ্দিনের বাসায়ও রাশেদের সঙ্গে রনির বিষয়ে কথোপকথনের ভিডিও পাওয়া গেছে রনির টাইমালাইনে।

জানতে চাইলে কাউন্সিলর কফিল উদ্দিন বলেন- রনির সঙ্গে মামলাসহ সামগ্রিক বিরোধ নিয়ে মধ্যস্থতার জন্য রাশেদ মিয়া নিজেই একজন বিশ্বস্ত কাউকে খুঁজছিলেন। শেষ পর্যন্ত উভয়পক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা আমার কাছে আসেন। আমি উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলি। রনির বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার এবং তার সাড়ে নয় লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে রাশেদ সম্মত হন। আমি উভয়পক্ষকে মিলিয়ে দিলে তারা খুশি হয়ে চলে যায়। তবে রনি আমার বাসায় আসেনি।

রাশেদ মিয়া বলেন, ‘আমি এবং আমার এক ছাত্রকে গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর বায়েজিদে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের সামনে থেকে রনির ৮ থেকে ১০ জন ছেলে চারটি মোটর সাইকেলে এসে তুলে নেয়। প্রথমে আমাদের মুরাদপুরে বাদশাহ কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখান থেকে পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কফিল উদ্দিনের বাসায় নিয়ে যায়। আমাকে চাপ প্রয়োগ করে ১০০ টাকার তিনটি স্ট্যাম্পে মামলা প্রত্যাহারের কথা লিখে দিতে বাধ্য করেন। এ সময় আমি ভয়ে কিছু কথা বলি, যেগুলো তারা ভিডিও করে ফেসবুকে প্রচার করছে।

রনির অনুসারী ছেলেদের মধ্যে চারজনকে চিনতে পারার কথা জানান রাশেদ মিয়া। এরা হলেন, নুরুন্নবী সাহেদ, সেলিম, খোরশেদ ও মামুন।

রাশেদের দাবি- রনি না থাকলেও অনুসারীরা কাউন্সিলরের বাসায় তার সঙ্গে রনির মোবাইল ফোনে কথা বলার ব্যবস্থা করে দেন। এ সময় রনি তাকে গালাগাল করে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেন।

নুরুল আজিম রনি মোবাইল ফোনে রাশেদের সঙ্গে কথা বলার সত্যতা স্বীকার করলেও কোনো ধরনের গালাগাল কিংবা হুমকি দেননি বলে জানিয়েছেন।

আর জোরপূর্বক তুলে নেওয়া, স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া এবং হুমকির অভিযোগ করলেও বুধবার রাত পর্যন্ত রাশেদ মিয়া এই ব্যাপারে কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেননি। এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যানে।

জানতে চাইলে রাশেদকে তুলে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত নূরুন্নবী সাহেদ বলেন, ‘রাশেদ মিয়া নিজেই আমাদের কাছে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি বলেছিলেন-রনি ভাইয়ের সঙ্গে তিনি আর কোন ঝামেলা চান না। তিনি নিজেই মামলা প্রত্যাহার করে নেবেন। সেই অনুযায়ী তিনি নিজেই আমাদের সঙ্গে প্রথমে বাদশাহ মিয়া কমিউনিটি সেন্টারে এবং পরে কাউন্সিলর কফিল ভাইয়ের বাসায় যান। তাকে তুলে নেওয়ার কথা ডাহা মিথ্যা।’

রাশেদের সঙ্গে যাওয়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের বিবিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র সোহান বলেন, ‘উনি (রাশেদ মিয়া) আমার শিক্ষক। আমার কাছে সম্মানিত। উনার বিষয়ে আমি কিছু বলব না। তবে এতটুকু বলতে পারি-আমি স্বেচ্ছায় গিয়েছিলাম। কেউ তুলে নিয়ে যায়নি।’

কাউন্সিলর কফিল উদ্দিন বলেন, ‘রাশেদ আমার বাসায় আসার পর আমি তাকে একান্তে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে তাকে কেউ তুলে এনেছে কি-না ? তাকে অভয় দিয়েছিলাম। সে বলেছে-স্বেচ্ছায় এসেছে। আর আমার বাসায় বসে তার কাছ থেকে জোর করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার মানুষ আমি কফিল উদ্দিন না।’

নূরুল আজিম রনি বলেন, রাশেদ আমার কয়েকজন ঘনিষ্ঠজনকে ফোন করে মামলা তুলে নেবেন বলেছিলেন। সেই ঘনিষ্ঠজনেরাই তাকে তার পছন্দ অনুযায়ী কাউন্সিলর কফিল ভাইয়ের বাসায় নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে যাবার পর আমি বিষয়টি জানতে পারি। সেখান থেকে ফোনে রাশেদ আমাকে নিজেও বলেছেন যে তিনি বিরোধের অবসান চান এবং মামলা প্রত্যাহার করতে চান। এখন আরেক ধরনের কথা বলছেন সম্ভবত যারা তাকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করতে বাধ্য করেছিলেন তাদের ভয়ে। সূত্রঃ সারাবাংলা

নুরুল আজিম রনি