• রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট

অযোগ্যদের পদোন্নতির সুপারিশ

সুপারিশকৃতদের মেয়াদ পূর্ণ হয়নি, নেই কোনো প্রকাশনা * মন্ত্রণালয়-অধিদফতরে অভিযোগ

প্রকাশ:  ২৫ জুন ২০১৮, ০৯:৫৬
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

মা ও শিশুদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে রাজধানীর উপকণ্ঠ মাতুয়াইলে ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট (আইসিএমএইচ)। পরিচালনার সুবিধার্থে ২০০২ সালে এটিকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা হয়।

ইতিপূর্বে এ হাসপাতালের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও সম্প্রতি চিকিৎসকদের পদোন্নতি প্রদানে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও পদোন্নতির সুপারিশবঞ্চিত চিকিৎসকরা এসব অভিযোগ করেছেন। খবর যুগান্তরের।

পূর্বপশ্চিম বিশ্বকাপ কুইজে অংশ নিতে ক্লিক করুন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক সম্প্রতি সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপক পদে নয়জন চিকিৎসককে পদোন্নতির সুপারিশ করেছেন। অথচ প্রতিষ্ঠানের নিয়মানুযায়ী তারা পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেননি।

এ নিয়ে পদোন্নতি প্রদান কমিটির মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। তবে এর মধ্যেই আজ প্রতিষ্ঠানটির বোর্ড অব গভর্নসের সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন বিভাগের যেসব চিকিৎসকের নাম পদোন্নতির তালিকায় নেই তারা ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব (স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ), সচিব (চিকিৎসা শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা), মহাপরিচালক স্বাস্থ্য অধিদফতর, মহাপরিচালক পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর, সভাপতি বিএমডিসিসহ বোর্ড অব গভর্নসের সদস্যদের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগের কপি যুগান্তরের কাছে রয়েছে। বোর্ড অব গভর্নসের সদস্যদের কাছে অভিযোগগুলো করেছেন ‘গাইনি ও অবস’ এবং ‘এনেসথেশিওলজি’ বিভাগের চিকিৎসকরা।

অভিযোগপত্রে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট পকল্প হিসেবে শুরু হয়ে ১৯৯৮ সালে শেষ হয়। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠানটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়।

শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটে চাকরি নিয়োগ ও পদোন্নতির জন্য ২০১২ সালে গেজেট প্রকাশিত হয়। বর্তমানে প্রকল্পভুক্ত ২৪২ জন জনবল অস্থায়ী রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত করা হয়- যার জিও হয় ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ।

পদায়নকৃত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উন্নয়ন প্রকল্প থেকে অস্থায়ীভাবে রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরিত পদের বিপরীতে কর্মরত পদধারীদের ‘জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ বিধিমালা ২০০৫’ অনুসরণপূর্বক নিয়মিতকরণের ব্যবস্থা গ্রহণের শর্ত দেয়া হয়।

কিন্তু বর্তমান নির্বাহী পরিচালক সেই শর্ত পূরণ না করে চাকরি নিয়মিতকরণ, জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ ও পদ বণ্টন না করেই নিজের পচ্ছন্দমতো ডাক্তারদের পদোন্নতি সুপারিশমালা তৈরি করেছেন। যদিও পদোন্নতি কমিটির সবাই এতে একমত নন।

এতে করে যেসব ডাক্তার ১৪-১৫ বছর ধরে কাজ করছেন, কিন্তু পদোন্নতি হয়নি তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। ওই অভিযোগগুলোর মধ্যে পদোন্নতির জন্য সুপারিশকৃতদের নাম, কর্মকাল ইত্যাদি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ আছে।

সেখানে দেখা যায়, পদোন্নতির জন্য সুপারিশকৃতদের প্রতিষ্ঠানের শর্ত অনুযায়ী মেয়াদ পূরণে এখনও এক থেকে দু’বছর বাকি রয়েছে। কারও চাকরি নিয়মিত হয়নি। এমনকি নেই প্রকাশনা।

জানতে চাইলে বোর্ড অব গভর্নসের সভাপতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের একান্ত সচিব (যুগ্ম-সচিব) খাজা আবদুল হান্নান বলেন, ‘অভিযোগপত্র পেয়েছি। কয়েক পাতার অভিযোগপত্রে অনেক বিষয় লেখা রয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে বোর্ড অব গভর্নসের সদস্য এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খান বলেন, ‘প্রতিদিন ডাক ফাইলে অনেক চিঠি আসে। তবে সব চিঠি পড়ে দেখা হয় না। হয়তো তার একান্ত সচিবের কাছে চিঠি রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় স্বাস্থ্য সেবাসংক্রান্ত কোনো প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম হতে দেয়া হবে না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইসিএমএইচ’র কয়েকজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক বলেন, নিয়মানুযায়ী সব বিভাগীয় প্রধানদের সমন্বয়ে পদোন্নতি কমিটি করা হয়ে থাকে। জ্যেষ্ঠতা, উচ্চতর ডিগ্রি এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কমিটি পদোন্নতি প্রদানের সুপারিশ করে থাকে। কিন্তু পদোন্নতির জন্য যাদের নামে প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক সুপারিশ করেছেন তাদের কারোরই প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নেই। প্রাথমিকভাবে নিুতম পদে যে নির্ধারিত সময় তা অতিবাহিত হওয়া উচিত তাও হয়নি। এক্ষেত্রে অনেকেরই দু’বছর বা তিন বছর বাকি রয়েছে। এছাড়া সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য কমপক্ষে তিনটি প্রকাশনা থাকার বাধ্যকতা থাকলেও তাও কারও নেই।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব অসঙ্গতির কারণে পদোন্নতি কমিটির চার সদস্যের ঐকমত্য হয়নি। আইসিএমএইচ’র একজন বিভাগীয় প্রধান এবং পদোন্নতি কমিটির সদস্য এ অনিয়মের প্রতিবাদ জানান এবং তিনি সুপারিশ করা থেকে বিরত থাকেন। এসব বিষয়ে জানতে আইসিএমএইচ’র নির্বাহী পরিচালক ডা. এমএ মান্নানের মোবাইল ফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

/এসএম

পদোন্নতি,স্বাস্থ্য