• বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮, ৯ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি খালেদা জিয়া

প্রকাশ:  ১৪ জুন ২০১৮, ১২:২৩
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসার ব্যাপারে কারা কর্তৃপক্ষের প্রদত্ত প্রস্তাবের ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত জানাননি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিলে দ্রুতই তাকে সিএমএইচে নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার আবারও সিএমএইচে চিকিৎসা নেওয়া বা না নেওয়ার ব্যাপারে তার মত জানতে চাইবে কারা কর্তৃপক্ষ। এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসার প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি রাজি হননি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বুধবার এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়া সম্মতি জানালেই কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া অপশনগুলোতে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। আশা করা হচ্ছে, যে কোনো সময় তিনি সম্মতি দেবেন।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে গুরুতর অসুস্থ দাবি করে তার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তাকে চিকিৎসা করানোর কথা বলা হচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপারসন নিজেও একই মত দিয়েছেন কারা কর্তৃপক্ষের কাছে।

মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বলেছেন, প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার খরচ তারা বহন করবেন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কারাবিধি অনুযায়ী তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোর জন্য তার পরিবারের দেওয়া আবেদন অযৌক্তিক।

কারা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউতে চিকিৎসা নিতে আপত্তি করায় তাকে বিকল্প হিসেবে সিএমএইচের কথা জানানো হয়। তবে তিনি সে বিষয়ে এখনও কোনো মত দেননি।

বুধবার দুপুরে তেজগাঁও সরকারি বিজ্ঞান কলেজের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, 'খালেদা জিয়াকে যারা চিকিৎসা দেন, সেই চার বিশেষজ্ঞকে দিয়েই তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। পাশাপাশি সিভিল সার্জন ও কারাগারের চিকিৎসক সবাই ছিলেন।

তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পুনরায় তার পরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি সম্মতি দিলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।' এর আগে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, 'বেসরকারি হাসপাতালের চেয়ে বিএসএমএমইউ ও সিএমএইচ অনেক সমৃদ্ধ। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও রয়েছেন। সেই বিবেচনায় সিএমএইচের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।'

খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, গত ৫ জুন তার বড় বোনের 'মাইল্ড স্ট্রোক' হয়, যা ভবিষ্যতের জন্য বড় ঝুঁকির পূর্বাভাস বহন করছে। তবে কারা অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তার দাবি, খালেদা জিয়ার মাইল্ড স্ট্রোক করা বা অচেতন হয়ে পড়ার খবর সঠিক নয়। তেমন পরিস্থিতি হলে তাকে তখনই হাসপাতালে নেওয়া হতো।

এদিকে ঈদের দিন খালেদা জিয়া কারাগারে থাকলে তাকে পছন্দসই খাবার সরবরাহের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্বজনরা খাবার নিয়ে গেলে সেগুলোও দেওয়া হবে তাকে। দুর্নীতির মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদে দণ্ডিত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এর পরপরই তাকে নাজিমুদ্দীন রোডের পুরান কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।