• বৃহস্পতিবার, ২১ জুন ২০১৮, ৭ আষাঢ় ১৪২৫
  • ||
শিরোনাম

প্রেমিককে কারাগারে হেরোইন দিতে গিয়ে ধরা!

প্রকাশ:  ১৪ জুন ২০১৮, ০০:১১
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
হিরোইন আসক্ত প্রেমিক রয়েছেন কারাগারে। আর কারাগারের বাইরে তার হয়েই সাম্রাজ্য সামলাচ্ছেন প্রেমিকা! চাঁদাবাজি থেকে বাইক চুরি, ডাকাতি থেকে খুনের সুপারি, সবই একা হাতে নিয়ন্ত্রণ করতেন ভারতের মধ্যমগ্রামের আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ওই ছাত্রী!
 
কারাগারের ভেতরে থাকা চিহ্নিত অপরাধীকে হেরোইন দিতে গিয়েই মঙ্গলবার ধরা পড়ে যান ২১ বছর বয়সী ওই তরুণী।
 
সুস্মিতা মালাকার নামে ওই তরুণীকে আটক করার পর পুলিশ প্রথমে তাকে ‘চুনোপুঁটি’ বলেই মনে করেছিল। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আপাত নিরীহ ওই কলেজছাত্রী বকলম একটা গ্যাং-এর নেত্রী!
 
কারাগারে বসে থাকা অপরাধী, যে আসলে ওই তরুণীর প্রেমিক, তারই নির্দেশে চলত চাঁদাবাজি, ডাকাতি বা খুনের মতো অপরাধ। আর গোটা চক্রটাই একা হাতে সামলাতেন সুস্মিতা!
 
মঙ্গলবার বিকেলে দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে যান সুস্মিতা। কারারক্ষীদের তিনি জানিয়েছিলেন, বিচারাধীন বন্দি ভগীরথ সরকারের সঙ্গে দেখা করতে চান। নিজেকে ভগীরথের আত্মীয় বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।
 
নিরাপত্তারক্ষীদের দাবি, তল্লাশি চালানোর সময় একটি পাউডারের কৌটা পাওয়া যায় ওই তরুণীর কাছে। সেই কৌটার ভেতরে ছিল হেরোইন। সঙ্গে সঙ্গেই তাকে আটক করা হয়। এর পরেই শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। খবর পাঠানো হয় দমদম থানায়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ওই তরুণীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
 
পুলিশ জানিয়েছে, সুস্মিতার বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের ন’পাড়ার নেতাজি পল্লীতে। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে সংস্কৃত বিষয়ে পড়াশোনা করছেন তিনি।
 
থানায় নিয়ে গিয়ে সুস্মিতাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ জানতে পারে, উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা এলাকার কুখ্যাত অপরাধী ভগীরথের হয়েই তার গ্যাং চালাচ্ছে সুস্মিতা।
 
ভগীরথের বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে ছয়টি মামলা ঝুলছে। চাঁদাবাজি-ডাকাতি-খুনের জন্য নিয়মিত কারাগারেও থেকেছে সে। বীজপুরে একটি ডাকাতির ঘটনায় মাস কয়েক ধরেই দমদম জেলে বিচারাধীন হিসাবে বন্দি রয়েছে ভগীরথ। প্রতি সপ্তাহে দু’বার করে জেলে ভগীরথের সঙ্গে দেখা করতে আসতেন সুস্মিতা। এই দেখা করার নাম করেই ভগীরথকে জেলের ভেতরে হেরোইন পৌঁছে দিতেন সুস্মিতা।